এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া
চকরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অর্থায়নে আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দে ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে একটি এবং ডুলাহাজারা ইউনিয়নে একটিসহ দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আলাদা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলা শিক্ষা শিক্ষা বিভাগের অর্থায়নে দুইটি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের (কক্সবাজার-১) এমপি ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম।

একইদিন বিকালে চকরিয়া পৌরসভার চিরিঙ্গা হিন্দুপাড়া গ্রামে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে সৎ সঙ্গ মন্দির নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এমপি জাফর আলম। ডুলাহাজারা ইউনিয়নে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাটাখালী সরকারি বিদ্যালয় ও ৯৮ লাখ টাকা ব্যায়ে ফাসিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর চকরিয়া উপজেলা (এলজিইডি)।

বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এলজিইডির চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এমআর চৌধুরী, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রতন বরণ দাশ, ফাসিয়াখালী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আলম, সাবেক মেম্বার কামাল উদ্দিন, বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আলহাজ জাফর আলম এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাখাতের অগ্রউন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য মেধানির্ভর শিক্ষার সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করেছে। তাঁর সদিচ্ছার কারনে আজ শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে লেখাপড়া সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার সুষ্ট পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দে অবকাঠামোগত উন্নয়নে সব ধরণের কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করছেন। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে নিরক্ষতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা। সেইলক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শিক্ষার মান্নোয়নে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে বছরের প্রথমদিন শিক্ষার্থীরা নতুন পাঠ্যবই পাচ্ছে। লেখাপড়া করতে সব ধরণের উপবৃত্তি সুবিধা পাচ্ছে। মেধাবীদের সরকারি চাকুরী নিশ্চিত করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু করা হয়েছে মিড ডে মিল প্রকল্পসহ নানা ধরণের প্রনোদনা প্রকল্প। যাতে শিক্ষার্থীরা এসব সুবিধা নিয়ে সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারে। নিজেকে আগামীর জন্য দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে তৈরী করতে পারে।

জাফর আলম এমপি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান্নোয়ন নিশ্চিতকল্পে আগামী পাঁচবছরে টেকসই উন্নয়নে চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার সবশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাজানো হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে লেখাপড়ার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদেরকে সুনাগরিক হিসেবে তৈরী করতে হবে। আজকের নতুন প্রজন্ম হবে আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাই সেইভাবে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের তৈরী করতে সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করতে হবে। আশাকরি শিক্ষার্থীরা যাতে কোন ভাবে বিপদগামী না হয় সেদিকে অভিভাবক ও শিক্ষক মন্ডলীকে সজাগ ভুমিকা পালন করতে হবে।