হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
কক্সবাজারের সদ্য অনুষ্ঠিত রামু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রশাসনের কাছেই নৌকা হেরেছে বলে মনে করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রিয়াজ উল আলম।

রিয়াজ উল আলম অভিযোগে বলেন, মোটা টাকা লেনদেনের মাধ্যমে রামুর ইউএনও এবং ওসি তদন্ত প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে গত ২৪ মার্চ রামুতে নৌকাকে হারিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচনের পর ইউএনও নিজেই ভুরিভোজ আয়োজনের পর উল্লাস প্রকাশ করে এই তথ্য ফাঁস করেছেন।

রিয়াজ উল আলম বলেন, প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষতা আশা করেছিলাম। কিন্তু তাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নৌকাকে ডুবিয়ে দিল। আগামীতে নৌকার যেন এমন পরাজয় না হয় সেই বিষয়ে দৃষ্টি রাখার জন্য তিনি দেশরত্ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে রামুর ইউএনও লুৎফুর রহমান বলেন, আমি কোন ভুরিভোজ আয়োজন করিনি। নির্বাচন করেছে নির্বাচন কর্মকর্তা। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। এ ব্যাপারে রামু থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছে- ভোটের দিন সদরের বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থীর বোনকে পুলিশ নাজেহাল করেন। ঠিক একইভাবে গর্জনিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রেও নৌকার কর্মী সেলিম সিকদারকে পুলিশ নাজেহাল করেন। রামু খিজারি আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জেলা যুবলীগ নেতা পলক বড়ুয়া আপ্পুকে ইউএনও নিজেই গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। পাশাপাশি বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ইউএনওর নির্দেশে রামু থানার তদন্ত ওসি মিজান নৌকার এজেন্ড ছৈয়দুল হককে পিটুনী দেন। মেরংলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মাকে পুলিশ সদস্যরা হুমকি-ধামকি দেন।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন- সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যরা ভোট কাস্টিং কম করেছে। ভোটারদেরকে তাঁরা দৌঁড়ের ওপর রেখেছে। এই কারণে ওই সব কেন্দ্রে নৌকায় ভোট পড়েনি। সর্বপরি ফলাফলে যার বিস্তর প্রভাব পড়েছে।

উল্লেখ্য : রামু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী রিয়াজ উল আলমের সঙ্গে লড়েন সোহেল সরওয়ার কাজল। যার মধ্যে ৩১ হাজার ২৩৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কাজল। রিয়াজ উল আলম পান ২৯ হাজার ৪৯২ ভোট।