মো.মনজুর আলম, চকরিয়া:
চকরিয়ায় লাইসেন্স ছাড়াই যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার । উপজেলার রাস্থাঘাট, হাট বাজার এলাকা ও সড়কের মোড়ে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার, পেট্রোলসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ। যেখানে সেখানে অবৈধভাবে মজুদ করে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার বেচাকেনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ দোকানি বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই এ ব্যবসা করছে। এলপি সিলিন্ডার এখন পাড়া-মহলল্লার মুদি দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, এসব দোকানির অনেকেরই ট্রেড লাইসেন্স নেই। গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনারও সরকারি কোন দপ্তরের অনুমোদন নেই। এসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপক যন্ত্র। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিকারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে যে কোন সময় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী, সেবা গ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে এমন কোনো কাজ করলে তিন বছরের কারাদন্ড, বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডেদন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করে পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে যত্রতত্র বিক্রি করছে। দেশে সাধারণত উৎপাদনকারীর কারখানা থেকে ডিলাররা সিলিন্ডার ক্রয় করে। এরপর ডিলাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে এলপি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার পৌঁছায়। এক্ষেত্রে উৎপাদনকারীরা ডিলারদের কাছে সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সনদের বিষয়টি যাচাই করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চকরিয়া পৌরসভার ৫২টি দোকানে এবং উপজেলার উপকুলীয় মাতামুহুরী এলাকার ৭টি ইউনিয়নের ৪৪টি বিভিন্ন ছোট ছোট দোকানসহ, চকরিয়া উপজেলার আরো ১১ ইউনিয়নের প্রত্যকটি হাট বাজার ও ষ্টেশনে অন্তত ৬০টি স্থ্নের খুচরা বাজারের দোকান, রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে যত্রতত্র ফেলে রেখে বিক্রি করছে পেট্রোল ও এলপিজি সিলিন্ডার। এসব দোকানদার বেশিরভাগই বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স নেননি। তা ছাড়া তদারকির অভাবে ঝুঁকি জেনেও দোকানিরা সনদ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক দোকানে নানা ব্র্যান্ডের এলপি গ্যাস বোঝাই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও চা ও পানের দোকান ছাড়াও হার্ডওয়্যার, সিমেন্ট, মনোহরি ও মুদি সামগ্রী বিক্রির দোকানেও এলপি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার সাইফুল হাসান বলেন, আমি এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেড়শতাধিক গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান পরিদর্শন করেছি। এর মধ্যে ২৫টি দোকানে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স পাওয়া গেলেও ১২৯টি দোকানে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। এবং আমাদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের নিকট তাদের তালিকা দেয়া হবে।