স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরীঃ
কক্সবাজারের পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রশ্নবিদ্ধ ভুমিকা আর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় প্রভাবশালীরা একের পর এক পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ জেলাবাসীর। পাহাড় আর প্যারাবন ধ্বংস করে ও প্রবাহমান খালে বাঁধ দিয়ে বহুতল ভাবন আর চিংড়িঘের তৈরীর মহোৎসবে মেতে উঠেছে প্রভাবশালীরা। দখল করে নিচ্ছে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ।
জানা যায়, মাস খানেক ধরে চকরিয়া উপজেলার উপক’লীয় অঞ্চল বদরখালীর দেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন খ্যাত রামপুর নামক এলাকায় এলাকার কিছু প্রভাবশালী মানুষ অর্ধশত একর পরিমান প্যারাবন কেটে প্রবাহমান বুরামাতামুহুরী খালে বাঁধ দিয়ে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে চিংড়ি ঘের তৈরীর মহোৎসবে মেতে উঠেছে। আর এতে করে যেমন ধ্বংসের মুখে পরিবেশ প্রতিবেশ তেমনি হাজারো জেলের জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হবে। এ নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সরেজমিনে জানা যায়, বদরখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আলী, আমিরখালী পাড়ার নাদের হোছনের ছেলে রমিজ উদ্দিন, আব্দুল হামিদের ছেলে মোঃ পাখি, কলেজ পাড়ার জিয়াবুল করিম, আবুল কাশেম, গোদামপাড়ার ছিদ্দিক আহমদ, নুরুল আলম, কামাল উদ্দিন, কুতুবদিয়া পাড়ার জাহাঙ্গির আলম, ঈদমনির মিনহাজ উদ্দিন সহ একটি প্রভাবশালী চক্র অর্ধশতাধিক একর প্যারাবনের হাজার হাজার বাইনগাছ কেটে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে প্রবাহমান ভরামাতামুহুরী খালে বাঁধ দিচ্ছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী পানির ঢল বাধাগ্রস্থ হয়ে বন্যায় প্লাবিত হয়ে বদরখালী সহ চকরিয়ার পশ্চিমাংশের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের ঘরবাড়ী বিধ্বস্থ হয়ে অমানবিক দুর্ভোগে পড়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। তেমনি আবার পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংশের মুখে পড়ে বিপন্ন হতে পারে স্বাভাবিক জীবনের। কিন্তু কে শুনে কার কথা?
অন্যদিকে খালটি বন্ধ করে চিংড়িঘের নির্মান করলে ২৮ মৎস্যজীবি পরিবারের ৪২ একরের একটি চিংড়িঘের ও অকার্যকর ও প্রভাবশালীদের করায়ত্ব হয়ে পড়বে বলে অভিযোগ করেন ২৮ পরিবারের পক্ষে বদরখালী ইউনিয়নের নাছির উদ্দিন, সোহেল উদ্দিন, মোঃ শাহজাহান ও ফোরকান, ইলিশিয়ার আরমান উল্লাহ ও আব্দুল হক, ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের মনির উদ্দিন ও এনামুল হক। তারা বিষয়টি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে ও জানা গেছে। তাদের দাবী, ৪০ বছর আগে সরকার থেকে লীজ নেওয়া ২৮ মৎস্যজীবি পরিবারের ৪২ একরের একটি চিংড়িঘের দখলের পাঁতারা করছে। বিষয়টি গত ২৭ মার্চ সরেজমিনে তদন্ত করতে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) খন্দকার ইফতেকার উদ্দিন আরফাত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্যারাবন ধ্বংশের আলামত পেয়েছেন বলে জানান এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার সত্যতা পাই। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছি। এবং আমাদের হাতে অপরাধীদের যে তালিকা আসছে তা খতিয়ে দেখছি। আগামী সপ্তাহে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, বিষয়টি শুনার পরপরই পরিবেশ অধিদপ্তর সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দোষিদের ব্যাপারে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ ধ্বংস করে এমন কোন কার্যক্রম কাউকে করতে দেওয়া হবেনা। পরিবেশ ধ্বংসকারীরা যতবড় প্রভাবশালীই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি।