কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভিটিজিংয়ের ব্যাপারে অভিযোগ দেয়ায় বখাটের হামলায় মা ও কন্যাসহ তিনজন আহত হয়েছে। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বখাটের হামলায় আহতরা হলেন, চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর এলাকার ছিদ্দিক আহামদের ছেলে জহির আহামদ (৪২), জহির আহামদের স্ত্রী হুমাইরা বেগম (৩২) ও তার কন্যা জন্নাতুন নাঈম (২০)। তাদেরকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বখাটের হামলায় আহত হয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন জন্নাতুন নাঈম (২০) বলেন, কয়েকদিন আগে পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া থেকে নার্গিছ ও রেশমী নামে দুই নিকট আত্মীয় তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা চলে যাওয়ার সময় আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুদুর এগিয়ে দিতে গেলে স্থানীয় শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে সাইফুল ও জহির আহামদের ছেলে পিয়ারু আমাদের গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে বখাটেরা আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে আমার নিকট আত্মীয় নার্গিছ ও রেশমীকে তুলে নিতে চাইলে আমরা সবাই একযুগে চিৎকার শুরু করি। তখন আমাদের চিৎকার শোনে আশপাশ এলাকা থেকে লোকজন এগিয়ে এলে বখটেরা কৌশলে গা ঢাকা দেয়। পরদিন শুক্রবার সকালে আমার পিতা জহির আহামদ বিষয়টি স্থানীয় হারবাং পুলিশ ফাঁড়িকে মৌখিকভাবে জানান।

আহত জন্নাতুন নাঈম আরও বলেন, শুক্রবার বিকালে আমার পিতা বাড়ি থেকে বের হয়ে হারবাং স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় স্থানীয় শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে সাইফুল ও রহমান এবং জহির আহামদের ছেলে পিয়ারুর নেতৃত্বে ৫-৬জন বখাটে আমার পিতাকে গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার শোর চিৎকারে আমি ও আমার মা এগিয়ে এলে বখাটেরা আমাদেরকেও পিটিয়ে আহত করার পর তাদের বাড়িতে আটত করে রাখে। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি চৌকিদার পাঠিয়ে আমাদের জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করেন। স্থাণীয় হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান আহত জন্নাতুন নাঈম।

হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হবিবুর রহমান বলেন, হারবাং ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় মারধর সংক্রান্ত কোন অভিযোগ এখনো হাতে পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।