ইমাম খাইর, সিবিএন
যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদি ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর বাড়িতে (মুক্তিযোদ্ধা কুটির) হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার মাসে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর খুবই দুঃখজনক। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অবিলম্বে এই হামলার পিছনে কারা জড়িত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনুন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকালে চকরিয়ার মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর বাসভবন পরিদর্শনকালে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, আওয়ামী লীগের নেতা ওয়ালিদ মিল্টনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিকলঘাট এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কুটিরে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তা ও ছয়জন কনষ্টেবলসহ ১০জন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর স্ত্রী ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নেচারা বেগম বলেন, চকরিয়া থানার একদল পুলিশ আমাদের বাড়ির (মুক্তিযোদ্ধা কুটির) প্রধান ফটকের গেইট বন্ধ করে দিয়ে বাড়ির ঢুকে তল্লাসীর নামে ঘন্টাব্যাপী ব্যাপক ভাঙচুর ও তান্ডব চালায়। এ সময় উৎশৃঙ্খল পুলিশ দলের সদস্যরা অশ্লিল ভাষায় গালিগালজ করে বাড়ির দেয়ালে টাঙ্গানো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নামিয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধার কুটিরের ছয়টি কক্ষের জানালা ও আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে।
নেচারা বেগম আরও বলেন, তল্লাসীর নামে পুলিশ সদস্যরা বাড়ির আলমিরা ভেঙ্গে ২০ ভরি ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ চার লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আমাকে, আমার ছেলে মুরাদুল ইসলাম সিফাকে ও আমার ছেলেদের স্ত্রী যথাক্রমে শাহনা আক্তার শানু ফরিদা ইয়াসমিন, ফাতেমা ইয়াসমিন, সাবাহ নুর তাবাহ, নাতী নাতি স্কুলছাত্র আনোয়ারুল মোস্তাফিজ শিহাব ও নাতনী আর্শেনুল করিম সুহাকে পিটিয়ে আহত করে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ছেলে মুরাদুল করিম সিফাতকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দিনদুপুরে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে পুলিশের এ হামলা বর্বোরিচিত ও ন্যাকারজনক। ১৯৭১ সালের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনকেও হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর ছেলে এম কে মোহাম্মদ মিরাজ বলেন, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান, এস আই তুষ্ট লাল বিশ্বাস ও এএসআই জেট রহমানের নেতৃত্বে ২৫-৩০জন পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে আমাদের বাড়িতে ঢুকে ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালায়। এসময় পুলিশ আমার সদ্য বিবাহিত ছোটভাই মুরাদুল করিম সিফাতকে তার স্ত্রীর সামনে বেধড়ক পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। নারকীয় ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।