এ কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া:

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) এমবিবিএস ৫১তম ব্যাচের বিডিএস তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান আবিদ হত্যার পুন:বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার। সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে চমেক শিক্ষার্থী আবিদ হত্যার সাথে জড়িতদের বেকসুর খালাসের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়। আবিদ হত্যাকান্ডের ঘটনাকে সম্প্রতি বুয়েটে ঘটে যাওয়া আবরার হত্যাকান্ডের মতো জখন্যতম ও বর্বর হত্যাকান্ড বলেও উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এতে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন নিহত আবিদের বড়ভাই জিল্লুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আবিদের মা ছৈয়দুন্নেছা, বড় বোন সাজেদা ইয়াসমিন, মুর্শিদা ইয়াসমিন, সাহেদা ইয়াসমিন ও রায়হান জন্নাত, এবং বড়ভাই লুৎফুর রহমান, প্রমুখ।

নিহত আবিদ উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উপর পাড়া এলাকার মরহুম নুরুল কবির চৌধূরীর কনিষ্ঠ পুত্র।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত আবিদের ভাই জিল্লুর রহমান দাবী করেন, ২০১১ সালের আজকের এইদিনে আমার ভাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) এমবিবিএস ৫১তম ব্যাচের বিডিএস তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান আবিদকে কলেজ হোস্টেল থেকে তুলে নিয়ে দফায় দফায় শাররীক নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করে তার সহপাঠি ও বড়ভাই নামধারী তৎকালীন ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্র সংসদ নামের টর্চার সেলে মেডিকেল ছাত্র আবিদের উপর ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ৩-৪ ঘন্টা ধরে অমানুষীক নির্যাতন চালানোর খবর কলেজ অধ্যক্ষ ও কতৃপক্ষ জানলেও তাকে বাঁচাতে কেঊই এগিয়ে আসেনি। আবিদ চমেকের মেধাবী শিক্ষার্থী হলেও কতৃপক্ষ হাসপাতালে তার কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। উপরোন্তু আবিদকে চমেকের বাইরে বেসরকারী হাসপাতালে গতানুগতিক ধারায় চিকিৎসা দিয়ে সহপাটিদের মাধ্যমে গ্রামের বাড়িতে পোঁছে দেওয়া ছিল অত্যান্ত দু:খজনক। চমেকেই যদি আবিদকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হতো, তাহলে আমাদের পরিবারকেও আবিদকে অকালে হারাতে হতোনা।

নিহত আবিদের ভাই জিল্লুর রহমান আরও বলেন, বিনা চিকিৎসায় আবিদকে বাড়ি পোঁছে দেয়ার পর তার অবস্থা সংকটাপন্ন হলে এক পর্যায়ে সহপাটিদের আন্দোলনে চাপের মুখে পড়ে অধ্যক্ষ ও চমেক প্রশাসন আবিদকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য হন। কিন্তু যথা সময়ে চিকিৎসা সেবা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা অবস্থায়ই আবিদ মৃত্যুকোলে ঢলে পড়েন। এদিকে আবিদের মৃত্যুর খবরটি সে সময় তাৎক্ষনাত তার সহপাটিদের নিকট পৌছলে তাদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে পড়ে পুরো চমেক ক্যাম্পাস। এসময় ছাত্রছাত্রীরা আবিদ হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্ঠান্তমুল শাস্তির দাবী ও খুনিদের কলেজ থেকে চিরতরে বহিস্কারে দাবী জানালে শিক্ষার্থীদের এ যৌক্তিক দাবীর প্রতি তোয়াক্কা করেননি কলেজ অধ্যক্ষ ও প্রশাসন। উল্টো চমেক অধ্যক্ষ ও চমেক প্রশাসন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে কলেজ বন্ধ ঘোষনা করে রাতেই শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেন।

জিল্লুর রহমান বলেন, আবিদ হত্যাকান্ডের দুইদিন পর ২৩/১০/২০১১ইং তারিখে নিহতের মামা নিয়ামত উল্লাহ বাদি হয়ে খুনের ঘটনায় জড়িত ২২জনের নাম উল্লেখ করে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খুনিদের পক্ষ নিয়ে এবং চমেক কতৃপক্ষের ইন্দনে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের কোন রকম তদন্ত ছাড়াই মামলা দয়েরের ৪ মাসের মধ্যেই তড়িগড়ি করে চার্জসীট প্রদান করেন। চার্জসীটে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এজাহার নামীয় ১০জন আসামী আবিদ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কোন প্রমান মেলেনি বলে উল্লেখ করে তাদেরকে মামলা থেকে অব্যহতির আবেদন জানান। ফলে এ মামলার এজাহার নামীয় অপর ১২জন আসামীকে নিয়েই আদালতে চলে মামলার বিচার কার্যক্রম।

নিহত আবিদের ভাই জিল্লুর রহমান আরও বলেন, আবিদ হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর এ মামলার বাদিকে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে আসছিল আসামীরা। ফলে জীবন শংকার ভয়ে মামলা পরিচালনার জন্য আর আদালতে যেতে পারেননি মামলার বাদী। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দূর্বল চার্জসীট প্রদান ও মামলা পরিচালনায় আদালতে বাদির অনুপস্থিতির কারনে চলতি বছরের ১০ জুলাই এ মামলার রায়ে আবিদ খুনের ঘটনায় জড়িত সকল আসামীই আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে বেকসুর খালাস পেয়ে যায়। ফলে বিষয়টি নিয়ে এখন আমাদের পুরো পরিবার উদ্বিগ্ন ও শংকিত। চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি উচ্চতর আদালতে আপীলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান নিহত আবিদের বড়ভাই জিল্লুর রহমান।