ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাইক্ষ্যংছড়ি হাজি এম.এ কালাম ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক মোঃ শফিউল্লাহ।
তিনি পেয়েছেন ১২ হাজার ১৩০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তাহের পেয়েছেন ৮ হাজার ৬২১ ভোট।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে অধ্যাপক শহিদুল্লাহ বলেছেন, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে, সেজন্য সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বিজয়ী হওয়ার জন্য আমি কষ্ট করেছি। সবার দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করেছি। তা ঠিক। মানুষ আমার আহবানে সাড়া দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নৌকা প্রতীকের মর্যাদা রক্ষা করেছে। এই বিজয় আমার নয়, সর্বস্তরের জনগণের। কষ্টার্জিত বিজয় আমি জনগণকে উৎসর্গ করলাম।
বিজয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় মুঠোফোনে সিবিএনকে অধ্যাপক মোঃ শফিউল্লাহ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাসহ যারা কাজ করেছেন- সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় তাদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা আমাকে বুদ্ধি, পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে তাদের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি রইলো আমার অগাধ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
নেতা হিসেবে নয়, জনগণের খাদেম হিসেবে যেন দায়িত্ব পালন করতে পারি- সবার দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
এদিকে, উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবু তাহেরের বাসায় গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক মোঃ শফিউল্লাহ। নিজের বিজয়ের মালা পরাজিত প্রার্থী আবু তাহেরকে পরিয়ে দেন। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সকল প্রার্থীর সহযোগিতা ও পরামর্শ চেয়েছেন। একই সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়িকে একটি ‘মডেল উপজেলায়’ পরিণত করতে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতাও কামনা করেছেন।
শুধু দলের নয়, সবার হয়ে কাজ করবেন বলে জানান নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ শফিউল্লাহ।
সাধারণ মানুষের অভিমত, অধ্যাপক মোঃ শফিউল্লাহ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেও ভিন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাসী মানুষেরও পছন্দের। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ‘একচোখা’ ও ‘দলকানা’ নন। সবার সাথে মিশতে জানেন। মানুষের সুখে-দুঃখে থাকেন। কথার চেয়ে কাজ করেন বেশি। সর্বোপরি একজন শিক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসেবে ‘আদর্শ নেতা’র গুন তার মাঝে বিদ্যমান। ভোটের মাঠে সেটিই প্রমাণ দিয়েছে জনগণ।
উল্লেখ্য, ১৮ মার্চ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। উপজেলায় মোট ভোটার ছিল ৩৭ হাজার ৪৯২। ভোটকেন্দ্র ছিল ২৫টি।