বিশেষ প্রতিবেদক:
প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার মতো সম্ভাব্য ব্যয় ধরে একটি সড়ক উন্নয়ন কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। দরপত্রের সিডিউল বিক্রি ও জমা দেয়ার মেয়াদ রয়েছে আরও প্রায় ১৪ থেকে ১৫ দিন। কিন্তু এর আগেই ‘এক অদৃশ্য যাদুকরী ক্ষমতাবলে’ সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু করে দিয়েছেন এক প্রভাবশালী ঠিকাদার। ইতিমধ্যেই সড়কটির প্রায় সব পুরনো ইট তুলে নিয়ে ভেঙ্গে ইটের খোয়া তৈরীর কাজ করছেন ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকরা। গত ৫/৬ দিন ধরে চলছে এসব কাজ। দরপত্র আহবানকারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এমন অনিয়মের মাধ্যমে কাজটি শুরু করেছেন বহুল আলোচিত সমালোচিত ঠিকাদার আসাদ উল্লাহ। কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাতায়াতের জন্য খুরুশকুল ডিসি সড়কটিতে উন্নয়নের নামে এই অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে। দরপত্র আহবান করার পর কাউকে কিছু না জানিয়েই হঠাৎ করে এতবড় কাজ কিভাবে গোপনে একজন ঠিকাদার শুরু করতে পারেন তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ঠিকাদাররা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান এর স্বাক্ষরে গত ১৩ অক্টোবর ০৮/২০১৯-২০ নং ই-টেন্ডার নোটিশ প্রচার করা হয়। নোটিশটি পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালেও প্রকাশ করা হয়। ওই নোটিশে ২ ও ৩ নং প্যাকেজে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে ডিসি সড়কে ২৫১৫ মিটার রাস্তার উন্নয়ন কাজের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি। ওই দুইটি প্যাকেজের সিডিউল বিক্রির শেষ সময় উল্লেখ করা হয়েছে আগামী ১৩ নভেম্বর বিকাল ৫টা। দরপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় আগামী ১৪ নভেম্বর বিকাল ৩টা। ই-টেন্ডার পদ্ধতি হওয়ায় সারাদেশ থেকেই অনলাইনে টেন্ডার সিডিউল ক্রয় ও জমা দেয়ার কথা। সেই হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ অবস্থায় হঠাৎ করেই মো. আসাদ উল্লাহ নামের একজন ঠিকাদার লোকজন নিয়ে গত ৫/৬ দিন আগে ওই সড়কের পুরনো ইট তুলতে শুরু করেন। দরপত্রে অংশগ্রহন ছাড়া এভাবে হঠাৎ করে কাজ শুরু করায় হতবাক হয়ে পড়েন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার জানান, টেন্ডার নোটিশ প্রচার করার পর টেন্ডারে অংশ গ্রহন ছাড়াই কাজ শুরু করা নজিরবিহীন। প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার কাজ এভাবে করার কোন নিয়ম নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে গোপনে আঁতাত করে আসাদ উল্লাহ কাজটি হাতিয়ে নিয়েছেন। একই সাথে কাজটিতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছেন আসাদ উল্লাহ। তারা আরও জানান, টেন্ডারে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচিত হলে সরকারের বিপুল পরিমান টাকা যেমন সাশ্রয় হতো, তেমনি একজন ভালমানের ঠিকাদারের হাতেই কাজটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

একজন ঠিকাদার বলেন, ‘নোটিশ পাওয়ার পর টেন্ডার সিডিউল নিয়ে দরপত্রে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু দরপত্রে অংশ নেয়ার আগেই কাজ শুরু হয়ে গেছে জেনে হতবাক হয়েছি। এ ধরণের কথা কখনো শুনিনি।’

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, খুরুশকুল ডিসি সড়কটির পুরনো প্রায় সব ইটই তুলে নেয়া হয়েছে। এসব ইট খুরুশকুল সড়কের পাশে রেখে ইটের খোয়া তৈরী করা হচ্ছে। সেখানে ৭/৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদার আসাদ উল্লাহ সড়কটির উন্নয়নের কাজ করছেন।

যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার আসাদ উল্লাহ বলেন, ৮ কোটিরও সামান্য বেশি টাকায় কাজটি আমি করছি। ৫/৬ দিন ধরে কাজ চলছে। কোন টেন্ডার নয়, অফিস কাজ করতে বলেছে আমি কাজ করছি।’

জানতে চাইলে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কাজ চলছে এটি জানি। কিন্তু কিভাবে করছে তা আমার জানা নেই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, ‘দরপত্র আহবান করা হয়েছে তা সত্য। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রোগ্রাম রয়েছে; যার কারণে ওই ঠিকাদারকে কাজ করতে বলা হয়েছে।’