শফিক আজাদ, উখিয়া:
উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা গ্রামে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও জমির মালিকের মধ্যে সংঘর্ষে আব্দুস সালাম (৫৩) নামের একজন নিহত হয়েছে। সে ওই এলাকার মৃত সুলতান আহমদের পুত্র। এ ঘটনায় ওই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে নুর হোসেন (৩০)নামের আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসির মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, তার সাথে সমন্বয় না করে সম্প্রতি এনজিও সংস্থা মুক্তি ওই গ্রামে রাস্তা নির্মাণের কাজ করছে। যার কারনে এ ধরনের দূর্ঘটনা ঘটছে। তিনি এনিয়ে এনজিও সংস্থা মুক্তিকে দায়ী করেছেন।

নিহত আব্দুস সালামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮) অভিযোগ করে বলেন, এনজিও সংস্থা মুক্তির হয়ে স্থানীয় মোহাম্মদ সৈয়দ, আবুল কালাম, নুর কালাম, জসিম উদ্দিন, নুর আহমদ সহ ২০/২৫জন শ্রমিক কাজ করছিল। এসময় ফসলি জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নিয়ে যাওয়ার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শ্রমিকেরা আব্বার উপর হামলা চালালে সে অজ্ঞান হয় যায়। মুমুর্ষূ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে কর্তৃব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

এনজিও সংস্থা মুক্তির প্রজেক্ট অফিসার মোঃ জোনাইদ জানান, রাস্তা নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়া হলে আমরা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিই। কিন্তু পরোক্ষণে কতিপয় লোকজনের অনুরোধ নাকি শ্রমিকেরা আমাদের অজান্তে আবারো কাজ করিলে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত আব্দুস সালামও তাদের শ্রমিক বলে দাবী করেন সে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের বলেন, পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা নিহত একজনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এখনো কি ঘটনায় সে নিহত হয়েছে তা বিস্তারিত পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম বলেন, আমি এনজিও সংস্থা মুক্তির সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জেনেছি, রাস্তা নির্মাণের সময় কয়েকজন লোক বাধা দিলে তারা কাজ বন্ধ করে চলে আসে। কিন্তু পরবর্তী স্থানীয় লোকজনের মধ্যে এ নিয়ে তর্কাতর্কি হলে উভয় পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বাঁেধ, এতে আব্দুস সালাম নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি।