রাঙামাটি প্রতিনিধি :

রাঙামাটি শহরে বখাটের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে এমাদুল নামের এক ঠিকাদার। বুধবার দিবাগত সন্ধ্যারাত সাড়ে সাতটার সময় শহরের বনরূপাস্থ শেভরন ডায়াগনোষ্টিক এর সামনে এই হামলা চালায় বখাটে ফারুক আহাম্মেদ বিপু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। হামলার সময় এমাদুলের স্ত্রী সাজিয়ার উপরও হামলা চালিয়েছে বলে আহত এমাদুল জানিয়েছেন।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত এমাদুল জানিয়েছেন, আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে শেভরনে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। এসময় বিপু ও আরো কয়েকজন এসে আমাকে এলোপাতারিভাবে পেঠাতে থাকে। এসময় আমার সঙ্গে থাকা আমার স্ত্রী আমাকে বাঁচানোর চেষ্ঠা করলে তাকেও চড় থাপ্পর মেড়ে এবং শ্লীলতাহানি করে বিপু। এমাদুল জানান, এসময় হামলাকারিরা আমার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়। এদিকে হামলায় আহত এমাদুলের নাক দিয়ে অনবরত রক্ত ঝরতে থাকায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক আহাম্মেদ বিপু জানান, আমি এমাদুলের নিকট দুই লাখ টাকা পেতাম। তাই তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। এমাদুল রক্তাক্ত কিভাবে হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে বিপুল বলেন, হয়তো কোনোভাবে এক্সিডেন্ট করেছে সে। বক্তব্যের একপর্যায়ে রাঙামাটির সাংবাদিকদের সমালোচনা করে বিপু বলেন, আমার পেছনে সাংবাদিকরা শুধু শুধু লেগে থাকে। এমাদুলের ভাই মোজাম্মেল জানিয়েছেন, বিপু সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। সে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকুরি নিয়ে কর্মস্থলে নাগিয়ে বর্গা শিক্ষকের মাধ্যমে চাকুরি চালিয়ে আসছে। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ জানলেও অজ্ঞাত কারনে এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেনা।

সন্ত্রাসী বিপু আমার ভাগনীর ছেলেকেও অপহরণ করার চেষ্ঠা চালিয়েছে। এছাড়াও সে আমাদের পরিবারের সদস্যদের উপর এপর্যন্ত কয়েকবার হামলা চালিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আমরা কোনো সুবিচার পাচ্ছিনা।

এদিকে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহিদুল হক রনি জানিয়েছেন, এই ব্যাপারে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।