বিদেশ ডেস্ক:

ছোট আকৃতির এক লাল পোকা মাইটস। চিকিৎসকদের মতে, ‘ট্রম্বিকিউলিড মাইটস’ নামের ওই ছোট পোকার কামড়ে শরীরে ব্যাক্টিরিয়ার অনুপ্রবেশ ঘটে। এটির কামড়ে স্ক্রাব টাইফাস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। শরীরে প্রবল জ্বর আসে। সঠিক সময়ে রোগ ধরা না পড়লে বা চিকিৎসা না নিলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ভারতে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কলকাতায় মাইটস পোকার কামড় খেয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন কলেজের কর্মী আবীরলাল মণ্ডল। ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রামকৃষ্ণ মিশনের ভিতরে বাইক চালিয়ে যাওয়ার সময় তার চোখের পাতায় কামড় দেয় পোকাটি। পরের দিন থেকে ধুম জ্বর আসে। ১৩ দিনের মাথায় শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ততোদিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার কিডনি, ফুসফুস এবং লিভার। নরেন্দ্রপুরের কলেজকর্মী আবীর বলেছেন, ‘পোকার কামড়ে যে এমন রোগ হতে পারে, তা জানা ছিল না।’ মুকুন্দপুরের বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, ‘শহরাঞ্চলে এই রোগ যে-ভাবে বাড়ছে, তা সত্যিই উদ্বেগের। ‘অজানা জ্বর’র সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে কিনা, খতিয়ে দেখা দরকার। জ্বর সাত দিনের বেশি থাকলেই স্ক্রাব টাইফাসের পরীক্ষা করানো উচিত।’

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক জ্যোতির্ময় পাল বলেন, “জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা হয়। বমি হয়। মূল লক্ষণ ‘ফিভার উইথ কনফিউশন’। ‘কনফিউশন’ মানে ঘোর-ঘোর ভাবের মধ্যে পরিচিতদের চিনতে অসুবিধা হয় রোগীর।”

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেল্‌থ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেস বা নিমহ্যানসের সঙ্গে যৌথ সমীক্ষার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ভবন ২০১৭ সালে এক নির্দেশিকায় জানায়, মাইটস-বাহিত রোগ নিয়ে রাজ্যে কোনও তথ্য নেই। আবহাওয়া বদলের পাশাপাশি কলকাতার শহরতলিতে আবাসন তৈরির হিড়িক এই রোগের কারণ হতে পারে। ২০১৯-এও সম্ভাবনাতেই আটকে রয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। জাল বিস্তার করে চলেছে স্ক্রাব টাইফাস।

স্ক্রাব টাইফাস কোথায় হচ্ছে, কী ভাবে হচ্ছে, জীবাণুর দাপট রোধে কী করণীয়— এর উত্তর পাওয়া জরুরি বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজ়িজ়ের’ কো-অর্ডিনেটর প্রীতম রায় বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন ভাবে সচেতনতার প্রচার না-চালিয়ে নির্দিষ্ট কর্মসূচিই স্বাগত।’ সেই কর্মসূচিই তো নেই! স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ডিরেক্টর প্রতীপ কুণ্ডু বলেন, ‘এখন অনেক বেশি রোগ নির্ণয় হচ্ছে। ফলে এমনও হতে পারে যে, রোগটা আগেও ছিলই। এখন তার কথা জানতে পারছি। আবার অন্য কিছুও হতে পারে। মাইটস কোথায় আছে, বছরের কোন সময়ে বাড়ছে, ব্যাক্টিরিয়ার চরিত্র কেমন, তা না-দেখে এই বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘স্ক্রাব টাইফাসের প্রকোপ যে বাড়ছে, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরাও তা জানাচ্ছেন। কেস স্টাডি ছাড়া এর বাড়বাড়ন্তের কারণ বোঝা মুশকিল।’