নিজস্ব প্রতিবেদক:

‘কক্সবাজার পৌরসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড গুলোর মধ্যে ১০, ১১ও ১২নং ওয়ার্ড। কারণ এ তিনটি ওয়ার্ডে কক্সবাজার পৌরসভা, হাসপাতাল, আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়াও বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এসব ওয়ার্ডে অবস্থিত। এ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ছাড়াও বাংলাদেশের একমাত্র পর্যটন খ্যাত যেখান থেকে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করা হয়। কিন্তু এ পর্যটন এলাকার রাস্তাঘাট, পা:নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবেই নাজুক। এসব ওয়ার্ড থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ যে ভ্যাট আদায় করেছে, সে অনুপাতে পর্যাপ্ত উন্নয়ন করা হয়নি।

আজ বিকেলে পৌর ১২নং ওয়ার্ড হোটেল-মোটল জোন, বৃহত্তর লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় পথসভা ও ভোটারদের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী হোসনে আরা টিপু। তিনি ‘চশমা’ প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

তিনি বলেন, আগামী ২৫ জুলাই বহুপ্রতীক্ষিত কক্সবাজার পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে ১০,১১ ও ১২নং ওয়ার্ড থেকে সবার দোয়া, ভালোবাসা ও আল্লাহর অশেষ রহমতে এলাকার অবহেলিত মানুষের সেবা করার জন্য আমি মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছি এবং ‘চশমা’ প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। অব্যবস্থানা ও জনবিচ্ছিন্ন জনপ্রতিনিধির ফলে ভেঙে পড়েছে হোটেল-মোটেল জোনসহ পুরো ১২নং ওয়ার্ডের নালা-নর্দমা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। পৌর ১০, ১১ কিংবা ১২ নং ওয়ার্ড সব এলাকার বাসিন্দাদেরই এ কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কলাতলী, লাইট হাউজ, হোটেল-মোটেল, বাহারছাড়া, গাড়িরমাঠ, মহাজেরপাড়া, বঙ্গপাহাড়সহ অভিজাত এলাকায় এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে নালা-নর্দমা ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে তুলনামূলক কম উন্নত এলাকাগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তৈরি হচ্ছে নতুন ঘর-বাড়ি। কিন্তু সে অনুপাতে নাগরিকদের সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিগত সময়ে দায়িত্ব পালন করা জনপ্রতিনিধিরা। অন্যদিকে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় শহরের রাস্তাঘাট। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়।

যদি সচেতন ভোটাররা মনে করেন, আমাকে দিয়ে পৌর এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০, ১১ ও ১২নং এ তিনটি ওয়ার্ডের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সেবা ও এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। তাহলে দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের সহযোগিতার মাধ্যমে আমি সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করবো। এই ওয়ার্ডগুলোতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে আরো সমৃদ্ধিশালী ও আধুনিক পর্যটন নগরী বিনির্মাণে অগ্রগতি ভূমিকা রাখবো। এছাড়াও এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট-মেরামত করা, প:নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ডাস্টবিন স্থাপন, এলাকার বৃদ্ধা মহিলাদের বয়স্ক ভাতা, মহিলাদের জন্য বিভিন্ন প্রকার সরকারি ভাবে দেয়া প্রশিক্ষনের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে গঠে তোলা সহ বিভিন্ন সামাজিক ও এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকা-ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

চশমা মার্কায় ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আপনারা যারা পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে রয়েছেন, সেসব সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করণের মাধ্যমে সমাধান করবো।

আমি জানি এ তিনটি ওয়ার্ডের অবহেলিত সাধারণ মানুষরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেসরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এসব মানুষদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আপনাদের অতি মূল্যবান ‘ভোট’টি ‘চশমা’ মার্কায় প্রদান করে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও সেবা করার সুযোগ করে দিতে অনুরোধ করছি।

তিনি এর আগে বাহারছড়া, গাড়ির মাঠ, কবরস্থান পাড়া, মহাজের পাড়া, বঙ্গপাড় ও বৃহত্তর কলাতলী এলাকায় পথসভা ও প্রত্যেক ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলেছেন এবং তাদের সুখ-দুঃখের কথা শুনেছেন।