নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহেশখালীতে মৎস্যখাতে সম্পৃক্ত অংশীজনদের নিয়ে উন্মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ অক্টোবর সকালে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- মহেশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিমেল চন্দ্র রায়। তিনি সবার জেলে কার্ড আছে কিনা যাচাই করেন। যারা জেলোকার্ড সংগ্রহ করেনি তাদেরকে সময়ের মধ্যে কার্ড সংগ্রহের জন্য বলেন।
হিমেল চন্দ্র রায় বলেন, মাছধরা বন্ধের সময় চাউল বরাদ্দ আরো কিভাবে বাড়ানো যায় তা জেলা প্রশাসনকে জানানো হবে। জেলে সম্প্রদায়ের আর্থিক সঙ্গতির বিষয়ে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক।
মহেশখালী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মকছুদ মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- মহেশখালী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজিজ মিয়া, হামিদুল হক, রহিমা কবির, সুলতানা রাজিয়া, মোং মকছুদ আলম।
পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন কোস্ট ট্রাস্টের কর্মকর্তা জিয়াউল করিম চৌধুরী। শুরুতে তিনি স্বাগত বক্তব্যও দেন।
অনুষ্ঠানের প্রথমদিকে বক্তব্য প্রদানকালে কাউন্সিলর আজিজ মিয়া বলেন, ৬৫ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার কারনে জেলেরা অনেক উপকৃত হয়েছে। চলমান ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাতেও জেলেরা উপকৃত হবে। তবে জেলেদের যেভাবে সরকারের পক্ষ থেকে চাউল বিতরন করছে তা পর্যাপ্ত নয়। জেলেরা অনেক সময় ঘূর্নিঝড়ের সময় দুর্ঘটনায় মারা যায়, এই সময় তাদের পরিবারে সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সাহায্য করা হয় নি। এ্ই সময় তাদেরকে কিভাবে সহযোগিতা করা যায়- তা দেখতে হবে।
জেলেদের প্রচুর পরিশ্রমের কারণে অনেক সময় অকাল মৃত্য হয়। এই অবস্থায় তাদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা দেওয়ার দাবী তুলেন মৎস্যজীবী আজিজ মিয়া। এ বিষয়টি কোস্ট ট্রাস্টকে গুরুত্বেও সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় কাউন্সিলর মকছুদ আলম বলেন, আমাদের পৌরসভায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৪০০ জন। কিন্ত এবার ২২ দিনের মাছ ধরা বন্ধের সময় সরকারী ভাতার চাউল পেয়েছে ৪৫৪ জন। তার প্রশ্ন, অবশিষ্ট জেলেরা কিভাবে পরিবার চালাবে?
মাছ ধরা বন্ধের সময় জেলেদের কিভাবে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে লাগানো যায়- তা ভেবে দেখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। হাস-মুরগী, গরু-ছাগল ইত্যাদি গবাদি পশু পালনের সহায়তা প্রদানে সাহায্য করার পরামর্শ দেন মকছুদ আলম।
জেলেদের পক্ষ হয়ে নাছির উদ্দিন বলেন, মাছধরা বন্ধের সময়কালে বিভিন্ন্ এনজিও থেকে নেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে তাদের মারাত্মক কষ্ট পেতে হয়। এ কারণে কিস্তি বন্ধ রাখার দাবী তুলেন তিনি। সভাপতির বক্তব্যে মেয়র মকছুদ মিয়া কোস্ট ট্রাস্টকে ধন্যবাদ দিয়ে বক্তব্য আরম্ভ করেন। তিনি বলেন, জেলেদের কিভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে সরকারের যথেষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। মাছধরা বন্ধের সময়গুলোতে মৎস্যজীবী পরিবারকে বিভিন্নভাবে সাহায্য দেয়া হচ্ছে। তবে, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন মেয়র মকছুদ মিয়া।
এক্ষেত্রে কোস্ট ট্রাস্ট এর পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা যায় কিনা? তা পরিকল্পনার আওতায় আনার অনুরোধ করেন তিনি। বিশেষকরে, জেলেদের সন্তানদের পড়ালেখার খরচ যোগাতে অনুদানের কথা তুলে ধরেন অনুষ্ঠানের সভাপতি মকছুদ মিয়া।