এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিংড়িজোন খ্যাত রামপুর মৌজার ৫১১২ একর চিংড়ি জমি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে জবর দখল করে রেখেছে প্রভাবশালী চক্র। সমিতির মালিকানাধীন উল্লেখিত পরিমাণ জমি উদ্ধারে রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিমিটেড (রেজিষ্ট্রেট নং ২৩৯৯/৭২(চট্ট)’ এর অন্তত ১০ হাজার ভুমিহীন পরিবার ৫০ বছর ধরে আইনী লড়াই করেও জমি তাদের অনুকুলে বুঝে না পাওয়া এখন তারা অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় ভূমিহীন পরিবার গুলো বছরে পর বছর আইনী জটিলতা কাটিয়ে উঠতে উঠতে চরম আর্থিক হয়রাণিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি আবু জাফর ১০ ভুমিহীন পরিবারের জমি উদ্ধারে আইনী সহায়তা প্রার্থনা করে সম্প্রতি সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগও পাঠিয়েছেন।

ভুমিহীনদের লিখিত অভিযোগে দাবী করা হয়েছে, উল্লেখিত পরিমাণ চিংড়িজমি জবর দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কক্সবাজার জেলা ও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনকে উচ্চতর আদালতের নির্দেশ অনুয়ায়ী ভূমিহীনদের মাঝে তাদের প্রাপ্য জমি দখল বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বারংবার নির্দেশ দেয়ার পরও তা কার্যকর হচ্ছেনা। বৃহস্পতিবার সমিতির সভাপতি আবু জাফর চকরিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগে এ তথ্য জানিয়েছেন।

রামপুর সমিতির সভাপতি আবু জাফর আরো জানান, তাদের পক্ষে সর্বশেষ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১০৯৬২/১২, ৬০৪৭/১৮ এবং কনট্রেম্প পিটিশন নাম্বার ২৬১/১৭ এর আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (রাজস্ব শাখা) থেকে ০৫.২০.২২০০.১২৮.২৭.০০৬.২০১৯ স্বারকমুলে গত ২ সেপ্টেম্বর চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ১৫ দিনের মধ্যে মহামান্য হাইকোটের আদেশ বাস্তবায়ন এবং নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রামপুর সমিতির সদস্যরা জানিয়েছেন, চকরিয়া উপজেলার রামপুর মৌজার আর.এস ১০৮৩,১০৮৪, ১০৮৬, ১১১০, ১১১১, ১১১২ অধিনে সর্বমোট ৫১১২ একর চিংড়ি জমি ১০ হাজার ভুমিহীন সদস্যদের নামে সি.এস ও এম.আর.আর খতিয়ান রেকর্ড ভুক্ত রয়েছে। পরবর্তীতে ১৯০৩ সালে চকরিয়া সুন্দরবন করার উদ্দেশ্যে বিনা নোটিশে অধিগ্রহণ করে বন বিভাগের নিকট এ জমিসহ অন্যান্য জমি হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু বন বিভাগ চকরিয়া সুন্দরবন করতে ব্যর্থ হয়ে পরবর্তীতে ওই জমি গুলো মৎস্য বিভাগকে উন্নত মৎস্য খামার করার লক্ষ্যে ৫ বছর চুক্তি ভিত্তিতে হস্তান্তর করেন।

কিন্তু মৎস্য বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মৎস্য খামার না করে বিভিন্ন ধনীদের নামে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে মৎস্যঘের ইজারা দেয়। যা সরকারের সংবিধান বিধি মোতাবেক অপরাধ যোগ্য। পরবর্তীতে ভুমিহীনদের পক্ষ থেকে নিন্ম আদালত থেকে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোট বিভাগ পর্যন্ত সর্বআদালতে তাদের পক্ষে রায় হয়। ৫০ বছর ধরে আইনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে গিয়ে ভুমিহীনরা এখন নিঃশ্ব হয়ে পড়েছে। কিন্তু ভুমিহীনদের পক্ষে একের পর এক রায় হলেও লাঠিয়াল বাহিনীর জবর দখল থেকে ভুমিহীনরা তাদের জমি এখনো পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।

ভূমিহীন পরিবারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, বর্তমানে রামপুর মৌজার এসব জমি চকরিয়া উপজেলার স্থানীয় অনেকের পাশাপাশি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন নামীদামি ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্টানসহ অন্তত ৪৬৮ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে রয়েছে। তৎমধ্যে ড. ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংকের নামে রয়েছে প্রায় ৩৮০ একর, জনৈক বাহার উদ্দিনের নামে ৯০ একর, সাহারবিলের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাকিমের নামে ২২০ একর, দলিলুর রহমানের নামে প্রায় ৫২০ একর, ছলিম উল্লাহ’র নামে প্রায় ২০০একরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন ব্যক্তিরা মৎস্য বিভাগের সাথে অবৈধ যোগসাজস করে অবৈধ ভাবে এসব জমি ভোগদখলে রেখেছে। এ অভিযোগ রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিমিটেড’র সভ্যদের। এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।