কার পাল্লা ভারী?

প্রকাশ: ৩০ মার্চ, ২০১৯ ১০:৪৫ , আপডেট: ৩০ মার্চ, ২০১৯ ১০:৫৩

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


এম এ সাত্তার
আজ রাত পোহালেই বহুল প্রতীক্ষিত ও আলোচিত কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে কে হচ্ছেন সদর উপজেলা পরিষদের অভিভাবক? চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কায়সারুল হক জুয়েল (নৌকা), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আবছার (ঘোড়া), সেলিম আকবর (আনারস)। এ চারজনের মাঝে কে হবেন সদর উপজেলা পরিষদের অভিভাবক? এখন আলোচনা কে হচ্ছেন সদর উপজেলা পরিষদের অভিভাবক? কার পাল্লা ভারী? শেষ হাসি কে হাসবে? অথবা ভোটের শেষ হিসাব কি দাঁড়াবে ? ভোটাররা চাইছে নির্বাচনে যোগ্যপ্রার্থীকে বেঁছে নিতে। কে কাকে ভোট দিবে, তা নিয়ে মাঠে-ঘাটে, চায়ের দোকান, রাস্তা-ঘাটে আলোচনা-পর্যালোচনার ঝড় বইছে।
অনেকে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কৌশলগত দেখলেও নির্বাচনে এ চারজনের লড়াইয়ে রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের চাওয়া পাওয়ার মূল্য দেবেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চেয়ারম্যান হিসেবে যিনি আগামী দিনে উপজেলাবাসীর সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারবেন এমন ব্যক্তিকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে চাইবেন। নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়া মাদক, বাল্যবিবাহ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠনে যে ভূমিকা রাখতে পারবে তাকেই ভোট দেবেন সচেতন ভোটারগণ।
এদিকে বসে নেই ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী
হাসান মুরাদ আনাচ (টিয়া), রশিদ মিয়া (বই), কামাল উদ্দিন (তালা), আমজাদ হোসেন ছোটন রাজা (টিউবওয়েল), বাবুল কান্তি দে( মাইক), কাজী রাসেল আহাম্মেদ নোবেল (গ্যাস সিলিন্ডার), মোর্শেদ হোছাইন তানিম (উড়োজাহাজ), কাইয়ুম উদ্দিন এবং সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান হেলেনাজ তাহেরা (প্রজাপতি), আয়েশা সিরাজ( পদ্মফুল), হামিদা (ফুটবল)।
তারাও নিজেদের বিজয়ের জন্য নিজ নিজ কৌশল কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। শেষ সময় নিজেদের প্রতীকে ভোট আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২২৮.২৩ কি:মি:, ৮৮.১২ বর্গমাইল আয়তনের কক্সবাজার সদর উপজেলা ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৪জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৮টি। ভোট গ্রহন কক্ষ ৬৪৮ টি। উল্লেখ্য যে, জাতীয় পার্টির শাসনামলে উপজেলা সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর ১৯৮৫ সালে প্রথম ও ১৯৯০ সালে ২য় নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে উপজেলা সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। এরপর ২০০৮ এর ৯ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গিয়ে ফের উপজেলা সরকার পরিষদ ব্যবস্থা চালু করে। এরপর ২০০৯ সালের ৩য় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট শাহাবুদ্দিন আহাম্মদকে পরাজিত করে জয় লাভ করেন এডভোকেট সলিমউল্লাহ বাহাদুর। তবে ২০১৪ সালের চতুর্থ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মাবুদ চেয়ারম্যানকে পরাজিত করে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী জিএম রহিম উল্লাহ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই সাথে ভাইস চেয়ারম্যান দু’টি পদে (পুরুষ) শহিদুল আলম বাহাদুর ও (মহিলা) হেলেনাজ তাহেরা নির্বাচিত হন।