এ কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া: 

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহতদের নাম পরিচয় জানা গেছে। শনিবার (০৮ র্ফেরুয়ারি) সকালে চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ নিহত চার জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এরআগে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফেনী থেকে কক্সবাজার অভিমুখি স্টার লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহি বাস চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলা বরইতলী ইউনিয়নে বানিয়ারছড়া শিয়া এলাকায় পৌছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এসময় বাসের ৪জন যাত্রী নিহত ও আরো অন্তত ২০ যাত্রী কমবেশি আহত হয়। তাদেরকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চকরিয়া জমজম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার নুরুল আবছারের ছেলে সাজেদ উল্লাহ (২৬), নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার পশ্চিম সোনাদিয়া চৌরাস্তা বাজার আজহার মাষ্টার বাড়ির মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ঝর্ণা বেগম (৩৫), একই জেলার সোনাইমুড়ি থানার অম্বর নগর এলাকার মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে আবু সুফিয়ান (৩৮) ও বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়্যাপুর এলাকার মো. জাকির হোসেনের ছেলে মনিরুজ্জমান (২৮)। শনিবার (০৮ র্ফেরুয়ারি) সকালে লাশ সনাক্তের পর চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ নিহত চার জনের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

এছাড়া আহতরা হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার মৃত আব্দুস শুক্কুরের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩২), ফেনী জেলার লক্ষীপুর এলাকার সৈয়দ সানাউল্লাহ’র ছেলে তানভীর (২৬), নোয়াখালী জেলার হাতিয়া এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের ছেলে আমির হোসেন (২৯), কক্সবাজার পৌরসভার ঝাউতলা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে ছিদ্দিক আহামদ (২১) ও শিশুকন্যা সুমাইয়্যা আক্তার (৯), নোয়াখালী জেলার দক্ষিণ হাতিয়া এলাকার ছিদ্দিক আহামদের মেয়ে সুমি আক্তার (১৮), চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্যারটেক এলঅকার মৃত আবুল বশরের ছেলে আবদুল করিম (৪৮), ময়মনসিংহ সদর এলাকার লুৎফুর রহমানের মেয়ে কাউসার জন্নাত (২০), চট্টগ্রামের লক্ষীপুর উপজেলার নুরুল ইসলামের ছেলে সেজায়েত উল্লাহ (৫০), চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আব্দুল মতলবের ছেলে মো. জহির (৩০), বরিশালের ভোলা লালমোহন এলাকার মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে ফিরোজ আহামদ (৫০), চট্টগ্রামের ফেনী এলাকার সোলতান আহামদের ছেলে জাহাঙ্গীর আহমদ (৪০), চট্টগ্রামের নোয়াখালী উপজেলার মহসিন উদ্দিন (৬০) ও কুমিল্লা এলাকার নুরুল হকের ছেলে শাহাদত হোসেন (২৬)। তাদেরকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চকরিয়া জমজম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দূর্ঘটনা কবলিত স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রী আহত মো. তানভীর বলেন, শুক্রবার বিকাল ৪টার গাড়িতে করে তিনি ফেনী থেকে নিজ কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়াস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরছিলেন। গাড়িটি ২৮জন যাত্রীনিয়ে ফেনী থেকে বিকাল ৪টায় রওয়ানা দেয়ার পর রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম পৌঁছে। সেখানে কয়েকজন যাত্রীকে নামিয়ে দিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় গাড়িটি। মো. তানভীর আরও বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে বাসটি ছাড়ার পর বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন স্টার লাইন পরিবহনের ড্রাইভার। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বেপরোয়া গতির গাড়িটি চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলা বরইতলী ইউনিয়নে বানিয়ারছড়া শিয়া এলাকায় পৌঁছলে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই বাসের ৪জন যাত্রী নিহত ও অন্তত যাত্রী কমবেশি আহত হয়।

চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. সাইফুল হাসান বলেন, দূর্ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনীর লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এসময় বাসের ভেতর থেকে একজন যাত্রী ও বাসের নীচে চাপাপড়া অবস্থা থেকে আরো তিন জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় আহত অন্যান্য যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রæত হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় বলেও জানান তিনি।

চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. আনিসুর রহমান বলেন, দূর্ঘটনার পরপরই চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ, চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ও হারবাং ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ ও নিহতদের উদ্ধার করে চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ৪জন যাত্রীর নাম পরিচয় প্রথমে জানা না গেলেও পরে জানা গেছে। শনিবার সকালে লাশ সনাক্তের পর নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে মানবিকদিক বিবেচনা করে এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ময়না তদন্ত ছাড়াই তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দূর্ঘটনা কবলিত বাসটি জব্দ করে ফাড়িতে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।