তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদনকে ঘিরে পদবঞ্চিতরা দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ইট-পাটকেল ছুড়ে, টায়ার জ্বালিয়ে তারা বিক্ষোভ করে। এ সময় পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সড়কটি গাড়িশূন্য হয়ে পড়ে। পরে চট্টগ্রাম কলেজ ও পাশ্ববর্তি মহসীন কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কলেজ ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, যুগের পর যুগ ছাত্রশিবিরের দুর্গ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে ইস্যু করে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের ২৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে মহানগর ছাত্রলীগ। এতে মাহমুদুল করিমকে সভাপতি ও সুভাষ মল্লিক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি অনুমোদন দেয় নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হাসান ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দস্তগীর চৌধুরী।

এ কমিটিকে শিবির ছাত্রদলের কমিটি আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাত থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় ছাত্রলীগের একাংশ নেতাকর্মীদের। পরে আজ সকালে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের ডাক দেয় তারা। সকাল থেকে কলেজ গেইটে রাস্তার ওপর অবস্থান নিয়ে সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভকারীরা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় ঘোষিত নতুন কমিটির নেতারা।

প্রতক্ষ্যদশীরা জানায়, সকাল ১১ টার দিকে পদবঞ্চিতরা কলেজের সামনের বাঁশ দিয়ে সড়ক অবরোধ করে এবং বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় তাদের সাথে যোগ দেয় কমিটিতে পদ পাওয়া বেশ কয়েকজন নেতাও। এসময় বাইরে থেকে একটি গ্রুপ কলেজের ভিতরে প্রবেশ করলে দুটি পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়া-পাল্টা শুরু হয়। পরে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, সকলের মতামতের ভিক্তিতে চট্টগ্রাম কলেজে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে শিবির ছাত্রদলের কেউ নেই। ক্যাম্পাসে যাদের অবস্থান ভালো তাদেরকে আমরা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেছি।

চকবাজার থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের বিরোধ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। এক পক্ষ সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেছিল। পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দিয়েছে।

উল্লেখ্য এক সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুর্গ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম কলেজ ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর পর থেকে প্রতিনিয়ত ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপ নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ চালিয়ে আসছে।###

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •