মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জ অধীনে বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে শতবর্ষী মাদার ট্রি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী বিট কর্মকর্তা রেজাউলের নেতৃত্বে দুই ভিলেজারের সহযোগিতায় চলছে এ কর্মকাণ্ড। সরেজমি জানা গেছে, খুটাখালী বন বিট আওতাধীন কেশ খোলা (সাপপুরা) ও তানজুক কাটা নামক এলাকা থেকে অর্ধ ডজন মাদার ট্রি গর্জন গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে এ অপকর্মে বিট কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেছে আবুল কালাম ও ছৈয়দুল হক নামের এ দুই ভিলেজার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিট কর্মকর্তা রেজাউল যোগদানের পর থেকে দুই ভিলেজারের নেতৃত্বে চলছে শতবর্ষী মাদার ট্রি বিক্রির মহোৎসব। গত ২২ মে রাতে কেশ খোলা (সাপপুরা) নামক এলাকা থেকে পাঁচটি শতবর্ষী গর্জন গাছ রাতে সংগোপনে কাটে বিক্রি করে দিয়েছে। গাছগুলো টুকরো-টুকরো করে ভেন গাড়ি যোগে সদর উপজেলার ঈদগাঁওর সমিলে বিক্রি করে দেয়।
পরে বিষয়টি জনসম্মুখে খোলাসা হওয়ায় রেঞ্জ কর্মকর্তার নির্দেশে গাছের কিছু টুকরো খুটাখালী বিট অফিসে নিয়ে আসে বন বিভাগের লোকজন। সরেজমিনে যাচাই করতে খুটাখালী বিট অফিসে যাওয়া হলে কাটা গর্জনগাছ গুলোর আগা ও গোড়ার অংশগুলো মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু মাদার ট্রির মাঝখানের অংশগুলো পাওয়া যায় নি। ধারণা করা হচ্ছে এসব গাছ গোপনে বিক্রি করে দিয়ে বিট কর্মকর্তা ও জড়িতরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে।
খবর পাওয়া গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে তানজুক কাটা নামক এলাকা থেকে একটি বিশালাকার শতবর্ষী মাদার ট্রি গর্জন গাছ কেটে গোপনে বিক্রি করে দিয়েছে বিট কর্মকর্তা ও তার দল। পরে মাদার ট্রি গাছটি কোথায় নিয়ে গেছে তার হদিস পাওয়া যায় নি। এভাবে দিনের পর দিন উধাও হয়ে যাচ্ছে খুটাখালী বনের শতবর্ষী মাদার ট্টি। নিরেপক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসবে আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এতে পরিবেশ ভারসাম্যহীন হওয়ার পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে সরকারী কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
এ ব্যপারে জানতে খুটাখালী বিট কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চুরি করে গাছ বিক্রির বিষয় অস্বীকার করেন। তিনি বলেন চুরি হয়ে যাওয়া গাছের অংশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এখানে জড়িত কে কে আছে জানতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। গাছের মাঝখানের অংশগুলো কোথায় জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন প্রকার সদুত্তর দিতে পারে নি।
এ ব্যাপারে ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা ছৈয়দ আবু জাকারিয়া জানান, খুটাখালী বিট কর্মকর্তা রেজাউলসহ ভিলেজার আবুল কালাম ও ছৈয়দুল হক গাছ কাটার কাজে জড়িত আছে কিনা তিনি জানেন না। ওই বিটের আওতাধীন বনভূমি থেকে গাছ কাটা হয়েছে খবর পেয়ে জরুরী ভিত্তিতে এসব গাছ উদ্ধার করতে নির্দেশ দিয়েছি। পরে গাছগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।