এম আবুহেনা সাগর, ঈদগাঁও:
কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেষ মুহুর্তেই ত্রিমুখী লড়াই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। গ্রামীন জনপদে চষে বেড়াচ্ছে হেভিওয়েট চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী কায়সারুল হক জুয়েল, আনারস প্রতীকের বৃহত্তর ঈদগাঁওর সেলিম আকবর এবং ঘোড়া প্রতীকে চারবারের কক্সবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নুরুল আবছার নিবার্চনী প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত। তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী কোমর বেঁধে ভোটের লড়াইয়ে নিবার্চনী মাঠে অবস্থান করছেন। ব্যাপক গনসংযোগ,পথসভা ও গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া সাধারন ভোটারদের কাছ থেকে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছে।

নৌকার প্রার্থী জুয়েল পৌর এলাকা পেরিয়ে ঈদগাঁওর বিভিন্ন স্থানে গনসংযোগও পথসভা অব্যাহত রেখেছেন। ইসলামপুর, ইসলামাবাদ, পোকখালী, জালালাবাদ, চৌফলদন্ডী, ভারুয়াখালী এবং ঈদগাঁও ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে ব্যস্ত সময় পার করছে জুয়েল। ছুটে চলছে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ভোটের প্রার্থনায় ভোটারের কাছে। জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি একেএম মোজাম্মেল হকের সুযোগ্য সন্তান কায়সারুল হক জুয়েল শহর এলাকার পাশাপাশি সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে ঘাটে নিবার্চনী প্রচার প্রচারনা অব্যাহত রেখেছেন।

আনারস প্রতীকে শ্রমিক নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী সে‌লিম আকব‌র বৃহত্তর ঈদগাঁওসহ নিবার্চনী এলাকার গ্রামাঞ্চলে চষে বেড়াচ্ছেন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আনারসের প্রচারণা জমে উঠছে। সে‌লিম আকবর আনারস মার্কা নিয়ে সাধারন মানুষের কাছে ভোট ভিক্ষায় মেতে উঠছে। নিবার্চনী গন সংযোগ, পথসভা যেন জনসভায় রূপ নেয়। গ্রামাঞ্চলে ভোটের লড়াই আর প্রচারনায় তিনিই এগিয়ে। বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকা থেকে একজনমাত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন বলে মনে করে ভোটার। আনারসের পক্ষে নারীরাও নিবার্চনী গনসংযোগে ব্যস্ত।
বৃহত্তর ঈদগাঁওর প্রতিটি পাড়া মহল্লায়ন সেলিম আকবরের নাম। একবুক স্বপ্ন নিয়ে ভোটারদের ভালবাসায় বিরতিহীন প্রচারনার এগিয়ে যাচ্ছে। আত্বীয় স্বজন ও সমর্থকরা ব্যাপক প্রচারনা অব্যাহত রেখেছেন।

সাবেক সফল পৌর পিতা, মুক্তিযোদ্বা কমান্ডার নুরুল আবছার ঘোড়া প্রতীক নিবার্চনী প্রচারনায় ফের মাঠে নেমেছেন। তিনি পৌরসভাসহ বৃহত্তর ঈদগাঁওর নানা স্থানে ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন। তার পক্ষে রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। প্রচারণায় সময় কম পেলেও নুরুল আবছারকে ফেলে দেয়ার মতো নয়।

সাধারণ মানুষের অভিমত, যে প্রার্থী বৃহত্তর ঈদগাঁওর ভোটারদের মন জয় করতে পারবে- তিনিই হয়তো শেষ হাসি হাসবে। অতীত রেকর্ডে সব চেয়ারম্যান কিন্তু বৃহত্তর ঈদগাঁওর।

আগামী ৩১ মার্চ সদরের ভোট। এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৪ জন। মোট ১০৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কক্ষ রয়েছে ৬৪৮টি।
সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার শিমুল শর্মা জানিয়েছেন, প্রতিটি কক্ষে ইভিএম ব্যালট ইউনিট থাকবে তিনটি করে। আর কন্ট্রোল ইউনিট থাকবে ৬৪৮টি। এ ছাড়া কোনো ইউনিটে টেকনিক্যাল ত্রুটি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লেস করার জন্য অতিরিক্ত ১০০টি ব্যালট ইউনিট মজুত রাখা হবে। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।