শ্রীধর দত্ত :

দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসব।যেখানে বাঙালি হিন্দুদের অবস্থান সেখানেই প্রাণের দুর্গাপূজার উৎসব। তাই প্রবাসীদের এই মহা দুর্গোৎসব থেকে বঞ্চিত করতে পারেনি। আবহমান কাল থেকে ভারত বাংলায় প্রতিটি গ্রামে গ্রামে মা দূর্গার আগমনে প্রতিটি পূজা মন্ডপ ঢাকের উপর কাঠির আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে। দুর্গাপূজা শুধু এখন পূজা নয়, পূজা থেকে দুর্গোৎসব এ পরিণত হয়েছে। আর এখন শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু সনাতনিদের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, এটা এখন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সবার সার্বজনীন দুর্গোৎসবে পরিণত হয়েছে। তাই এখন দেশ ছেড়ে পৃথিবীর সকল দেশেই সাড়ম্বরে সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দুর্গাপূজা উদযাপন হলোও মধ্যপ্রাচ্যের পূজার সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু এখন সেই কালো মেঘ কেটে গেছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্রীন সিটি আল-আইনে দেশীয় উৎসবের আমেজে তিনটি বড় পরিসরে পূজামণ্ডপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেসব সনাতনী প্রবাসে অবস্থান করে তাদের পক্ষে দেশে ছুটিতে গিয়ে দুর্গাপূজা অংশগ্রহণ করা সম্ভবপর হয় না। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আল-আইনের সব সনাতনী প্রবাসীরা মিলে সাড়ম্বরে দুর্গাপূজা উদযাপন করছে। বোধন-অধিবাস, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন, ও আরতির মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশ সংস্কৃতির প্রধান এই ধর্মীয় মহোৎসব। সর্বপ্রথম ১৯৭৬ সাল থেকে আল- আইন মরুতীর্থ গীতা সংঘে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ঘট পুজা এবং পরবর্তীতে ডেরা দুবাইয়ে প্রতি বছরই শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করে থাকে। তবে দীর্ঘ সাত বছর যাবৎ আল- আইনে প্রতিমার মাধ্যমে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একটি উদযাপন হয় ফাইভ স্টার ওয়েডিং হল (সিটি সিজন হোটেলে) এবং অপরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডানাট রিসোর্টের হলরুমে। তাই এখন আল-আইন দুর্গাপূজার জন্য সংযুক্ত আমিরাতের একটি সুপরিচিত শহর। এছাড়া বিভিন্ন শহরে ছোট পরিসরে সাতটি দুর্গাপূজা উদযাপন হয়েছে। আবুধাবি, দুবাই, সারজা, রাস-আল-খাইমা, ফুজিরা, দিব্যা, আজমান, উম্মুল কুয়াইন থেকে হাজার হাজার হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সবার পদচারণায় আল- আইনের পূজামণ্ডপগুলো মুখোরিত হয়ে উঠছে। প্রতিদিন পূজা মন্ডপে সকালে পূজা সমাপন হয়ে অঞ্জলি প্রদান এবং রাত্রে সন্ধ্যারতি সম্পন্ন হয়। সপ্তমী অষ্টমী নবমীর দিন সন্ধ্যারতির পড়ে বাংলাদেশী শিল্পীদের পরিচালনায় সঙ্গীতানুষ্ঠান, নৃত্য অনুষ্ঠান বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়া দশমীর দিন অঞ্জলি নেওয়া ও সিঁদুর দেওয়া একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও অশ্রুজলে সিক্ত প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার পরিসমাপ্তি ঘটে। মা-বাবা, ভাই বোন, আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের সাথে নিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে না পারলেও প্রবাসী বন্ধুদের সাথে এই মিলন মেলা প্রবাসীদের একাকী নিরাশার বালুচরে কিছুটা হলেও আনন্দে বসে কাটানো সম্ভবপর হয়েছে। মা দুর্গা যেন সবার জীবনে আনন্দ শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক এই কামনা করি।