মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
চকরিয়ার মালুমঘাট বাজারে অননুমোদিত ক্লিনিকে ভুয়া ডাক্তারের হাতে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ রোগী। মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে কাঁচি-চাকু দিয়ে অস্ত্রোপচার করে যাচ্ছে এক পল্লী চিকিৎসক। তার ভুল ও অপচিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী।
মালুমঘাট বাজারের স্বপন মল্লিক নামের পল্লী চিকিৎসক ও তার পরিচালিত এসএম ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে ডাক্তার নামধারী এ ব্যক্তি দালাল দিয়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সার্জারী রোগী সংগ্রহ করে অপারেশন করে যাচ্ছে। খপ্পরে পড়ে আসা রোগীরা ক্লিনিক নামের ওই ফার্মেসী থেকে শারীরিক ও আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে ঘরে ফিরছে। মালুমঘাট বাজারের ভাইভাই বোর্ডিং-এর প্রবেশ পথে একটি কক্ষই ডাঃ স্বপন মল্লিকের এই এসএম ক্লিনিক। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় ক্লিনিক হিসেবে অনুমোদনের কোন পর্যায়ে পড়েনা এটি। কিন্তু স্বপন মল্লিক কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে চালিয়ে যাচ্ছে এসব মনগড়া কর্মকাণ্ড।
দালালের খপ্পরে পড়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় হার্নিয়া অপারেশনের এক রোগী আসেন কক্সবাজারের রামু থেকে। ওই হতভাগা রোগীর নাম মোঃ ইসমাইল (১৯)। সে চাকমারকুল জারাইল তলী গ্রামের মৃত নুর আহমদের ছেলে। স্বপন মল্লিকের সাথে অপারেশন করতে দর কষাকষির শেষে চৌদ্দ হাজার টাকায় রাজি হলেন রোগীর স্বজনরা। পরে শুরু হলো হার্নিয়া অপারেশন। দীর্ঘ দুই ঘন্টা পর্যন্ত রোগীর অন্ডকোষে কাটাছেঁড়া করে অপারেশনে ব্যর্থ হয় তিনি। এক পর্যায়ে ওই রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্বপন মল্লিকসহ চকরিয়ার এশিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে।
এব্যাপারে হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় অপারেশন সফল হয়েছে। তবে এতে একাধিক ডাক্তারের পর্যপ্ত প্রচেষ্টা চালাতে হয়েছে। এদিকে রোগীর বড়ভাই মোঃ রুবেল জানিয়েছে, মালুমঘাট এসএম ক্লিনিকে তার ভাইয়ের ভুল চিকিৎসার স্বীকার হয়েছে। ওসময় স্বপন মল্লিকের দেওয়া একের পর এক ইনজেকশনে রোগী ছটফট করছিল। রুবেল আরো জানায় মালুমঘাটের ওই ক্লিনিকে অপারেশনের তেমন যন্ত্রপাতি নাই। অপারেশন বাবদ স্বপন মল্লিককে চৌদ্দ হাজার টাকা দেওয়ার পরও এশিয়ান হাসপাতালে তিনি আরো তিন হাজার টাকা দাবী করেন।
অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক স্বপন মল্লিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এসএম ক্লিনিক নয় এসএম ফার্মেসী নামে তার চেম্বারটি অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া ওই চেম্বারে অস্ত্রোপচারের জন্য নামীদামি ক্লিনিকের চেয়েও বেশি যন্ত্রপাতি রয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। অপারেশন করতে কি কোয়ালিটি প্রয়োজন বা তার সার্জারীর কোন ডিগ্রী আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন। হার্নিয়া অপারেশন করে ব্যর্থ হয়ে চকরিয়ার হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে তিনি স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় যোগাযোগ করে জানা গেছে, মালুমঘাট বাজারে এসএম ক্লিনিক নামের কোন ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া নাই। হিউম্যান বডিতে অস্ত্রোপচার করতে এমবিবিএস ডিগ্রীসহ সার্জারীর উপর আলাদা ডিগ্রীর প্রয়োজন রয়েছে। পল্লী চিকিৎসকের এসব কর্মকাণ্ড দুঃখজনক এবং এটি খতিয়ে দেখা হবে।