ইমাম খাইর, সিবিএন:
শনিবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে টানা বৃষ্টিসহ কক্সবাজারের উপকূলে দমকা হাওয়া বয়ে যায়। শহরের এন্ডারসন রোড, নূরপাড়া, বাজারঘাটা, বার্মিজ মার্কেট, রুমালিয়ারছড়াসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে চলাচল করছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পথ চলা। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় আটকে পড়ে যানবাহন। এতে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী।
কক্সবাজার পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের নারী সদস্য ও প্যানেল মেয়র শাহেনা আকতার পাখি জানান, ড্রেন দখল করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট করেছে অনেকে। তাতে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়ে ড্রেনের পানি সড়কে চলছে। তিনি জানান, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, টেকনাফের লেদা মোচনি এলাকা থেকে মোহাম্মদ ইউছুফ মনো নামের এক ব্যক্তি মুঠোফোনে জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে প্রবল বৃষ্টি আর দমকা হাওয়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের মোচনীর দক্ষিণ পার্শ্বের বড় একটি শিশু গাছ প্রধান সড়কের উপরে পড়ে যায়। তাতে স্থানীয় ও দূর পাল্লার শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের লোকজন গাছটি সরিয়ে নেয়। দুপুর ১২ টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শনিবার বেলা ৩টার চিত্রঃ নুরপাড়া, ৩ নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।
শনিবার বেলা ৩টার চিত্রঃ নুরপাড়া, ৩ নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী দমকা হাওয়ায় বড় গাছ পড়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন।
এই ব্যাপারে সওজের স্টক ইয়ার্ডে কর্মরত জামাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় সওজের কর্মীরা গাছটি অপসারণ করে যান চলাচলের ব্যবস্থা করে।
বিলম্বে হলেও কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানজট নিরসন হওয়ায় ভুক্তভোগী যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। এর আগে অসংখ্য যানবাহন উভয় পাশে আটকা পড়ে।
এদিকে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুর চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। শনিবার (৬ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।