শাহীন মাহমুদ রাসেল

পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই যখন ঈদ আগমনের আনন্দে মত্ত। তখন বেকার দিন কাটাচ্ছেন কক্সবাজারের প্রায় ৪৬ হাজার জেলে। ঈদের নামমাত্র আনুষ্ঠ‍ানিকতা থাকলেও কোনো আনন্দ নেই জেলার উপকূলের জেলে পল্লীগুলোতে।

সাগরে এখন গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাছ বড়ই হতে পারে না। এসব মাছের এখন প্রজনন মৌসুম। ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকলে এসব মাছের আকার ও পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। তাই ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন জেলেরা। বেকার হয়ে পড়া জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। ফলে ঈদ আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে তাদের।

উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা ও জেলে পল্লীগুলো ঘুরে দেখা যায়, নিস্তব্ধ হয়ে আছে মৎস্য ঘাট। নেই জেলেদের কোনো ব্যস্ততা আর হাঁকডাক। প্রায় প্রতিটি জেলে পরিবারেই চলছে টানাপোড়েন। অনেকই পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের দিনও ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবেনা বলে জানিয়েছেন।

বিভিন্ন মৎস্য ঘাট ঘুরে ও মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ নদীতে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তাদের পুনর্বাসন না করায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

পরিবার-পরিজনকে নিয়ে দু’বেলা দু’মুঠো আহার যোগাতেই এখন চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় ঈদ এলেও কোনো আনন্দ উৎসাহ নেই তাদের মনে।

খুরুশকুল গ্রামের জেলে কফিল উদ্দিন জানান, স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে তার সংসার। প্রতিদিন মাছ ধরে যে অর্থ পেতেন তা দিয়ে কোনোরকমে দিন চলে যেতো তার। ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের কারণে সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। ঈদে ছেলেদের নতুন পোশাক কিনে দিতে পারবেন না।

ফিসারীঘাট রাস্তার মাথা এলাকার জেলে মো. ইউসুফ বলেন, গত রোজার ঈদে ছেলে-মেয়েদের নতুন পোশাক কিনে দিতে পারিনি। মনে করেছিলাম এবার ঈদে কিনে দেব। কিন্তু ৬৫ দিনের জন্য বেকার হয়ে কোনো কামাই নাই। দুই বেলা ঠিকমতো খাবার জোটানোই কষ্ট।

জেলে লিটন বলেন, যে মূহুর্তে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পড়ছে সে মূহুর্তে মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করায় তারা আশাহত হয়েছেন।তারা অনেকেই মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জাল ও নৌকা কিনেছেন। কিন্তু সে টাকা এখন শোধ দিতে পারছেন না।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর তেমন একটা মাছ ধরা পড়বে না। ফলে দাদন নেওয়া জেলেরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এদিকে, ৬৫ দিন ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুদ নিষিদ্ধ করায় পাল্টে গেছে মৎস্য ঘাটের চিরচেনা দৃশ্যপট। জেলে ও মৎস্য আড়ৎদারদের হাকডাকে মুখরিত ফিশারীঘাটে এখন সুনশান নীরবতা। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে মৎস্য ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় বেকার জেলেদের মুখে ঈদও হাসি বয়ে আনতে পারবেনা।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা বলেন, বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। তবে এখন তা অনুমোদন হয়ে ৪০ কেজি করে চাল পাচ্ছে জেলেরা।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সবার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আশাকরি কোন জেলে পরিবার সহায়তার বাইরে থাকবে না। শিগগিরই প্রত্যেকের কাছে সহায়তা পৌছে যাবে।