আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ব্রাশ ফায়ার করে আটজনকে হত্যাসহ আরো ২৮জনকে গুলিবিদ্ধ করে আহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সন্দেহভাজন দুই জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী।

আটককৃতরা হলো ইউপিডিএফকর্মী লারেচন্দ্র চাকমা ও জেএসএস কর্মী ত্রিদিব চাকমা।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে রাঙামাটির লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার পৃথক দু’টি স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এই দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কর্তৃপক্ষ।

খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে গত ১৮ই মার্চ নির্বাচন শেষে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার পথে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের অতর্কিত সশস্ত্র হামলার নৃশংসভাবে আটজনকে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত দুই সন্ত্রাসীকে চলমান অভিযানের মাধ্যমে আটক করতে সক্ষম হয়েছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা।

২৮ মার্চ ২০১৯ তারিখ গভীর রাতে লংগদু সেনাজোনের দুইটি পৃথক অভিযান দল বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন যৌথখামার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ত্রিদিব চাকমা এবং বামে লংগদু এলাকা থেকে লারেচন্দ্রকে গ্রেফতার করে। সেনা রিজিয়ান কর্তৃপক্ষ জানান, গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী ত্রিদিব চাকমা জেএসএস (মূল) দলের এবং লারেচন্দ্র ইউপিডিএফ (মূল) এর সক্রিয় সদস্য। গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদ্বয়ের মধ্যে লারেচন্দ্র উক্ত এলাকায় অবৈধ চাদা সংগ্রহের সাথেও জড়িত বলে জানিয়েছে রিজিয়ন কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, গত ১৮ মার্চ ২০১৯ তারিখ বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার সময় নয় মাইল নামক এলাকায় দুটি চান্দের গাড়ীর উপর সন্ত্রাসীরা অতর্কিত গুলি বর্ষন করলে ঘটনাস্থলেই ০৭ জন নিহত হন এবং ১৮ জন আহত হয়। উক্ত হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তাবাহিনী দৃষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতারে সাড়াশি অভিযান শুরু করেছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দু’সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেনিরাপত্তা বাহিনীর একজন উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ড সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার প্রেক্ষিতে অন্যান্য সন্ত্রাসীদেরও গ্রেফতারে চলমান সাড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে মর্মে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।