এ কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলার কৈয়াবিল ইউনিয়নের খিলছাদক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতায় শিক্ষাকার্যক্রম মারাতœকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ছয়জন শিক্ষকের পদ থাকলেও গত এক বছর ধরেই শিক্ষক ছিলেন প্রধান শিক্ষকসহ তিনজন। এ শিক্ষক স্বল্পতার মধ্যেও সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকের অন্যত্র বদলীর আদেশ হওয়ায় এখন ওই বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম নির্ভর করছে মাত্র ২ জন সহকারী শিক্ষকের উপরই। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি সচল না থাকা এবং সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরদারীল অভাবে এখন বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছে অনেকটা ঢিলাঢালা ভাবে। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষায়ও এ বিদ্যালয় থেকে কোন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেনি। বিষয়টি নিয়ে ওই বিদ্যালয়ে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবরাও তাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন। আবার কেউ কেউ তাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত চিন্তা করে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বেলাল উদ্দিন বলেন, খিলছাদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি একটি প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী থাকলেও উল্লেখযোগ্য কোন শিক্ষক নেই। গত এক বছর ধরে বিদ্যালয়ের ২০১ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র ৩ জন। সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকও বদলীর আদেশ নিয়ে অন্যত্রে চলে যাচ্ছেন। এখন মাত্র ২জন শিক্ষকের উপরই নির্ভর করছে বিদ্যালয়টির দুইশতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্লাস্টার অফিসারও পরিদর্শনে আসেন কালে-ভাদ্রে। এ কারণে প্রাচীনতম এ বিদ্যালয়টি এখন ক্রমশ শিক্ষার্থী শূন্য হতে চলছে। ২০১৮ সালে এ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণী থেকে ৪৪জন শিক্ষার্থী পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও বর্তমানে রয়েছে ২১জন শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছাবের আহমদ বলেন, এ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রাখা হয়েছে। এ কারণে প্রধান শিক্ষক ও ক্লাস্টার অফিসার যে যার মতোই কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানের প্রতি কারো কোন সু-নজর নেই। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী বিদ্যালয়টিতে যেখানে ৬জন শিক্ষক প্রয়োজন সেখানে দীর্ঘ একবছর ধরে রয়েছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষক। সম্প্রতি চুপে চুপে প্রধান শিক্ষকও বদলীর আদেশ নিয়ে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছেন। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীরাও অন্যত্রে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ হোছাইন সাঈদী জানান, তিনি থাকেন স্বস্ত্রীক রামুতে। রামু থেকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। এ জন্য মন্ত্রনালয় থেকে বদলীর আদেশ নিয়েছেন তিনি ।

উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও খিলছাদক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্লাস্টার অফিসার বিকাশ ধর জানান, শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি আমি অবগত আছি। প্রধান শিক্ষকের বদলীর বিষয়টি মন্ত্রনালয়ের ব্যাপার। অল্প সময়ের মধ্যেই ওই বিদ্যালয়ে একজন হলেও নতুন শিক্ষক পোষ্টিং দেওয়া হবে। গত এক বছর ধরে বিদ্যালয় পরিদর্শনে না যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সত্য নয়। বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওইদিন প্রধান শিক্ষক আলমিরার চাবি না নেওয়াতে পরিদর্শন খাতায় স্বাক্ষর করতে পারিনি।

চকরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গুলশান আক্তার বলেন, খিলছাদক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে জোর চেষ্ঠা চলছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদলী হলেও অন্য একজন শিক্ষক যোগদান করার আগে তাঁকে ছাড়া হবেনা। এছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও একজন শিক্ষককে পোষ্টিং দেওয়া হবে। ফলে চারজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ফিরে আসবে বলে আশবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।