মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

পন্ঞ্চম উপজেলা পরিষদ পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থধাপে কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার ১০৮ ভোটকেন্দ্রে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে রোববার ৩১ মার্চ ভোট গ্রহন করা হবে। কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ইভিএম-এ ভোট গ্রহনের জন্য প্রথমে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং, পোলিং অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কক্সবাজার সিটি কলেজে গত ২৩ ও ২৪ মার্চ ২ দিনব্যাপী মাস্টার প্রশিক্ষনার্থীরা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। আবার ২৫, ২৭,২৮ ও ২৯ মার্চ ৪ দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের অনুশীলনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই প্রথম কক্সবাজার জেলার একটি উপজেলার সবক’টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহন করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে কোন ইভিএম মেশিনে ত্রুটি দেখা দিলে তা নিরসনে তাৎক্ষনিক আপদকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য একটি করে অতিরিক্ত মেশিন প্রত্যেক কেন্দ্রে মজুদ রাখা হয়েছে। রোববার ভোট গ্রহনের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলে রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সা.) মোঃ মাসুদুর রহমান মোল্লা সিবিএন-কে জানিয়েছেন।
কক্সবাজার সদর উপজেলায় মোট ১০ টি ইউনিয়ন ও একটি পরৌসভা রয়েছে। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১০৮ টি। ভোট কক্ষ রয়েছে ৫২০ টি। ভোটার রয়েছে মোট ২৫৬৬৪৪ জন। তারমধ্যে পুরূষ ভোটার ১৩৫৪৪২ জন এবং মহিলা ভোটার ১২১২০২ জন। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রের জন্য একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ১২ জন অতিরিক্ত প্রিজাইডিং অফিসারকে যেকোন সময় আপদকালীন দায়িত্বপালনের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে স্টেনবাই রাখা হয়েছে। কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৮ জন পুরূষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ৩ জন মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সদর উপজেলায় রোববার সকাল ৮ টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ইভিএম-এ প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহন করা হবে। কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মাহবুব আলম জানান-ইতিমধ্যে ইভিএম মেশিন, কম্পিউটার, এসংক্রান্ত ডিজিটাল ইভিএম ব্যালট মেশিন, অমোচনীয় কালি, কলম, স্টাম্প প্যাড, বিভিন্ন ফরম, ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার যানবাহন সহ ভোট গ্রহনের জন্য আনুসঙ্গিক সকল দ্রব্য সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কেন্দ্রভিত্তিক বন্ঠন পূর্বক মজুদ করে রাখা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯ টা থেকে প্রিজাইডিং অফিসারদের দায়িত্বে নিরাপত্তা বাহিনীসহ স্ব স্ব ভোট কেন্দ্রের জন্য মালামাল সরবরাহ দেয়া হবে। সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শিমুল শর্মা জানান-প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সদর উপজেলায় মোট ২৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্বপালনের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার বিশ্বাসকে সদর উপজেলা নির্বাচনে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বলে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল আদালতের সিনিয়র বেন্ঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ আমির হোসেন সিবিএন-কে জানিয়েছেন। তিনি নির্বাচনী অপরাধ ও অভিযোগ সমুহ আমলে নিয়ে দোষীদের জরিমানা, সতর্ক করা সহ বিভিন্ন বিচারিক কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে পুলিশের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিজিবি, র‍্যাব, আনসার সদস্যও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই তারা সকলে দায়িত্ব পালন শুরু করছেন। শুক্রবার রাত থেকেই সদর উপজেলার সর্বত্র মোটর সাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শনিবার বিকেল থেকে অত্যাবশ্যকীয় যানবাহন ছাড়া অন্য সকল প্রকার যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। আশেপাশের নৌএলাকায় নৌযান চলাচলও বন্ধ রাখা হবে। পাশ পাওয়া গণমাধ্যম কর্মী, পর্যবেক্ষক, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যান্যরা ভোটকেন্দ্র এলাকায় যেতে পারবেননা। কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের শুক্রবার রাতের মধ্যেই কক্সবাজার সদর উপজেলা এলাকা ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যান্য উপজেলার পর্যটকদের শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত যতদূর সম্ভব কক্সবাজার সদর উপজেলার ভৌগলিক এলাকা এড়িয়ে যেতে নির্বাচন কমিশন থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন গ্রহনের দিন রোববার ৩১ মার্চ কক্সবাজার সদর উপজেলায় জনপ্রশাসন মন্ত্রনায়ের এক প্রজ্ঞাপনে ইতিমধ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। এ দিন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ও অত্যাবশ্যকীয় অফিস ছাড়া সকল সরকারী, বেসরকারি, আধাসরকারী, স্বায়তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বিভাগ, সংস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এদিকে নির্বাচনে কোন ধরনের গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা, সন্ত্রাস, পরিবেশকে অশান্ত করতে চাইলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে উল্লেখ করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম সিবিএন-কে জানান-নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী কোন পক্ষকে কোন প্রভাব বিস্তার করতে সুযোগ দেয়া হবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন-অন্ত্যন্ত শান্তিপুর্ণ, ভীতিমুক্ত, নিরাপদ ও ভোটারবান্ধব পরিবেশে ভোট গ্রহন করা হবে ইনশাল্লাহ। চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসপি এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম আরো জানান-সদর উপজেলার সর্বত্র বৃহস্পতিবার থেকেই নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে। পাশছাড়া কোন বহিরাগত আসলেই আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন-গত ১৮ মার্চ ও ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত জোলার অন্য ৬টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল সদস্য ভয়ভীতি, হুমকি উপেক্ষা করে কঠোর ও পেশাদারিত্বের সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে ইনশাল্লাহ। পুলিশ সুপার জানান-নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার জন্য শনিবার কক্সবাজার পুলিশ লাইনে ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে।