মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সোমবার ১৮ মার্চ সকাল ৮ টা থেকে একযোগে ৯৯ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণ কার্যক্রম বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ভোট উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি। এ নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠায় তাঁকে রোববারর রাতেই এলাকা ত্যাগ করিয়েছে ইসি। যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তায় বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে রয়েছে। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এদিকে কক্সবাজারে এসপি এ.বিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম বলেছেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সেজন্য কমিশন কঠোর মনোভাব পোষণ করেছেন। কেউ যদি অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কেউ যদি কাজে অবহেলা করেন তবে তাৎক্ষণিক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, এসপি এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম, বিজিবি’র রিজিওনাল কমান্ডার, চকরিয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মতিউল হক সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেশ কিছু ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। চকরিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী থাকলেও আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদীর আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া পুরূষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চকারিয়া উপজেলায় মোট ১৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ উপজেলায় মোট ৯৯ টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহন চলছে। ভোট কক্ষ রয়েছে ৬৩৪ টি। ভোটার রয়েছে মোট ২৮৪৫৫৫ জন। তারমধ্যে পুরূষ ভোটার ১৪৮৯০৫ জন এবং মহিলা ভোটার ১৩৫৬৫০ জন। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টায় জানান, উপজেলার কোথাও কোন গোলযোগের খবর এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তিনি জানান-উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ মোট ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্বপালন করছেন। চকরিয়া চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার দেব জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন।নির্বাচনে তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচনী অপরাধ ও অভিযোগ সমুহ আমলে নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে দোষী প্রার্থীদের জরিমানাও করেছেন। নির্বাচনে পুলিশের পাশাপাশি ২০ প্লাটুন বিজিবি ও দুই প্লাটুন র‍্যাব দায়িত্বে রয়েছে। শনিবার রাত থেকেই চকরিয়ার সর্বত্র মোটর সাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার বিকেল থেকে অত্যাবশ্যকীয় যানবাহন ছাড়া অন্য সকল প্রকার যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। নৌযান চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশ পাওয়া গণমাধ্যম কর্মী, পর্যবেক্ষক, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যান্যরা ভোট কেন্দ্র এলাকায় যেতে পারছেননা। কক্সবাজার, লামা, আলীকদমে বেড়াতে আসা পর্যটকদের রোববার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত যতদূর সম্ভব চকরিয়া উপজেলার ভৌগলিক এলাকা এড়িয়ে যেতে নির্বাচন কমিশন থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।