কামাল হোসেন, রামু (কক্সবাজার):
রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা গ্রামের কালাঘোনা এলাকায় চলছে নির্বিচারে পাহাড় কাটা।এলাকার কিছু স্বার্থ লোভি মহল নিজেদের আখের গুছাতে পরিবেশের কথা চিন্তা না করে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিন দুপুরে এধরনের নেক্কার জনক কাজ করে চলছে।সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায় উখিয়ারঘোনার কালাঘোনা এলাকায় আঁধার মানিকের একটু আগে মোস্তক আহাম্মদ ও আজিজ মিয়ার বসবাসরত দখলীয় পাহড়গুলো দিন দুপুরে স্কেভেটর দিয়ে কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছে।প্রতিদিন কয়েকটি পিকআপ করে মাটি নিয়ে যাওয়া হয়।ফলে চলাচলের রাস্তাটি এখন বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে।স্থানীয় জনসাধারনের দুুর্ভোগ এখন চরমে।পরিদর্শন কালে পাহাড় কর্তনকারী মোস্তাক আহাম্মদের ছেলে আবুল মনছুর(ছদ্ধনাম)প্রতিবেদককে জানান,তার বাবা ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে।প্রতিদিন ৩-৪ টা পিকআপ নিয়ে মাটি নিয়ে যাওয়া হয়।পিকআপ গুলো তাদের চলাচলের রাস্তা নষ্ট করতেছ।রাস্তায় প্রচুর ধুলাবালি জমে গেছে।স্কুলে যেতে মসস্যা হয়।ধুলামাখা গায়ে স্কুলে গেলে স্যারেরা বকা দেয়।ছোট্ট ছেলে সেও জানে তার বাপ পাহাড় কেটে অন্যায় কাজ করছে।কিন্তু কোন প্রতিবাদ করতে পারে না।ওই এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্ধা মোহাং আব্দুল্লাহ (৩৫) বলেন,এখানে প্রতিনিয়ত পাহাড় কেটে পিকআপ ভরে মাটি নিয়ে যায়।পিকআপ গুলো আমাদের চলাচলের রাস্তা নষ্ট করে পেলতেছে।আমাদের কোথাও যাতায়াত করতে প্রচুর কষ্ট হয়।বাচ্চারা স্কুলে যেতে বিভিন্ন সমস্যায় সম্মুখিন হচ্ছে।রাস্তার ধুলাবালির কারনে আমাদের নিউমিনিয়া,শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগ ব্যাধি লেগে আছে।কাটা পাহাড়ের পার্শে নিজের কৃষি জমিতে কাজ করছেন স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আবু বক্কর(৩৮) তিনি প্রতিবেদককে দেখে দৌড়ে এসে বলেন, এই এলাকায় অনেক গুলো পাহাড় কেটে প্রতিনিয়ত পাশের ইটভাটায় মাটি নিয়ে যায়। পরিবেশতো নষ্ট হচ্ছেই,পাশাপাশি আমাদের চলাচলের রাস্তাও নষ্ট হচ্ছে।আমাদের বাচ্ছারা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ধুলামাখা শরির নিয়ে।ওদের শরিরের অবস্থা এমন হয়ে যায় অনেক সময় আমরা তাদের চিনতেও পারিনা।এলাকার আরেক প্রবিণ মুরব্বি সাবেক মেম্বার আজিজুল হক(৬৭) বলেন,আমাদের দেখার কেউ নেই।আমাদের এলাকায় রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক সমৃদ্ধ ৩৫০ বছরের স্মৃতি ঘেরা ঐতিহাসিক আঁধার মানিক।আগে প্রচুর পর্যটক আসতো।বর্তমানে যোগাযোগ ও পরিবেশ ভালো না থাকায় স্থানীয় লোকজনও এটি দেখতে যায় না।এই সবের জন্য তিনি পাহাড় কাটা,রাস্তা দখল করে ইটভাটা নির্মান,অনুন্নত যাতায়াত ব্যাবস্থাকে দায়ী করছেন।এলাকার স্থানীয় বর্তমান মেম্বার রফিকুল আলম ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তাক আহাম্মদ প্রতিবেদককে জানান,তাদের কাছে পাহাড় কাটা সংক্রান্ত কোন তথ্য নেই।তারা এসব ব্যাপারে কিছুই জানেনা।কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে থাকে তাহলে এটি চরম অন্যায়।এদের আইনের আওতায় আনতে সর্বার্থক সহযোগীতা করা হবে বলে জানান দু’জনই।চেয়ারম্যান মোস্তাক আহাম্মদ আরো বলেন,তিনি মনিরঝিল গ্রামের উন্নয়ন মুলক কাজের পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে দন্ডয়মান একটি মাটি কাটার স্কেভেটর দেখেছেন।তবে কোন পাহাড় কাটতে দেখেন নি। এছাড়া আর কোন তথ্য তার কাছে নেই বললেন স্থানীয় চেয়ারম্যান।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান বলেন,পাহাড় কাটার কোন সংবাদ তিনি এখনো পর্যন্ত পাই নি।সংবাদটি না পাওয়ার জন্য তিনি স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যানকে দোষারুপ করেন।তিনি পাহাড় কাটা বন্ধের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রতিবেদককে জানান।