এবার চলছে সেনাবাহিনীর ধরপাকড়, আবার আসছে রোহিঙ্গা

আমান উল্লাহ আমান, টেকনাফ: 

এবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ধরপাকড় থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। গত এক সপ্তাহ যাবৎ যে সব রোহিঙ্গারা এদেশে ঢুকেছে তাদের প্রত্যেকের মুখে একই কথা।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে রোহিঙ্গা মুসলিমদের টার্গেট করে সেনারা ঘরবাড়ীতে আগুন, পুরুষদের ধরে নির্যাতন, হত্যা, মহিলাদের ধর্ষনের মতো ঘটনা অহরহ। এমনকি ছোট ছোট শিশুদের আগুনে নিক্ষেপ করে হত্যাও করা হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছে অসংখ্য রোহিঙ্গারা। এর ফলে প্রাণ বাঁচাতে দলে দলে রোহিঙ্গা এদেশে পালিয়ে আসে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মুখে লোম হর্ষক বর্ননা শুনলে শরীর শিউরে উঠার মতো। তবে গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে রোহিঙ্গা ¯্রােত কিছুটা কমলেও এবার ভিন্ন সুরে রোহিঙ্গারা ফের দলে দলে আসতে শুরু করেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার সেনা বাহিনীরা ঘরে ঘরে গিয়ে পুরুষদের আটক করে চোখে কালো কাপড় বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে ধরপাকড়ের ভয়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইনে ৪৮৬ টি মুসলমানদের গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০৪ টি গ্রাম ইতিমধ্যে জ্বালিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ন করেছে সে দেশের সেনাবাহিনী ও মগেরা। এতে কয়েক হাজার মুসলিম নর-নারী ও শিশুর প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নই মুসলমানদের গৃহপালিত গরু, মহিষ, ছাগলসহ অনেক জীব জন্তু পুড়িয়ে মেরেছে সেনারা। বিশ্ব এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও এর কোন তোয়াক্কাই করছেনা মিয়ানমার সরকার। তাদের কাজ তারা চালিয়ে যাচ্ছে। একের পর এক গ্রাম পুড়িয়ে ধ্বংস করছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গা মুসলিমরা এগ্রাম থেকে ওগ্রামে আশ্রয় নিচ্ছে। বেশীর ভাগ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

অনেক রোহিঙ্গা পরিবার কষ্ট ভোগ করে রাখাইনে রয়ে যায়। নিজ জম্মভুমি ছেড়ে এদেশে আসতে চাইনি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও মাইকিং করা হয়েছে গ্রাম ছেড়ে চলে না যেতে। এতে রোহিঙ্গা মুসলিমরা কিছুটা আশ্বস্থ হলেও আতংক ও ভয় নিয়ে মাটি আঁকড়ে ধরে রয়ে যায় রাখাইনে। কিন্তু সেনারা তাদের কথা রাখেনি। রাতের বেলায় বাড়ীতে হানা দিয়ে পুরুষদে আটক করছে। ফলে রাখাইনে থাকার আশা ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। এমন অভিযোগ পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের।

মংডুর লামার পাড়ার নুরুল আমিনের স্ত্রী গোল ছেহের (৪৫) জানান, গত শনিবার সেনারা হ্যান্ড মাইক নিয়ে গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে বাংলাদেশে না আসতে বলেছে। তাদের আর নির্যাতন করা হবেনা বলে আশ্বস্থ করে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেনি। কিন্তু রাতের বেলায় সেনার দল এসে পুরুষদের ধরে চোখ বন্ধ করে নিয়ে গেছে। তাদের এক গ্রাম থেকে এক রাতেই ৬০ জন পুরুষ আটক করে নিয়ে যায়। সেখানে তার স্বামী নুরুল আমিনও রয়েছে। কান্না জড়িত কন্ঠে গোল ছেহের আরো বলেন, এক সপ্তাহ যাবৎ ঘর থেকে বের হতে দেয়নি সেনারা। ফলে পরিবারের ৭ ছেলে মেয়েদের নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। সবশেষ গ্রামের ৪টি পরিবারের একসাথে গত বৃহস্পতিবার শাহপরীরদ্বীপ সীমান্ত দিয়ে ১০ লাখ কিয়াতের বিনিময়ে এপারে ঢুকে।

মংডুর গইন্যাপাড়া গ্রামের পরমিন আক্তার (২০) জানান, সেনাদের চারদিক আক্রমন শুরু হলে তারাও এগ্রাম থেকে ওগ্রামে পালাতে থাকে। সহিংসতার এক সপ্তাতে তাদের গ্রামে আগুন দিয়ে ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দিয়েছে। তবুও নিজ নাভিকাটা দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসতে চায়নি। কিন্তু সেনারা বাড়ী থেকে বের হতে না দিয়ে পুরুষদের ধরে নিয়ে গেছে। এতে তার স্বামী মোঃ জুবাইরও রয়েছে। কাজ কর্ম করতে না পারায় দু’মোটো ভাতও পেটে দিতে পারছেনা। তাই বাধ্য হয়ে এক ছোট ছেলে নিয়ে এপারে চলে এসেছি।

মংডুর ৫ নং ওয়ার্ডের নয়াপাড়ার মৃত মকতুল হোছনের পুত্র কবির আহমদ (৫৫) জানান, সহিংসতার প্রথম দিকেই ঘরবাড়ীসহ পুরো গ্রা জ্বালিয়ে দিয়েছে সেনারা। পরিবারের বড় ছেলে মেয়েরা এপারে চলে আসলেও স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে জম্মভূমি ছেড়ে আসতে চায়নি। অপর একটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু সেনাদের থাবা সেখানে থামেনি। তাই বাধ্য হয়ে চলে এসেছি।

পাহাড়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা : গন্তব্য বাংলাদেশ

গত এক মাস ধরে রাখাইনের পশ্চিম-দক্ষিন ও উত্তরের গ্রাম গুলো থেকে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসলেও পূর্ব দক্ষিনের রোহিঙ্গাদের সংখ্যা খুবই কম। ওইসব গ্রাম থেকে বাংলাদেশে আসতে হলে কয়েকটি পাহাড় হেঁটে সীমান্তে পৌঁছতে হয়। এর মধ্যে বুছিডং, রাছিডং থানা অন্যতম। এই থানার বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিতে গ্রাম ছেড়ে পাহাড়ে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে রাছিডংয়ের নিলম্বা পাড়ার শব্বির আহমদ। সে জানান, দুই দিন ধরে হেঁটে তারা ১০ পরিবার পাহাড় অতিক্রম করেছে। এতোদিন মৃত্যুকে মেনে নিয়ে গ্রামে অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু সেনাবাহিনী কাউকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। ফলে কাজ কর্ম করতের বের হওয়া যায়না। এছাড়া কোথাও কাজ কর্মও করা যায় না। ফলে কতদিন না খেয়ে থাকা যায়। পরিবারের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের আর কতই বা মিথ্যা শান্তনা দেব। অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে না পেয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। এখন রাখাইনে মারাত্মক খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। মানুষ না খেয়ে হাড্ডিসার হয়ে যাচ্ছে। সেনাদের সামনে থেকে বের হওয়াও যাচ্ছেনা। এক প্রকার বন্দী অবস্থায় ঘরের ভিতর দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। তাই সহ্য করতে না পেরে রাতের বেলায় সেনাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রওয়ানা করেছি। এক সাথে ১০ পরিবার শাহপরীরদ্বীপ সীমান্ত দিয়ে ১০ লাখ কিয়াতের বিনিময়ে এপারে এসেছি।

খাদ্য সংকট :

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মাঝে মারাত্মক খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। যারা রয়ে গেছেন তারা অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সেনাবাহিনীর কড়াকড়ির ফলে তারা না পারছে বাংলাদেশে আসতে আর না পারছে কাজ কর্ম করতে। সেনাদের সামনে থেকে বের হওয়াও যাচ্ছেনা। এক প্রকার গৃহবন্দী অবস্থায় ঘরের ভিতর অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাখাইনের পূর্ব দক্ষিনাঞ্চলের বুছিডং ও রাছিডংসহ কয়েকটি থানায় এ অবস্থা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে যারা এদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের আত্মীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাছিডংয়ের আন্ডাঙ নামক গ্রামের রহিমা খাতুনের পরিবার গত ২ সেপ্টেম্বর এদেশে আসলেও তার অনেক আত্মীয় স্বজন এখনো আসেনি। তার আত্মীয়দের সাথে ইমুতে কথা বলে জানতে পারে তারা অধ্যাহারে অনাহারে রয়েছে। সেনাবাহিনী তাদের আসতে দিচ্ছেনা। ঘর থেকে বের হতেও পারছেনা। ঘরে নুনপানিও নেই। ফরে মারাত্মক খাদ্য অভাবে রয়েছে তারা।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

পোকখালীতে চিংড়ি ঘেরে ডাকাতির চেষ্টা, মালিককে কুপিয়ে জখম

মহেশখালীতে ৩দিন ব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু

ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় কক্সবাজার প্রেসক্লাব

আওয়ামীলীগ ভাওতাবাজিতে চ্যাম্পিয়ন : ড. কামাল

সত্য বলায় এসকে সিনহাকে জোর করে বিদেশ পাঠানো হয়েছে: মির্জা ফখরুল

সাতকানিয়ায় মাদকসহ আটক ২

কক্সবাজারে হোটেল থেকে বন্দী ঢাকার তরুণী উদ্ধার

৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত ইসলামী আন্দোলনের

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খেলনা বেলুনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত ৯

চকরিয়া আসছেন পুলিশের আইজি, উদ্বোধন করবেন থানার নতুন ভবন

না ফেরার দেশে গর্জনিয়ার জমিদার পরিবারের দুই মহিয়সী নারী

চকরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

চকরিয়ায় ৪০শতক জমিতে দরিদ্র কৃষকের ক্ষেতে দুবৃর্ত্তের তান্ডব

পিসফুল ইউনাইটেড ক্লাবের অগ্নিদগ্ধে মৃত রায়হানের স্বরণ সভা ও দোয়া মাহফিল 

১০ নম্বরি হলেও নির্বাচন বয়কট করবো না : ড. কামাল

প্রকৃত নেতা মাত্রই পল্টিবাজ : ইমরান খান

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে অধিনায়ক সাকিব, ফিরেছেন সৌম্য

বিজয় ফুল তৈরী প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম উখিয়ার নওশিন

চকরিয়ার রুবেল বাঁচতে চায়

দূর্নীতির দায়ে চট্টগ্রামের কারা ডিআইজি প্রিজন ও জেল সুপারের বদলী