নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ তুলেছেন মহেশখালীর এক আওয়ামী লীগ পরিবার। আনোয়ার পাশা চৌধুরীর হাত থেকে রক্ষা পেতে ওই পরিবার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পরিবারের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন বড় মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক ছাত্রলী-যুবলীগ নেতা মো. ফরিদুল আলম।
আনোয়ার পাশা চৌধুরী সম্পর্কে ফরিদুল আলমের আপন চাচা এবং চাচা শ্বশুর। ফরিদুল আলম সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার পাশা চৌধুরীর ও তার লালিত বাহিনীর ভয়ানক সন্ত্রসী র্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরেন।
ফরিদুল আলমের চাচা ও একাধারে শ্বশুর মরহুম মোস্তফা কামাল আনোয়ার পাশা চৌধুরীর আপন বড় ভাই। তার স্ত্রীরা ৫ বোন, তিন ভাই। যেহেতু তার শ্বশুর-শাশুড়ি মারা গেছেন তাই বোনেরা মিলে পৈত্রিক সম্পত্তি দাবী করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। গত ১০ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০টায় ফরিদের স্ত্রী জাহান আরা সহ অপরাপর বোনেরা পৈত্রিক সম্পত্তির ন্যায্য দাবী করে আমার শ্বশুর বাড়িতে ভাই ও চাচাদের সাথে যৌথ বৈঠক করে। বৈঠকের এক পর্যায়ে আনোয়ার পাশা এক পক্ষীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় মরহুম মোস্তফা কামালের ফকিরা ঘোনার এক কানি ৯০ খড়া আয়তনের বসত বাড়ীতে বোনেরা কোন অংশ পাবেন না। সব পাবে তার শ্বশুরের তিন পুত্রের মধ্যে দু’পুত্র আবছার কামাল ও আনছার কামাল।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তথা রাষ্ট্রীয় ঘোষণা পৈত্রিক সম্পতির সমহারে পাবে পুত্র-কন্যা সন্তানেরা। পরে সবাই মিলে আনোয়ার পাশা চৌধুরীর অন্যায় পক্ষপাত দুষ্ট বিচারের প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পদ ও ক্ষমতার লোভে অন্ধ জামাত-বিএনপির প্রেতাত্মা আনোয়ার পাশা চৌধুরীর নেতৃত্বে তঁার সাঙ্গ-পাঙ্গরা শালিস বৈঠকেই তার স্ত্রী, অংশীজন ও আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে মারধর করে আমাদের বৈঠক থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় আমার স্ত্রী ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ আনোয়ার পাশা চৌধুরীকে ১ নং আসামী করে আবছার, আনছার, মহসিনের নামে মহেশখালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনা এখানেই শেষ নয়। আমার স্ত্রী থানায় জিডি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পাশা চৌধুরী নির্দেশে তার লালিত বাহিনী জিডির একই দিন ১৩ ফেব্রুয়ারী দুপুর ১ টায় আমার চাষা জিয়াউর রহমান বেদম মারধর করে গুরুত্বর আহত করে। এ ঘটনার পাশা চৌধুরীর নামে মহেশখালী থানায় মামলা না নিলে পরবর্তীতে আমরা মহেশখালী সি.আর কোর্টে মামলা করা হয়। যা বর্তমানে কক্সবাজার পিআইবি তদন্ত করছে। শুধু তাই নয়, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা পাশা চৌধুরী ক্ষতার দাপট দেখিয়ে সম্পূর্ণ আজগুবি গল্প সাজিয়ে আমাকে ১ নং আসামী করে উল্টো ১৫ জনের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় জঘন্য একটি মামলা দায়ের করে। ঘটনার এখানেই শেষ নয়- ক্ষমতা ও দাপটের চূড়ান্ত বাহাদুরি দেখিয়ে আমাকে ভাতে-পানিতে মারতে পাশা বাহিনী ১৬ ফেব্রুয়ারী আমার ও আমার ব্যবসায়িক পার্টনার আহত জিয়াউর রহমানের মালিকানাধীন বড় মহেশখালী, ফকিরা ঘোনার কুতুবজুম মৌজার প্রায় ৭০ কানি আয়তনের লবণ উৎপাদন ক্ষেত্রে দিন-দুপুরে সশস্ত্র হামলা চালায়। প্রায় শতাধিক সশস্ত্র অস্ত্রধারী ক্যাডারদের হামলায় আমার প্রায় ২০জন লবণ শ্রমিক আহত হয়। লুটপাট করে মাঠে রক্ষিত ২ হাজার মন লবণ। পানিতে ডুবিয়ে দেয় লবণ ক্ষেত্র। ক্ষতির পরিমান অন্তত অর্ধ কোটি টাকা। ঘটনায় আতংকিত হয়ে আমি ও আমার পরিবার জীবন শংকায় কক্সবাজার পালিয়ে আসি। পরবর্তীতে এ ঘটনা আমি মৌখিক ভাবে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়, উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছি।

ফরিদুল আলম বলেন, বেপরোয়া পাশা বাহিনীর অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে গত ২৪ মে সকাল ১১ টায় আমার ও জিয়াউর রহমানের বিনিয়োগকৃত ফকিরা ঘোনার সশস্ত্র হামলা চালায় পাশার সন্া্ত্রসী ক্যাডাররা। এতে আমাদের অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার চিহ্নিত হামলাকারী ১৮জন ক্যাডারদের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত ২৬ মে মামলা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ভাল মানুষের মুখোশ পরা পাশার অত্যাচারের কাহিনী এখানেই শেষ নয়- বিগত ২৬ রমজান রাতে তারাবীসহ নামাজ শেষ করে আমি, ভাতিজা আজিজ, প্রতিবেশী রশিদ ও হাছান আলী পাশ্ববর্তী নয়াবাজারে বাজার করতে যাওয়ার পথে কৃষি ব্যাংকের সামনে পৌঁছলে উৎপাতে থাকা সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আমার ভাতিজা আজিজুল হককে অপহরণ করে। পরে নতুন বাজারের উপজেলা আওয়ামীলীগের অফিস খ্যাত পাশার টর্চার সেলে নিয়ে আজিজের উপর কয়েক ঘন্টার মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালায় পাশা ও তার লোকজন। পরে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রের নাটক সাজিয়ে আমার ভাতিজা পাশার নাতি আজিজকে মহেশখালী থানা পুলিশে সোপর্দ করে। কিন্তু পুলিশ পাশার ষড়যন্ত্র টের পেয়ে আজিজের বিরুদ্ধে আনা অস্ত্রের নাটক ভেস্তে দেয়। ঐ দিন ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর পাশার টর্চার সেলে রক্ষিত টেবিলের ড্রয়ার থেকে আরও একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে মহেশখালী থানা পুলিশ। কিন্তু অদ্যাবধি থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে পাশার ড্রয়ার থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি ভুলে গেছে। এসব সাজানো নাটকের ঘটনার পাশার চাপে পড়ে অপহৃত ভাতিজা আজিজকে থানা পুলিশ ৭/২৬ মামলার কোর্টে চালান দেয়। এই মিথ্যা ও কাল্পনিক মামলার আমিসহ ১০ জন আসামী। গত ১৯ জন আটক ভাতিজা আজিজ ও আমরা আদালত থেকে জামিন পাই। কিন্তু বাহিনীর ভয়ে এলাকায় যেতে পারছিনা। আমার স্ত্রীর ৫ বোন এখন ভয়, আতংকে পালিয়ে কক্সবাজার শহরে ভাড়া বাসায় বাস করছে।
ফরিদুল আলম বলেন, মূলতঃ পাশা চৌধুরী লোভ পড়েছে আমার স্ত্রী ও অংশীজনদের বসতবাড়িসহ প্রায় ২০ একর কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তির উপর। ভাতিজিদের উচ্ছেদ করে পাশা একাই এসব দখল করতে চান। আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমার উপর ধারাবাহিক এসব হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালাচ্ছেন তিনি। আমি ও আমার পরিবার পরিজন আপনাদের মাধ্যমে আনোয়ার পাশার লোমহর্ষক অত্যাচার, নির্যাতন থেকে বাঁচাতে চাই। চাই স্বাভাবিক জীবন ধারণের নিশ্চয়তা।

আমি ও আমাদের মত তৃণমূলের বঙ্গবন্ধুর আর্দশের সৈনিকদের বিনাশ করে পাশা চান তার ও চিহ্নিত জামাত ক্যাডার আজম সিদ্দিক ও মোতালেবের শাসন কায়েম করতে চান। তিনি ও তার সন্ত্রাসী ছেলেদের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রতিটি দূর্নীতিতে নিমজ্জিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন জামাত ও বিএনপি ক্যাডারদের পূর্নবাসনের কারখানা। এছাড়া তিনি কখনো মনে প্রাণে বঙ্গবন্ধু কন্যার আর্দশের আওয়ামীলীগ ছিলেন না- এর প্রমাণ-তিনি জিয়ার আমলে ছিলেন স্থানীয় গ্রাম সরকারের প্রধান। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামাত প্রার্থী মাষ্টার শফি উল্লাহ কুতুবী চীফ নির্বাচনী এজেন্ড। বিগত মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মহেশখালী আওয়ামী পরিবারের ধিক্কারের পাত্রে পরিণত হন। তাছাড়া দূর্নীতিগস্থ্র এ মানুষটি মাত্র কিছুদিন আগে মহেশখালীর কুখ্যাত এম.পি ঘোনা নামের চিংড়ি ঘের থেকে চাঁদা হিসেবে ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। যা মহেশখালীর সর্বমহলে জানা।
তিনি আরও বলেন, আমি পাশা তার সন্ত্রাসী পুত্রের নিয়ে গঠিতা ভয়ংকর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের হাত থেকে বাঁচতে চাই। আমি ও আমরা নির্যাতিতরা সবাই তার কাছের স্বজন। যিনি আপন স্বজনদের উপর নির্যাতন করেন তিনি কিসের রাজনীতিবিদ-এটাই আমার প্রশ্ন। আমি ও আমার পরিবার আনোয়ার পাশা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।