ইমাম খাইর, সিবিএন:
মহেশখালীর মাতারবাড়িতে হচ্ছে মডার্ণ ফায়ার স্টেশন। যেটি চলমান কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুত প্রকল্পের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নির্মাণ করছে সরকার। স্থানীয়রাও পাবে এই সুবিধা।
ইতোমধ্যে মডার্ণ ফায়ার স্টেশনের সম্ভাব্য জায়গা পরিদর্শন করেছেন উচ্চপর্যায়ের একটি টীম।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রকল্প পরিদর্শনে ছিলেন- দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিতব্য ১১টি মডার্ণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রকল্প পরিচালক শহীদ আতাহার, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামিরুল ইসলাম, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মালেক, মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অঙ্গজায় মার্মা, মাতারবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মুহাম্মদ উল্লাহ, মহেশখালী স্টেশন অফিসার মো. আল আমিন। এছাড়া জমির মালিক ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মালেক কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন)-কে বলেন, মহেশখালীতে বর্তমানে যে ফায়ার স্টেশনটি আছে সেখান থেকে মাতারবাড়ির দূরত্ব অনেক বেশী। যে কোন দুর্ঘটনায় দ্রুত সেবা দেয়া সম্ভব নয়। তাই সরকার সেখানে আলাদা একটি ‘মডার্ণ ফায়ার স্টেশন’ করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, সাধারণ ফায়ার স্টেশনের চেয়ে ‘মডার্ণ ফায়ার স্টেশন’ অনেক উন্নতমানের হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকবে ডুবুরি, উদ্ধারকর্মী।
সাধারণ দুর্ঘটনায় যেসব গাড়ি ব্যবহার করা হয় তার চেয়ে ‘মডার্ণ ফায়ার স্টেশন’এর গাড়িগুলো আধুনিক ও উন্নতমানের হবে।
এরই মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা অনেক উপকৃত হবে বলে মনে করেন মোহাম্মদ আবদুল মালেক।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের দেশে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি খুবই অপ্রতুল। বিশেষ করে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে। যে ক্ষেত্রে আগুন নেভানো, মানুষকে সরিয়ে নেয়া এবং জরুরি উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা দরকার, সেসব ক্ষেত্রে আমাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল নেই। তাছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ মানুষের যে ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার তা-ও নেই। ফলে আধুনিক মানের এবং অধিক সংখ্যক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সুত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১১টি মডার্ন ফায়ার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মডার্ন ফায়ার স্টেশন স্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয় ১১টি মডার্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ হবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে। স্টেশন নির্মাণ ও পূর্ত কাজে ব্যয় হবে ১৫৮ কোটি ৭৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা। ভূমি অধিগ্রহণ বা ক্রয়ে ব্যয় হবে ৫৮ কোটি ৫৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্ট কেনার জন্য ২৬৫ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ফায়ার ফাইটিং এক্সেসরিজ কেনা বাবদ ১৯ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি ১০টি কেন্দ্রের আসবাবপত্র কেনা হবে। এর ব্যয় হবে ১ কোটি তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, প্রকল্পে সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি বাবদ ১১ কোটি ৭৭ লাখ এবং প্রাইস কন্টিনজেন্সি বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৪২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রমতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় ১৫৬টি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন কাজ এগিয়ে চলছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। এর পুরোটাই সরকারের তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে।
বর্তমান সারা দেশে বর্তমানে ৩০২টি ফায়ার স্টেশন চালু রয়েছে এবং লোকবল সংখ্যা ৮৩০০-এর কিছু বেশি। দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফায়ার স্টেশন স্থাপন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে মোট ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা হবে ৫৪৯টি এবং জনবল হবে ১৫০০০-এর বেশি।