ইমাম খাইর, সিবিএন:
কক্সবাজার শহরের পান বাজার সড়ক সংলগ্ন ‘ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ মার্কেট’ (হাজী মঞ্জুর প্লাজা) ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে ওই মার্কেটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট দোকানগুলো আগামী এক মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলতে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিকল্প ঠিক না করে দীর্ঘদিনের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হলে, কোন দশা হবে? তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ওষুধ ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এমন নির্দেশনা জারির পর থেকে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে তারা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সদর থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্তাব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করেছে। বিনা নোটিশে উচ্ছেদ ঠেকাতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপিসহ বৃহত্তর কর্মসূচিরও হুশিয়ারী দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে সোমবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার পান বাজার সড়ক সংলগ্ন বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কার্যালয়ে বৈঠকে বসে দোকানদাররা।
কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল আমিন খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন -সিনিয়র সহসভাপতি গৌরাঙ্গ দত্ত, সহসভাপতি মিজানুর রহমান, সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব, রগু দাস, রাজু সেন, জালাল উদ্দিন, এপেলু দত্ত, নারায়ন দাস, রাজু দাস, সুজিত দাস, কেফায়েত উল্লাহ, অঞ্জন দাস, অ্যাডভোকেট স্বপন দাস প্রমুখ। এছাড়া সভায় মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, তাদের মার্কেট ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হলে আগে ইঞ্জিনিয়ারিং রিপোর্ট দিতে হবে। মৌখিক ঘোষণায় কোন মার্কেট ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ চিহ্নিত হয় না। লিখিত নোটিশ না দেয়া পর্যন্ত কউকের মৌখিক কথায় কেউ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়বে না।
এদিকে, সমিতির সহ-সভাপতি ও কক্সকো মেডিকোর মালিক মিজানুর রহমান ১৭ অক্টোবর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। জিডি নং-১০৩০/১৯।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ অক্টোবর তাদের মার্কেটের অনুমোদনহীন অংশ কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অভিযানে ভেঙে দেয়া হয়। ওইদিন মার্কেট মালিক মঞ্জুর হাজী পলাতক থাকলেও পরের দিন তার সাথে ব্যবসায়ীদের বৈঠক হয়। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, মার্কেটের বর্ধিত অংশ ভেঙ্গে ভবন মালিক ও দোকান মালিকরা একসাথে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করবে। তাদের মানবিক বিষয়টি বুঝাবে। সেই কথা অনুযায়ী দোকান মালিকরা তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া প্রদান ও মার্কেটের বর্ধিতাংশ ভাঙ্গার কাজে ব্যবসায়ীরা যথাসাধ্য সহযোগিতা করে। এরপর কউক চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করতে গেলে উল্টে যায় মার্কেট মালিক মঞ্জুর হাজী। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করার কুমানসে বিভিন্ন মিথ্যা কাহিনী ছড়াচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ অক্টোবর রাত দশটার দিকে হাজী মনজুর আলম ২টি কিরিচ, তার ছোট ভাই নুরুল আলম ১টি ছুরি উঁচিয়ে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করবে, স্বেচ্ছায় না গেলে জানে মেরে ফেলবে, মালামাল বিনষ্ট করবে, মামলায় জড়িত করবে ইত্যাদি হুমকি প্রদান করে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, মার্কেটের মালিক হাজি মনজুর আলমের কাছে তাদের জামানত (সেলামী) বাবদ প্রায় কোটি টাকা জমা রয়েছে। জামানত ফেরত দেয়া থেকে রেহাই পেতে অগ্রিম কৌশল হিসেবে সদর থানায় অভিযোগ দিয়ে রেখেছে মঞ্জুর হাজী। তাতে ভাড়াটিয়াদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, কউক চেয়ারম্যান, পুলিশ সুপার, সদর থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেছে হাজি মঞ্জুর প্লাজার দোকানদাররা।
মনজুর হাজির অভিযোগের বিবাদি হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও মিজানুর রহমানের বাড়ি কক্সবাজার শহরে। তাদেরকে মামলায় কাবু করতে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, মার্কেট মালিক মঞ্জুর হাজী ইতোমধ্যে একটি ডেভেলপার কোম্পানির সাথে চুক্তি করেছে। তাই অতি লোভের বশবর্তী হয়ে পুরনো ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে বেশি ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। তার এই অপচেষ্টা ব্যবসায়ীরা সফল হতে দেবেনা। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আইনী লড়াই চালিয়ে যাবে।