মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজারের ৭১টি ইউনিয়ন ৪টি পৌরসভায় জন্ম নিবন্ধন সার্ভার কেন খুলে দেওয়া হবেনা এবং খুলে দিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবেনা, তা জানতে চেয়ে দেশের ৬টি দপ্তরকে রুল জারী করেছে হাইকোর্ট। রীটের আবেদনকারী এড. নাসরিন সিদ্দিকা লিনা বিষয়টি সিবিএন-কে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার ৫ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি এফ.আর.এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে.এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানীর পর জন্ম নিবন্ধন সার্ভার কেন খুলে দিতে নির্দেশ দেওয়া হবেনা, মর্মে ৪ সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের যথাক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, নির্বাচন কমিশন, রেজিষ্টার জেনারেল (জন্ম মৃত্যু), চট্রগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, চট্রগ্রাম, জেলা প্রশাসক, কক্সবাজারকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টে রীটকারী এড. নাসরিন সুলতানা লিনা নিজেই আদালতে রীটটি শুনানী করেন বলে তিনি সিবিএন-কে জানান।
রীটটি গত ১০ অক্টোবর হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে। রীটে সংবিধানের জন্ম নিবন্ধন সার্ভার বন্ধ রেখে সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩১ ধারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লংগন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

কক্সবাজার শহরের রুমালিয়ার ছরার বাসিন্দা, সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট ছৈয়দুল হকের কন্যা, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা এ রিট আবেদন দায়ের করেন।

আবেদনে কক্সবাজারের ৪টি পৌরসভা এবং ৭১টি ইউনিয়নের পুনরায় জন্ম নিবন্ধন পুনরায় শুরু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং জন্ম নিবন্ধন পুনরায় শুরু করতে বিবাদীদের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এছাড়া ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে জন্ম নিবন্ধন করতে না পারা শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা জারির আবেদনও জানানো হয়েছে।

আবেদনে স্থানীয় সরকার সচিব, স্থানীয় সরকারের বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে বিবাদী করা হয়েছে।

স্থানীয় একটি দৈনিকের ২০ মাস ধরে বন্ধ জন্ম নিবন্ধ শীর্ষক প্রতিবেদন ‍যুক্ত করে এ রিট দায়ের করেন তিনি।

নাসরিন সিদ্দিকা লিনার মতে, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভসহ পরিচয়পত্র গ্রহণ করতে না পারে সে জন্য কক্সবজারের ৪টি পৌরসভা এবং ৭১টি ইউনিয়নের জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে কক্সবাজারের স্থানীয় জনসাধারণ অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি, পাসপোর্টগ্রহণ, ভোটার তালিকায় নিজ নাম অন্তর্ভুক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

গত মে মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, কক্সবাজার জেলার ৪ টি পৌরসভাসহ ৮ উপজেলায় দীর্ঘ ২০ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয়রা জন্ম নিবন্ধন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করলেও বর্তমানে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে অনলাইনের বাধ্যতামূলক জন্ম নিবন্ধন কপি সংযোজন করতে হওয়ায় চরম বিপাকে পড়ছে নতুন ভোটার হতে আগ্রহীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের সমস্যার শেষ নেই। তার ওপর দীর্ঘ ২০ মাস ধরে জাতীয় সার্ভার বন্ধ করে রাখা খুবই দুঃখজনক। এর একটি বিহিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।