উসমান গণি ইলি:
পর্যটকদের ঈদ আনন্দ যেন শেষ হচ্ছে না এই ঈদে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢল নেমেছে। দীর্ঘদিন পর প্রভাব পড়েছে হোটেল-মোটেল গুলোতেও।
কোন হোটেলের কক্ষ খালি নেই।কক্সবাজার অবস্থিত হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজগুলোতে ভিড় লেগে রয়েছে।
সমুদ্র সৈকত, বিপনী কেন্দ্র ও রাস্তাঘাটে প্রচুর জ্যাম। সঙ্কট যানবাহনে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ব্যবসায়ীদের যেন দম ফেরার ফুসরত নেই।
কক্সবাজার কলাতলী থেকে উখিয়ার মনখালী পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হওয়ার সুবাধে পর্যটকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ইনানীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দেখে মুগ্ধ ব্যবসায়ী রমজান আলী, তার সহকর্মী, সুমন, রমিজ রাজা।
একদিকে সাগরের গর্জন অপরদিকে অনাবিল সৌন্দর্য্য ভরপুর পাহাড়ের হাতছানি সবাইকে বিমোহিত করে তোলে।
ইনানী, পাটুয়ারটেকের সামান্য অদূরেই রয়েছে প্রাচীনকালের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন কানা রাজার সুড়ঙ্গ।
চিংড়ির পোনার হ্যাচারি জোন ও সুপারির বাগান ঘুরে দেখলে যেন পথের সময় হারিয়ে যায়। শত শত পর্যটক বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কক্সবাজার থেকে ইনানী ভ্রমণে যাচ্ছেন। পথে বড়ছড়া পাহাড়ি ঝর্ণা ও পাহাড় চুড়ার বিনোদন কেন্দ্রগুলোও ঢু মারছেন অনেকেই। এছাড়া সাগরের পাশে রয়েছে, বিস্তীর্ণ ঝাউবিথি। এখানে নানা প্রকার পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠে সৈকত অঙ্গন। বিস্তীর্ণ সৈকতের বালুচরে লাল কাকড়ার দৌঁড়াদৌঁড়ি পর্যটকদের বিশেষ আনন্দ দিয়ে থাকে।
এবারের ঈদুল আযহার ছুটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বিদেশিরাও এবার দলে দলে বেড়াতে এসেছেন বিশ্বের বৃহত্তর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেলেও অনেকে আরো দু একদিন থাকার কথা জানিয়েছেন। ঈদের দিন থেকে পাঁচদিন পর্যন্ত কোনো হোটেলের কক্ষ খালি নেই বলে জানিয়েছেন, লং বীচ হোটেলের ম্যানেজার দিদারুল আলম। এসব পর্যটকের আনাগোনায় ইনানী সৈকত ছাড়াও হিমছড়ির ঝর্ণা, দরিয়ানগরসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতেও দেখা দিয়েছে দারুণ প্রাণ চাঞ্চল্য।
।ঢাকার ফরিদপুরের প্রবাসী আমানুল্লাহ জানান, সকালে কক্সবাজার পৌঁছে। এরপর হিমছড়ির ঝর্ণাসহ পর্যটন স্পট দেখেছে। উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকতে ঘুরে এসছেন। এই বিশ্বের নজরলাগা সমুদ্র সৈকতে এসে প্রণ জুড়িয়েছে বলে প্রতিবেদকে জানান।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ব্যবসায়ী আজমগীর বলেন, ঈদের দিন থেকে চার দিন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় ছিল বেশি। এখন কক্সবাজারের স্থানীয়রা তাদের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসছেন।

কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির হিসাব মতে ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষ্যে কক্সবাজারে ৪ লাখের বেশি পর্যটন এসেছে। ইতি মধ্যে বেশির ভাগ হোটেল মোটেল ভাল ব্যবসা করছে। আর কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের প্রধান আকর্ষন সমুদ্র সৈকত আর সমুদ্রের পানিতে একটু গা না ভেজালে অপূর্ণতাই থেকে যায় সব কিছু, তাই বেশির ভাগ পর্যটক সাগরে গোসল করাটাকে সবচেয়ে বেশি প্রধ্যান্য দেয়। তবে সাগরে গোসল করতে গিয়ে বেশির ভাগ পর্যটন নিয়ম না জেনে বা বাড়তি উচ্ছাসের কারনে জীবনের ঝুকিতে পড়ে যায়।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের ট্যূরিষ্ট পুলিশ সুপার মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটকরা মনে করে সাগরের উপরে যেমন সমতল তেমনি পানির নীচেও সমতম। আসলে পানির নীচে অনেক সময় গর্ত থাকতে পারে বা অন্য কিছু হতে পারে। তাছাড়া নিজের শরিরের ভারসাম্য রক্ষা করে পানিতে নামা উচিত। তবে নির্দিষ্ট জোন এবং নিময় না মানার কারনে দূর্ঘটনা বেশি ঘটছে,গত দুই দিনে ২ জন পর্যটককে সাগরের পানি থেকে মূমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এর মধ্যে একজন শিশু। আর নিময় মেনে গোসল করলে অবশ্যই বেশ কিছু অনাকাংখিত বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তিনি বলেন ট্যূরিষ্ট পুলিশের প্রায় ৭৫ জন সদস্য দিন রাত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সহ সার্বক্ষনিক পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •