বিশেষ প্রতিবেদক:
রোহিঙ্গাদের জন্য বসানো চেকপোস্ট এখন স্থানীয় লোকজনের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চেকপোস্টগুলোতে রোহিঙ্গা ধরার চেয়ে স্থানীয় লোকজনকে বেশি হয়রানি করছে পুলিশ। এতে দিন দিন স্থানীয়দের চলাফেলা কষ্টকর হয়ে উঠছে। এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে মরিচ্যা চেকপোস্টে দায়িত্বরত উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুলের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, মরিচ্যা চেকপোস্টে রোহিঙ্গা ধরতে দায়িত্ব পালন করছে উখিয়ার থানার এসআই সাইফুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু থেকে এই চেকপোস্ট বসানো হয়। কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের এই চেকপোস্ট দিয়ে উখিয়া ও টেকনাফসহ বিভিন্ন স্থানের মানুষ পারাপার করছে। সরকারি নিময় মতো রোহিঙ্গা ধরতে এই চেকপোস্টে প্রতিটি গণপরিবহনকে তল্লাশি করা হচ্ছে। এই তল্লাশি করতে গিয়ে এসআই সাইফুল লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করছে। তল্লাশিকালে নানা অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে ‘পান থেকে চুন খসলে’ই তল্লাশির শিকার লোকজনকে মারধর, অশ্লীল গালি-গালাজসহ নানাভাবে লাঞ্ছিত করছে দায়িত্ব পুলিশ সদস্যরা। এমনকি একটু এদিক-ওদিক হলে দূর-দূরান্তের যাত্রীদের পর্যন্ত অহেতুক ঘন্টার পর ঘন্ট আটকে রাখা হচ্ছে। এতে প্রতিবাদ করলে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

খুনিয়াপালংয়ের ধেঁছোয়াপালং এলাকার ব্যবসায়ী সাইফুল আজিম অভিযোগ করেন, তিনি বৃহস্প্রতিবার রাত ১১টার দিকে রিক্সাযোগে মরিচ্যাবাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় মরিচ্যা চেকপোস্ট আসলে রোহিঙ্গা নয় এটা স্পষ্ট হওয়ার পরও তাকে দাঁড় করান দায়িত্বরত এসআই সাইফুল। দাঁড় করিয়ে তাকে নানা ধরণের আজে-বাজে প্রশ্ন করেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী সাইফুল আজিম ওই এলাকার বাসিন্দা বলে জানান। এতে ক্ষেপে গিয়ে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন এসআই সাইফুল। এক পর্যায়ে তার দেহ তল্লাশি করা শুরু করেন। তার পকেটেও হাত ঢুকিয়ে দেন। তারপরও ক্ষান্ত না হয়ে পরবর্তীতে সাইফুল আজিমকে ‘মদদী, ইয়াবাখোর’ বলে অশ্লীল গালি-গালাজ শুরু করে। এতে প্রতিবাদ করায় ইয়াবা দিয়ে চালান দেয়ার হুমকি দেয় এসআই সাইফুল। শেষে কোনো রকম ছাড়া পান সাইফুল আজিম। ছাড়া পেয়ে বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিক উখিয়ার থানার ওসিকে জানান। এই ঘটনার জন্য ওসি দু:খ প্রকাশ করেছেন।

ভুক্তভোগী সাইফুল আজিম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে আমরা এমনিতে নানা চাপের মধ্যে আছি। তার উপর চেকপোস্টে রোহিঙ্গা ধরার বদলে আমাদেরকে হয়রানি হতে হচ্ছে। এর চেয়ে দু:খজনক আর কিছু হতে পারে না। যেখানে আমাদের মতো মানুষকে পুলিশ অশ্লীল গালি-গালাজ করছে সেখানে সাধারণ লোকজনের কি অবস্থা হচ্ছে বুঝুন। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এই জন্য আমি এসআই সাইফুলকে ডাকবো। এর প্রতিকার হবে। চেকপোস্টে কোনো ভাবেই স্থানীয় লোকজন হয়রানি হতে পারবে না।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •