ইমাম খাইর, সিবিএন:
৫ম উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে সারাদেশের মতো চকরিয়াতেও ভোট শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে ভোটকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছে।
তবে, সকালে ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ নয়। কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর প্রায় দুই ঘন্টায় ভোটার দেখা মেলেনি। কয়েকজন নারী ভোটার গেলে পুরুষ ভোটারদের সাড়া নেই বললে চলে।
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে সিবিএন-এর প্রতিনিধি এম. মনছুর আলম জানান, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ভোটকেন্দ্রে গেলে কোন ভোটার চোখে পড়েনি। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু লোক মাঠে হাটতে দেখা গেছে। বলতে গেলে পুরো ভোটকেন্দ্র ফাঁকা। দক্ষিণ মেদা কচ্ছপিয়া কুতুবদিয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ৬টি বুথে সকাল ১১ টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২০২টি। এই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২১৫৭টি।
এর আগে ফাঁসিয়াখালী ছায়রাখালী ভোটকেন্দ্রে গেলে একই চিত্র দেখা গেছে।

কুতুবদিয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র। সকাল ১১টায় ছবি ধারণ করেছেন এম. মনছুর আলম।

তবে, ভোট কেমন হচ্ছে? উপস্থিতি কেমন?-জানতে চাইলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সাখাওয়াত হোসেন ভোটররা স্বতৎস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছে বলে দাবী করেন। তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রে প্রচুর ভোটার রয়েছে। কোন ঝামেলা হচ্ছেনা। রাতের বেলায়ও অঘটন ঘটেনি।
উপজেলার ১৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৪ হাজার ৫৫৫ জন। সেখানে পুরুষ ভোটার ১৪৮৯০৫ জন এবং মহিলা ভোটার ১৩৫৬৫০ জন। মোট ৯৯ টি ভোট কেন্দ্রে ভোট কক্ষ রয়েছে ৬৩৪ টি।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জনসহ মোট ১২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটাররা জানিয়েছে।

আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলমকে রোববারর রাতেই এলাকা ত্যাগ করিয়েছে ইসি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ মোট ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্বপালন করছেন। চকরিয়া চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার দেব জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি ২০ প্লাটুন বিজিবি ও দুই প্লাটুন র‍্যাব দায়িত্বে রয়েছে।

ছায়রাখালী মাদরাসা ভোটকেন্দ্র

নির্বাচনে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয়ক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, নির্বাচন হবে শতভাগ সুষ্ঠু। তাই সকল প্রিজাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর পরও যদি কোন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা অনিয়ম করার চেষ্টা করেন তাহলে সাথে সাথে গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবির পাশাপাশি প্রতিকেন্দ্রে ১০ জন করে আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে কোন অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ব্যালটে কেউ হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক গুলি করা হবে। এক্ষেত্রে সে কে তা দেখা হবে না। নির্বাচনে পুলিশের প্রায় ১১০০ সদস্য নিয়োজিত আছে।
পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন রবিবার দুপুরে চকরিয়া থানাচত্বরে কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, কোন অবস্থাাতেই ভোট কারচুপির সুযোগ দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা কঠোর নজরদারির মাধ্যমে প্রতিহত করতে হবে। আর যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মাস্তান হউক না কেন কেন্দ্র দখল বা ব্যালটে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে সাথে সাথে গুলি করতে হবে।

কাকারা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র। ছবি পাঠিয়েছেন এইচ.এম রুহুল কাদের।