সংবাদদাতা:
আলোচিত আরজু হত্যাসহ ডজনখানিক মামলার আসামী শহরে শীর্ষ সন্ত্রাসী নিকেল বাহিনীর নিকেলের বিরুদ্ধে আবারো ছিনতাই, জোরপূর্বক চাঁদা আদায় ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা গেছে, শহরের হাপাতাল সড়ক, গোল দিঘির পাড়, জাম্মুর মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যটন স্পট সন্ধ্যা নামলে চলে যায় নিকেল বাহিনীর দখলে। ফলে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে।
সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন নগরী মোড়ে মোড়ে যে কয়টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে সবই নিকেল ও তার বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার বাহিনীর এক সদস্য।
ঢাকার মিরপুর ৩ থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে ছিনতায়ের শিকার তামিম ইসলাম জানান, জাম্মুর মোড় নামের এক এলাকায় মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাইকারীরা তার দামি দুইটি মোবাইল ও নগদ ৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের মুখে শুনেছেন নিকেল নামের এক সন্ত্রাসী দ্বারা ছিনতায়ের শিকার হয়। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর থানায় জিডিও করেছেন তিনি।
এ ছাড়া শহরের ঘোল দিঘির মোড়ে বিনা পয়সায় ইয়াবা না দেয়ার কারণে এক সংখ্যালঘুকে নির্মমভাবে আঘাত করে চিরতর পঙ্গু করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে নিকেলের বিরুদ্ধে।
সন্দীপ নামে এক বৃদ্ধা হিন্দু জানান, হাসপাতাল সড়ক থেকে গত কয়েকদিন আগে তার এক ভাতিজাকে ধরে নিয়ে মারধর করে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছে নিকেল। এ ব্যাপারে কাউকে জানালে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি প্রাদান করে। ঘটনাটি ভয়ে কাউকে জানায়নি ভিকটিমের পরিবার।
গত কয়েকদিন আগে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে অস্ত্রের উঁচিয়ে হাসপাতাল সড়কে এক ব্যাক্তিকে গুলি করতে মারতে গিয়েছিল নিকেল।তাৎক্ষণিক কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দীন খন্দকারকে জানালে তিনি পুলিশ পাঠান। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে, সন্ত্রাসী নিকেলসহ তার দলবল সটকে পড়ে। এসময় হাসপাতল রোডসহ পুরো শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
কক্সবাজার পৌরসভার মোহাজের পাড়ার হোসেনের মিস্ত্রীর ছেলে আবদুল হাকিম প্রকাশ নিকেল। তার বিরুদ্ধে হত্যা নারী নির্যাতন ও অস্ত্র মামলাসহ ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। কয়েক দফা গ্রেফতার করা হলেও জামিনে বের হয়ে আবারো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি নিকেলের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। তাকে না পেলেও অস্ত্র ও ইয়াবাসহ তার মা লায়লা ও স্ত্রীকে আটক করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য. নায়ক জাহাঙ্গীর ওস্তাদের ভাগীনা আরজুকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করে গর্তে পুঁতে রেখেছিল সন্ত্রাসীরা। পরে নিকেলকে গ্রেফতার করে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরজুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, যে কোন ধরণের অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স ভূমিকা রয়েছে সবসময়। সঠিক তথ্য পেলে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। পর্যটন নগরীর বিরাপত্তা বিধানে পুলিশ সব ধরণের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলেও জানান ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার।