এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়ারছড়াস্থ পাহাড়ি গ্রামে গভীর রাতে পুলিশ আসছে ভয় দেখিয়ে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধুকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আক্রান্ত গৃহবধুর মা বাদি হয়ে গত ২৭ মার্চ চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আলোচিত দা বাহিনীর কিলার মোহাম্মদ ইসমাইলসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি নালিশী মামলা করেছেন। আদালতের বিচারক বাদির নালিশী অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আর্জিতে বাদি উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মধ্য বানিয়ারছড়া গ্রামের আবুল হোছনের স্ত্রী মালেকা বেগম (৪৫) দাবি করেন, তাঁর বড়মেয়ে (নাম গোপন রাখা হলো) বানিয়ারছড়াস্থ পাহাড়ি গ্রামে পরিবহন শ্রমিক স্বামীকে নিয়ে আলাদা বাড়িতে বসবাস করেন। তাঁর স্বামী পরিবহন শ্রমিক হওয়ায় প্রায় সময় বাড়িতে থাকেনা। এ সুযোগে বানিয়ারছড়া এলাকার আলোচিত দা বাহিনীর অন্যতম কিলার ইসমাইল বিভিন্ন সময়ে তাঁর মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিত। সর্বশেষ গত ২৩ মার্চ রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাড়িতে স্বামী না থাকার সুযোগে দা বাহিনীর কিলার ইসমাইল তাকে ধরতে পুলিশ এসেছে, আমাকে একটু লুকিয়ে থাকার সুযোগ দেয়, এ ধরণের কথা বলে আমার মেয়েকে বাড়ির দরজা খুলতে বাধ্য করেন।

বাদি আর্জিতে আরও বলেন, দরজা খোলার পরপর কিলার ইসমাইল বাড়িতে ঢুকে আমার মেয়েকে প্রাণে মারা ভয় দেখায় এবং একপর্যায়ে শোভারঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্ঠা করে। ওইসময় তাঁর শোর-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত দা বাহিনীর কিলার ইসমাইল পালিয়ে যায়।

বাদি মালেকা বেগম অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পরদিন ২৪ মার্চ বেলা ১১টার দিকে আমি, আক্রান্ত মেয়ে এবং অপর ছোট মেয়েকে নিয়ে চকরিয়া উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। ওইসময় বাড়ির অদুরে বানিয়ারছড়া স্টেশনের একটু পশ্চিমে পথরোধ করে কিলার ইসমাইল ও তাঁর সহযোগিরা আগের রাতের ঘটনায় আইনী কোন ধরণের ব্যবস্থা নিতে থানা অথবা আদালতে যাচ্ছি অনুমান করে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। ঘটনার সময় আমাকে এবং আমার দুই মেয়েকে বেদড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার একপর্যায়ে আমাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও শরীরে থাকা বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি দেখে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আমাদেরকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।

বাদি মালেকা বেগম ও ধর্ষণ চেষ্ঠার শিকার তাঁর বড় মেয়ে অভিযোগ করেছেন, আদালতে দা বাহিনীর কিলার ইসমাইলসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করায় বর্তমানে অভিযুক্তরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। যে কোন মুর্হুতে আমাদের বাড়িতে হামলা করবে, রাতের বেলায় বাড়িতে আগুন দেবে, এমনকি আমাদেরকে প্রাণে হত্যা করবে। এ ধরণের হুমকিতে বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এলাকাবাসি সুত্রে জানা গেছে, বানিয়ারছড়া পাহাড়ি জনপদের আলোচিত অপরাধ জগতের সম্রাট দা বাহিনীর কমান্ডার শাহজাহান ইতোমধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে দুইপক্ষের গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন। তারপর থেকে অভিযুক্ত ইসমাইল অঘোষিতভাবে দা বাহিনীর মধ্যমনি হয়ে বর্তমানে বানিয়ারছড়া পাহাড়ি জনপদের অপরাধ কর্মকা- পরিচালনা করছেন। অভিযুক্ত ইসমাইলের বিরুদ্ধে বর্তমানে অন্তত পাঁচটি বন মামলা রয়েছে।