মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

ইয়াবা ব্যবসার সমস্ত লেনদেন হুন্ডি ও বিকাশের মাধ্যমে হয়ে থাকে। হুন্ডি ও বিকাশ ছাড়া ইয়াবা বাণিজ্য চালানো কখনো সম্ভব নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব হুন্ডিবাজের অধিকাংশ দুবাই, ভারত, সিঙ্গাপুর, ব্যাংক, মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে ইয়াবা বাণিজ্যের লেনদেন করে থাকে। এদেশে তাদের প্রতিনিধিরা এসব হুন্ডি বাণিজ্যের সমন্বয় করে থাকে। এই মাষ্টার হুন্ডিবাজ ও বিকাশ এজেন্টের আইনের আওতায় আনা গেলেই ইয়াবা বাণিজ্যের শেকড় উৎপাঠন করা সম্ভব হবে। এজন্য হুন্ডিবাজ ও বিকাশ ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশের শীঘ্রই সাড়াশি অভিযান শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক মাষ্টার হুন্ডিবাজকে পুলিশের সার্বক্ষণিক তীক্ষ্ণ নজরে রাখা হয়েছে। তাদের গতিবিধি এখন পুলিশের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। যেকোন সময় তারা পুলিশের জালে আটকা পড়বে। মাদক প্রতিরোধ বিষয়ে অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম সিবিএন-কে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন-ইয়াবা ব্যবসার অন্যতম প্রধান সহায়ক উপাদান ও নিয়ামক হচ্ছে-হুন্ডি আর বিকাশ। তাই হুন্ডি ও বিকাশ বন্ধ নাহলে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রনে আনা কখনো সম্ভব নয়। এসপি এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম বলেন-আত্মসমর্পণকৃত ১০২ জন ইয়াবাবাজ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে একজন হুন্ডীবাজ বিভিন্ন নামে ৮১ টি বিকাশের সীম ব্যবহার করেছে। একমাসে ঐ হুন্ডীবাজ ৯৪ লক্ষ টাকার লেনদেন করেছে। এদিকে, আত্মসমর্পণকৃত ১০২ জন ইয়াবাবাজের আত্মসমর্পণের শর্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জিআর: ৯৮/২০১৯ (টেকনাফ) ও জিআর: ৯৯/২০১৯ (টেকনাফ) মামলা দু’টি প্রত্যাহারের বিষয়ে আইজিপি’র কাছে জেলা পুলিশের পাঠানো পত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের লিগ্যাল উইং হয়ে আইন মন্ত্রনালয়ের পরমার্শ সাপেক্ষে রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হতে আরো একটু সময় লাগবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে আত্মর্সমপনের শর্ত অনুযায়ী ইয়াবাবাজদের বিরুদ্ধে পূর্বের দায়েরকৃত মামলাগুলো আইনের নিজস্ব গতিতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলবে। এদিকে, ইয়াবাবাজদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো শর্তানুযায়ী সরকারিভাবে প্রত্যাহরের উদ্যোগ নেয়ায় ইয়াবাবাজেরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন চেয়ে আপাতত আপীল মিচ মামলা করছেনা। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় সুত্রে এতথ্য জানা গেছে। আত্মসমর্পণকৃত ১০২ জন ইয়াবাবাজের আত্মসমর্পণের শর্ত অনুযায়ী তাদের অর্জিত সম্পদের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তাদের জীবনবৃত্তান্ত জেলা পুলিশ বিভাগ থেকে প্রেরন করা হয়েছে। যেসব বিভাগে জীবনবৃত্তান্ত সহ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করা হয়েছে, সেগুলো হলো-বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি’র অর্গানাইজ ক্রাইম (ইকোনোমিক ক্রাইম স্কোয়াড) বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সহ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আরো ক’টি বিভাগ। তিনি জানান-জেলা পুলিশের প্রেরিত ইয়াবাবাজদের জীবনবৃত্তান্ত ও তথ্য উপাত্ত সরেজনিনে যাছাই-বাছাই করে সম্পদ বিবরনী, আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ গুলো ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে ও নথিপত্র নিয়ে যাচাই বাচাই শুরু করেছে। তিনি জানান-উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে ইয়াবাবাজদের অর্জিত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ সমুহ রাষ্ট্রের অনুকূলে ক্রোক করার অনুমতি পাওয়ার জন্য কক্সবাজারের স্পেশাল জজ আদালতে ১৯১২ সালের মানি লন্ডারিং আইনে পারমিশন মিচ মামলা করা হবে।