মোঃ ফারুক,পেকুয়া :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বহু হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামী বনের রাজা খ্যাত ডাকাত জাহাঙ্গীর আলম ও মগনামার আলোচিত আয়েশা বেগমকে ধর্ষণ পরবর্তি হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী ওমর ফারুকসহ তার সহযোগি ইলিয়াছকে গ্রেফতারের ঘটনায় স্বস্তি দেখা দিয়েছে এলাকায়। এমনকি বিভিন্ন গ্রামে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা দিকে চট্টগ্রামের ফকিরাবাদ এলাকা থেকে র‍্যাবের একটি দল অস্ত্রসহ জাহাঙ্গীরকে, বুধবার রাতে ওমর ফারুকে সিলেট এলাকার ফুলবাড়ির একটি বেকারি থেকে ও তার সহযোগি ইলিয়াছকে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সিআইডি কক্সবাজার গ্রেফতার করেন।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কিশোরী সালমা হত্যা, ব্যবসায়ী নেজাম উদ্দিন হত্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আনছারকে হত্যা চেষ্টা, ধর্ষণ চেষ্টা, নিরীহ লোকদের উপর হামলা, বসতবাড়ি ভাংচুর ও জবর দখল, বন মামলাসহ ৪০ টির অধিক মামলা রয়েছে।

এছাড়া সদ্য সিআইডি হাতে গ্রেফতার হওয়া ওমর ফারুক ও তার সহযোগির ইলিয়াছের বিরুদ্ধে মগনামা ইউনিয়নের মিয়াজি পাড়ার জামাল উদ্দিনের কিশোরী মেয়ে মাদ্রাসা ছাত্রী আয়েশা বেগমকে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

জাহাঙ্গীরের হাতে নির্যাতনের শিকার রহিমদাদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, পেকুয়া থানা পুলিশ জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করতে না পারলেও র‍্যাব-৭ একটি টিম তাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করায় আমরা অনেক খুুশি। তার কাছে অনেক অস্ত্র রয়েছে। এগুলো উদ্ধার করলে পাহাড়ি এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।

তার হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আনছারের ভাই সাকিবুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি এলাকায় অপরাধের রাজা ছিল জাহাঙ্গীর। ওয়ার্ড আ’লীগের পদটি ভাগিয়ে নেয়ার পর এমন কোন অপরাধ নাই তিনি করেননি। এমনকি হত্যা করা তার জন্য ছিল নিছক ব্যাপার। আমার ভাইকে অল্পের জন্য মত্যু থেকে রক্ষা পেলেও এখনো পঙ্গুত্ব হয়ে বসবাস করছেন। আমরা ভুক্তভোগীরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছি।

মগনামায় নিহত আয়েশার পিতা জামাল উদ্দিন প্রধান আসামী গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৯ সালে আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় মনটা অনেক খারাপ ছিল। মামলাটি সিআইডিতে যাওয়ার গুরুত্বসহকারে তদন্ত করেন কর্মকর্তারা। এছাড়াও দিনরাত পরিশ্রম করেন আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ সিলেট ও পেকুয়া থেকে দুই আসামীকে গ্রেফতার করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি একই সাথে দ্রুত বিচার শেষ করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছি।

এদিকে তাদের গ্রেফতারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া দিয়ে মন্তব্য জানাচ্ছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা। শীর্ষ অপরাধীদের গ্রেফতারে র‍্যাব ও সিআইডি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানালেও স্থানীয় থানা প্রশাসনের ব্যর্থতায় দিনদিন অপরাধ কর্ম বেড়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অনেকে। এছাড়াও ফরহাদ হত্যা, সেলিনা হত্যা, হাশেম হত্যা, প্রবাসী নুরুননবী হত্যা, জয়নাল হত্যা, উকিল আহমদ হত্যাসহ আরো বহু অপরাধে জড়িত শীর্ষ অপরাধীদের কাছে রয়েছে অহরহ অস্ত্র। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া চললেও পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থতার পরিচয় দেয় এমন দাবী এলাকাবাসীর।

এছাড়াও শীর্ষ সন্ত্রাসী টৈটং ঝুমপাড়া এলাকার আবদুল হামিদ, বাঁশখালী পুঁইছড়ি এলাকার বাসিন্দা টৈটংয়ের পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনাকারী পুইন্যা, পেন্ডার পাড়ার মওলা (বর্তমানে জেলে) চেপ্টামোড়ার চম্প্যাইয়্যা, খুনিয়াভিটার খোকন (বর্তমানে জেলে), রমিজ পাড়ার সাকের, রাজাখালীর লালজান পাড়ার জকির আলম প্রকাশ ডাকাত জইক্যা, টেকঘোনা পাড়ার নেজাম উদ্দিন, বদিউদ্দিন পাড়ার সুজাঙ্গীর ও এনাম, মগনামার শীর্ষ সন্ত্রাসী আফজালিয়া পাড়ার আবু ছৈয়দ ও নেজাম উদ্দিন ছোটন, বারবাকিয়া পাহাড়িখালী এলাকার গিয়াস উদ্দিন, নেজাম, ছাবের ও বেলাল, বুধামাঝির ঘোনার মামুন, মানিক, রেজাউল করিম, রেজাউল আজিম, কাদিমা কাটার আরিফ, সাদ্দাম, এনাম, পেকুয়া সদর আবদুল হামিদ সিকদার পাড়ার ছালেহ জঙ্গি, বাইম্যাখালীর তোফাইল, বটতলিয়া পাড়ার সালাউদ্দিন, সাদ্দাম, সিরাদিয়ার কাইছার, লালা, সাগর পাড়ার সরওয়ার, মিয়া পাড়ার লেদা, লিটন, উজানটিয়া ইউনিয়নের মধ্যম উজানটিয়ার আবদুল গণি, পশ্চিম উজানটিয়ার জসিম উদ্দিন প্রকাশ লাদেন জসিম, মালেক পাড়ার আবু সুফিয়ান ও অলী জুমলাত, শিলখালীর প্রবাসী নুরুননবী হত্যা মামলার পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন অপরাধী অস্ত্র বেচাকেনা ছাড়াও দখল বেদখল, মাদক বিকিকিনিতে জড়িত। তারাই কোন না কোন সময় হত্যা, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই ও ইয়াবা বিক্রিতে জড়িত। তাদের নামে রয়েছে অহরহ মামলা। পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে তারা অপরাধ সংঘটিত করে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটাচ্ছে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতারে দাবী জানানোর পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।