শফিক আজাদ, উখিয়া:

আল্লাহ’র উপর আস্থা ও বিশ^াস রেখে আমি আওয়ামী রাজনীতি করি। কখনো দল অথবা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিইনি। আমার বেলায় দলের কিছু নেতা অবস্থান নিয়ে নিজেই জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আজকে ওই সমস্ত নেতাকর্মীরা উখিয়াবাসির কাছে খন্দকার মুসতাকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। তবে আল্লাহ’র অশেষ রহমত ছিল বিধায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীয় আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তাই আগামীতে দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য জীবন দিয়ে হলেও উখিয়াবাসির ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করব।

মঙ্গলবার (২৬মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায় উখিয়া একেরাম মার্কেট চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় নবনির্বাচিত উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী উপরোক্ত কথা গুলো বলেন। তিনি এসময় আরো বলেন, আমার বাবা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমার শরীরে কোন প্রকার বেঈমানীর রক্ত নেই। আমার বাবার আদর্শ নিয়ে বেঁচে আছি। আমি কারো ভাই অথবা চাচা নন। আমি একমাত্র মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং আল্লাহ’র বান্দা, এটাই হচ্ছে আমার আসল পরিচয়।

তিনি এসময় বলেন, আজকে যারা আমাদেরকে নেতা বাঁনিয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ তাদেরকে আবার মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘরছাড়া করতেছি। এই যদি নেতাদের আদর্শ হয় তাহলে সেই নেতার বেশিদিন নেতৃত্ব দিতে পারেনা। আমি এসব ক্ষমতাবান নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলতেছি আপনারা এসব মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ নেতাকর্মী ও মানুষকে হয়রানী বন্ধ করুন, না হয় উখিয়ার সাধারণ জনগণ সাথে আপনাদের বিরুদ্ধে রুঁখে দাড়ানো হবে।

হামিদুল হক চৌধুরী আরো বলেন, কক্সবাজার জেলার অন্যান্য উপজেলায় যেভাবে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে তা দেখে মনে হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। যারা দলের পদ/পদবী বিক্রি করে গাড়ী,বাড়ীসহ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে, তারাই আজকে দলীয় প্রতীক নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এহেন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। না হয়, এমন হওয়ার কথা নয়। ঠিক একই ভাবে উখিয়াতেও এ ধরনের নেতাকর্মী রয়েছে যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে থাকে। এদেরকে চিহ্নিত করে রাখা দরকার। কারণ আমি যদি বঙ্গবন্ধুর আর্দশের রাজনীতি করি তাহলে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কখনো যাওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও তিনি এদেশের জন্য যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি উপজেলার ৫ ইউনিয়নে এধরনের একেকটি করে সর্বদলীয় সভা করার ঘোষণা দেন অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুবলীগ নেতা নুরুল আবছার চৌধুরী, মাসুদ আমিন শাকিল, রাজাপালং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হানিফ ছিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক রাশেল উদ্দিন সুজন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মকবুল হোসেন মিথুনসহ অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।