বার্তা পরিবেশক:
নির্বাচনের শুরু থেকেই আলোচনায় আসেন কুতুবদিয়ার তরুণ চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হক সাগর। তিনি একজন খাঁটি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। তার বাবা মাস্টার আহমদ উল্লাহ জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়নের দুইবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান। ব্যক্তিগত ইমেজও বেশ আলোচিত সাগর। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার পার হয় দিনরাত। উঠতি এবং সম্ভাবনাময়ী নেতা হিসেবে ইতিমধ্যে তিনি কুতুবদিয়ার সর্বত্র বেশ আলোচিত।

চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে গিয়ে শুরু থেকেই ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েন তিনি। প্রার্থী হতে বাধা, প্রার্থীতা বাতিলে একের পর প্রতিবন্ধকতা জয় করেছেন তিনি। সর্বশেষ মঙ্গলবার তার প্রার্থী বৈধতার পক্ষে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ দিয়েছেন চেম্বার জজ আদালত। এতে আজিজুল হক সাগর চূড়ান্তভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। এর মধ্যে দিয়ে তার বিরুদ্ধে করা সকল ষড়যন্ত্রের নৈতিক পরাজয় হয়েছে মনে করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনী মাঠেও বেশ আলোচনা সৃষ্টি করেছেন আজিজুল হক সাগর। মূলত তিনি তৃণমূলের ভোটারদের আস্থার প্রতীক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ভোটের মাঠে নামার পর তার প্রতি ভোটারদের আগ্রহ অবিশ^াস্যভাবে বেড়ে গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নৌকার প্রতীকের শক্তিমান প্রার্থী এড. ফরিদুল ইসলাম। কিন্তু জনপ্রিয়তায় আজিজুল হক সাগরই এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। তার পক্ষে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই হুমকি খেয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও নিজ দলীয় প্রার্থীর সাথে পাল্লা দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন আনারস প্রতীকের প্রার্থী প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ নেতা আজিজুল হক সাগর। নানা কারণে তিনি প্রচারণা ও জনসমর্থনে বেশ এগিয়ে রয়েছেন। রাতদিন চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগসহ নানা প্রচারণা। উপজেলার প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন সাগর। সাগরকে কাছে পেয়ে তৃণমূলের ভোটাররা বেশ সাড়া দিচ্ছেন। তিনি যেন এখন ‘কুতুবদিয়ার হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা’! তিনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানে হচ্ছে গণজোয়ার।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, আজিজুল হক সাগরের পিতা মাস্টার আহমদ উল্লাহ একজন জনদরদী নেতা। তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি এবং দু’বারের চেয়ারম্যান হয়ে সব সময় অসহায় ও সাধারণ লোকজনের সাথে মিশে থাকতেন। এখনো তিনি সেভাবে নিরহংকার এবং সাদামাটা জীবন যাপন করছেন। বিচারে টাকাতো দূরের কথা; তাকে কেউ এককাপ চাও সে উদ্দেশ্যে খাওয়াতে পারেননি। কোনোভাবে তিনি সরকারি বরাদ্দের তছরুপ করেননি। জনগণ কোনো বিপদে পড়লে তিনি এখনো বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত। আদর্শবান পিতাকে অনুসরণ করে আজিজুল হক সাগরও জনমানুষের রাজনীতি করেন। তরুণ নেতা হয়েও রাজনীতি জীবনের শুরু থেকেই তিনি সব সময় জনগণের কাতারে রয়েছেন। মানুষের বিপদ-আপদে ছুটে যান নির্দ্বিধায়। যেভাবে দরকার সেভাবেই বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত।

স্থানীয় নির্বাচন সচেতন লোকজন বলছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ভোট হলে আজিজুল হক সাগর বিপুল ভোটে এগিয়ে থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। কুতুবদিয়ার মানুষ তাকে ভোট দেয়ার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন।

এ ব্যাপাারে আজিজুল হক সাগর বলেন, ‘জাতির জনকের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি শুরু করি। সেই থেকে বাবাকে অনুসরণ করে মানুষের জন্য রাজনীতি করে যাচ্ছি। স্বল্প রাজনৈতিক জীবনে সব সময়ে চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকার, সহযোগিতার করার। তার প্রতিদান স্বরূপ কুতুবদিয়ার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে আমি নির্বাচনে নামি। কিন্তু শুরু থেকেই নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়েছে। তবে মহান আল্লাহর রহমত এবং কুতুবদিয়ার মানুষের দোয়ায় আমি সব ষড়যন্ত্র উতরে এসেছি। মানুষ আমাকে ভোট দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আশা করছি, আমি বিপুল ভোটে এগিয়ে থেকে নির্বাচিত হবো। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, কুতুবদিয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বাছাইয়ে আজিজুল হক সাগরের মনোনয়ন বাতিল হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়াম্যান হওয়ার পথে ছিলেন এড. ফরিদুল ইসলাম। কিন্তু পরে হাইকোর্ট এ রীট করে প্রার্থীতা ফিরে পান আজিজুল হক সাগর। পরে তাকে আনারস প্রতীক বরাদ্দ দেয় নির্বাচন কমিশন।