ডেস্ক নিউজ:
উগ্র-জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের প্রচারণা ও সরকারের বিরুদ্ধে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে ‘মিয়ানমারের বিন লাদেন’ খ্যাত আশিন ভিরাথুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে দেশটির আদালত৷ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে বেসামরিক প্রশাসনের দায়ের করা এক মামলায় মঙ্গলবার (২৮ মে) তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে ভিরাথুর বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি।

মিয়ানমারের আইন অনুয়াযী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। মুসলিমবিরোধী প্রচারণা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী মিয়ানমারের ‘বিন লাদেন’ হিসেবে পরিচিত হয় ভিক্ষু আশিন ভিরাথু। ২০১৩ সালে ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদেও তাকে তুলে ধরা হয়েছিল।

সম্প্রতি দেশটির সেনাবাহিনীর ক্ষমতা সীমিত করে সংবিধান সংশোধন করার পদক্ষেপ নেয় মিয়ানমার সরকার৷ সংবিধান সংশোধনে সরকারের এ উদ্যোগের প্রতিবাদে সমাবেশ করেন ভিরাথু। সে সময় তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নেতা অং সান সুচির বিরুদ্ধে বিদেশিদের সঙ্গে ‘অবৈধ সম্পর্ক’স্থাপনের অভিযোগও করেন৷

২০১৭ সালে ‘বুদ্ধিস্ট বিন লাদেন’ খ্যাত ওই ব্যক্তির জনসম্মুখে কথা বলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। জেষ্ঠ্য সন্ন্যাসীদের এক কাউন্সিল ‘ঘৃণাযুক্ত বক্তব্য’ প্রচারের অভিযোগে তার ওপর ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০১৮ সালের মার্চে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে গেছেন ভিরাথু। ফেসবুকও তাকে নিষিদ্ধ করেছিল। ২০১৮ সালের অক্টোবরে সেনা-সমর্থনে অনুষ্ঠিত মিছিলে তিনি বলেন, ‘আইসিসি যেদিন এখানে ঢুকবে.. সেদিন থেকেই আমি একটি বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে যাব’।

এর আগে ২০০৩ সালে ভিরাথুকে আটক করেছিল মিয়ানমারের সামরিক সরকার। পরে ২০১২ সালে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে মুসলিমবিরোধী প্রচারণা শুরু করেন তিনি। সে সময় দেশটির রাখাইন রাজ্যে জাতিগত সহিংসতা দেখা দিলে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যায়৷