তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রামের বাশঁবাড়িয়া সমূদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে আবারও ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে নিখোঁজের এ ঘটনা ঘটে। বাঁশবাড়িয়া ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ হাসান নিখোঁজের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিখোঁজ তিন জন হলেন- সাইফুল (২৭) আলাউদ্দিন (২৫) ও ইয়াছিন (১৯)। তারা সবাই চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা। তারা সবাই শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বাঁশবাড়িয়া সমূদ্র সৈকতে বেড়াতে যান বলে জানান ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ হাসান।

তিনি জানান, নিখোঁজের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সাগরে ইঞ্জিন বোট নিয়ে একঘন্টা ধরে তল্লাশী চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের এখনো খোঁজে পাওয়া যায়নি।

ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ হাসান জানান, ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি তোলার কারনে বাঁশবাড়িয়ায় সমূদ্র সৈকতের অদূরে বড় ধরণের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ৩ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তদন্তে তিনি প্রশাসনের তদন্ত টিম গঠনের দাবি জানান।

স্থানীয় লোকজন জানান, গত ২২ জুন এই সমূদ্র সৈকতে ঢাকার নারায়ণগঞ্জের একটি স্কুল থেকে আসা ৯ জন শিক্ষার্থী ভেসে যায়। এরমধ্যে ৭ জনকে উদ্ধার করা হলেও পরে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ ভেসে উঠে। এ ঘটনার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আবারও সৈকতের একই স্থানে ডুবে যায় ৩ জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরী দল ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের শীর্ষ একটি প্রভাবশালী গ্রুপ অব কোম্পানী এ সৈকত থেকে ড্রেজার দিয়ে বেপরোয়াভাবে বালু ও মাটি তুলছে। এতে সৈকতের অদূরে পানির নীচে অন্তত ৯০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সাগরের পানি গুলিয়ে গুলিয়ে চলাচল করে। এই গুলানো চক্রে পড়লে মানুষ তো দূরের কথা বনের বাঘও তলিয়ে যাবে।

বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক জানান, এর আগে সৈকতে দুই শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার পর ওই এলাকায় লাল পতাকা গেড়ে বিপদ সংকেত দেওয়া হয়। এমনকি সৈকতে গোসল করতে না নামার জন্য সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এরপরও সৈকতে নামায় আবারও নিখোঁজ হল তিন জন।

চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী ব্যবস্থাপক পূর্ণচন্দ্র দে বলেন, খবর পেয়ে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরী দল বাঁশবাড়িয়া সৈকতে পৌছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।