বলরাম দাশ অনুপম :

ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে। বর্ষা মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এতে করে আতংকে দিন কাটাচ্ছে ওইসব এলাকার হাজারো মানুষ। বিশেষ করে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের চাঁন্দেরপাড়া গ্রাম পয়েন্টে বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ওই এলাকার অর্ধশত বসতবাড়ি। এদিকে ইতোমধ্যে ৩০টির মত বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে বাঁকখালী নদীর গর্ভে। বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গন যেহারে রুপ নিচ্ছে বর্ষা মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে তা মারাত্মক রুপ নিতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে আতংকে দিনাতিপাত করছে বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে-প্রতি বছর বর্ষা মৌসুুমে বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গনের কারণে যেমনি করে এলাকার আয়তন কমে আসছে তেমনি করে ভিটেমাটি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়ছে নদী তীরবর্তী বসবাসকারী বাসিন্দারা। এদিকে গত শুক্রবার এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাহফুজুর রহমান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে-শুধু চাঁন্দের পাড়া নয়, ঝিলংজা ইউনিয়নের বাঁকখালী নদীর বাংলাবাজার, খরুলিয়া, দরগাহ পাড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এনময় কথা হয় এলাকার কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্থ লোকের সাথে। নদীর ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত বৃদ্ধা আলতাজ মিয়া বলেন, গত বছর থেকে বাঁকখালী নদী ভাঙ্গনে আমার বসতঘরটি ৪ ভাগের ৩ ভাগ স্থাপনা নদীতে চলে গেছে। ৩০ শতক জায়গাজুড়ে বাড়ি ছিল। এখন সেটি শূন্য শতকে এসে দাঁড়িয়েছে। একই সুরে কথা বলেন আরেক ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি আব্দুস ছালাম। তিনি বলেন-তার পুরো ভিটেই বাঁকখালী নদীর গর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কষ্ট করে ভাড়া বাসায় দিন কাটাচ্ছেন। চাঁন্দেরপাড়ার বাসিন্দা এডভোকেট মোহাম্মদ আলী বলেন, নদীর ভাঙ্গনে গত কয়েক বছরে আমাদের ৩০টির বেশী বসতবাড়ী নদী গর্ভে হারিয়েছি। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা আসে যাই কিন্তু কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। তিনি আরো বলেন, এই বর্ষা মৌসুমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাগণ জরুরীভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করলে যেকটি বসতবাড়ি আছে, তাও নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা সম্ভব। ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গনে বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন-প্রতি বছর শুধু চাঁন্দেরপাড়া নয় তার ইউনিয়নের একাধিক এলাকার বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। নদী ভাঙ্গনে কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ইউনিয়নের পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সাহার্য্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়ে চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন-বাঁকখালী নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ^াস ছাড়া আর কোন কিছুই করছেন না। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাহফুজুর রহমান বলেন-নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি আমাকে এলাকার লোকজন অবহিত করার পর গত ২১ জুন সরেজমিনে আমি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। তিনি বলেন-বর্ষা মৌসুমে যাতে বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গন রোধ করা যায় সেজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।