আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় সরকারি বাহিনীর হামলায় ৯ শিশুসহ অন্তত ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। রাশিয়ার সমর্থনে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী নিয়মিতই এমন হামলা চালাচ্ছে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী দাতব্য সংস্থার বরাতে এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।

দ্য সিরিয়ান ডিফেন্স মূলত হোয়াইট হেলমেট নামে পরিচিত একটি দাতব্য সংস্থা বলছে, মঙ্গলবার ইদলিব প্রদেশের মারেত আল নুমান জেলার ডজনখানেক ছোট শহর এবং গ্রাম লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। হামলার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে তুর্কি সীমান্তের কাছে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত শিবিরে পালাতে বাধ্য হয়।

হোয়াইট হেলমেটের মুখপাত্র আহমেদ শেইখো আলজাজিরাকে বলেন, সরকারি বাহিনীর হামলায় তাল মানিস শহরে ৯ জন, বিদামাতে ৬ জন এবং মাসারান শহরে আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আল কানায়েসে একজন এবং মার শামশাহতেও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

হোয়াইট হেলমেটের মুখপাত্র আরও জানান বিদামা শহরের হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের মধ্যে হোয়াইট হেলমেটের এক স্বেচ্ছাসেবীর স্ত্রী ও তিন সন্তানও রয়েছে। কালকের হামলায় আরও অনেকেই আহত হয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সেসব আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা দেয়ার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মাসরান শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে জরুরি সেবা প্রদানকারী দলের সদস্যরা দগ্ধ ব্যক্তিকে বের করে আনছেন। তারপর অ্যাম্বুলেন্সে করে সেসব আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মারেত আল নুমান ভিত্তিক হোয়াইট হেলমেটের সদস্য আব্বাদেহ জাকারাহ জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে বোমা হামলা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘সকালে শুরু হওয়ার পর সারাদিন বোমার শব্দ আর থামেনি। বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে সেযব বেসামরিক নাগরিক মূল সড়কে এসে জড়ো হচ্ছিলেন তাদের লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়।’

জাকারাহ নামের ওই বাসিন্দা আরও জানান, ‘উত্তরাঞ্চলের বেসামরিক মানুষজনকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার জন্য পদ্ধতিগতভাবে জঘন্য এই বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। গত এপ্রিল থেকে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় শেষ বিদ্রোহী অধ্যূষিত এলাকায় রাশিয়ার সহযোগিতায় সরকারি বাহিনী ভূমি ও আকাশপথে ব্যাপক হামলা শুরু করে।