উখিয়ায় সহিংসতার সেই বিভীষিকাময় রাত ৩০ সেপ্টেম্বর

কনক বড়ুয়া :
সেদিন ছিল ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। রাত তখন প্রায় ৮টা। হঠাৎ দেখি , ইসলামিক স্লোগান নিয়ে একটি মিছিল দীপাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারের সামনের রাস্তা দিয়ে বিহারের দিকেই অাসছে। তখন শুরু করে দিল বিহারের ভেতরে পাথর, ইটপাটকেল ছুড়ে মারা। সেই মূহুর্তে কান দিয়ে শব্দ শোনা ছাড়া অার কোন পরিস্থিতি ছিল না অামাদের। সময় যতই গড়াচ্ছে পরিস্থিতি ততই খারাপের দিকে যাচ্ছে। অনেকক্ষণ পর তারা চলে গেল। এরই মধ্যে পুড়ে যায় পূর্ণিমার অালোয় ঝলসানো ধর্মান্ধ মানুষের বিবেকের দহনে উখিয়ার হাজার বছরের সম্প্রীতি ও পুরাকীর্তি, বৌদ্ধ বিহার সহ শতাধিক বসত বাড়ি। সেই সাথে পুড়ে ছাই হয় উখিয়ার মানুষের হাজার বছরের সম্প্রীতির বন্ধন।

বলা যায়, হ্যা- আমরা ফিরে পেয়েছি ইট-কংক্রিট, রট আর মানসম্মত সরঞ্জমাদি দিয়ে তৈরি করা বড় বড় উচু বৌদ্ধ বিহার। যা বর্তমানে রামু-উখিয়াতে অপরুপ সৌন্দর্যে ঘেরা এক ধরনের পর্যটন নগরীতে পরিনত হয়েছে। কিন্তু তা দিয়ে কি তৃপ্তি মেটাবে আমাদের সেই সহিংসতার আগুনে পুড়ে যাওয়া ঐতিহ্যের? প্রতিনিয়ত এই প্রশ্নের উত্তর খুজে নিরবে মায়াকান্না করেই যাচ্ছে রামু-উখিয়ার বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা।

এরই ধারাবাহিকতায় বলার অাছে যে, সংখ্যালঘুরা পরাধীন বাংলাদেশে কোনো না কোনোভাবে তারা টিকে থাকলেও স্বাধীন বাংলায় পারছেন না কেন? এখনও পাকিস্তানি কায়দায় তাদের ঘরবাড়ি পোড়ে কেন? পূজার থালায় রক্তের আলপনা ঝরে, উপাসনালয় পোড়ে, কেন? তাদের ভূমি ও নারী লুটপাট হয়। এরপরও আমরা বিবেকের সঙ্গে আপোস করে বলি: ‘‘আমরা খুব ভালো আছি।’’ এমন কথা বলছি আন্তর্জাতিক সভা, সেমিনার কিংবা কোন বড় সম্মেলনেও। কারন আমরা গৌতম বুদ্ধের দেয়া শান্তির পতাকা নিয়ে বসবাস করি।

ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক অনেক মানুষের মতে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আছে বলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, সহিংসতা, লুটপাট ও ভূমিদস্যুতা তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে। এ কথা অস্বীকার করার জো নেই। তবে এই নিয়ে যুক্তি দাঁড় করিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগারও অবকাশ নেই। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা ন্যায্য অধিকার নিয়ে সবার সঙ্গে মিলেমিশে বাঁচতে চাই। সাম্প্রদায়িক শক্তি কখনও কোনো কালে কোনো জাতি বা রাষ্ট্রের ভালো করেনি। তবে অবনত মস্তকে সকৃতজ্ঞ চিত্তে এও স্বীকার করছি যে, হামলাকারীরা বাদে দেশের সর্বস্তরের মানুষ জাতি, ধর্ম, দলমতনির্বিশেষে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। শোকার্তদের শান্ত্বনা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা কি আদৌ সেই শান্ত্বনা নির্দিদায় গ্রহন তথা মেনে নিতে পেরেছি?

cbn
কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে সমাজে ফেরার সুযোগও দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

টেকনাফে গ্রেপ্তার মাদকের আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

এনজিওতে স্থানীয়দের ছাঁটাই উদ্বেগের

রাখাইনে আরসা’র হামলায় ৬ বিজিপি সদস্য আহত: মিয়ানমার

সিঙ্গাপুরে গেলেন এরশাদ

উখিয়ায় দু’টি প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব

লামায় আওয়ামী লীগের আরও ৩ নেতাকর্মীর দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

ভূমধ্যসাগরে পৃথক জাহাজডুবিতে নিহত ১৭০ অভিবাসী

স্থানীয় ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে

এবার ছেলে সন্তানের মা হলেন টিউলিপ সিদ্দিক

অধ্যাপিকা এথিন রাখাইনকে সাংসদ হিসেবে দেখতে চায় কক্সবাজারবাসী

ভালো মানুষ হয়ে শিক্ষার্থীদের দেশ গঠনের কাজে অংশ নিতে হবে-অধ্যক্ষ ফজলুল করিম

চকরিয়া সরকারি কলেজে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কল্পে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরির দ্রুত সংস্কারের দাবীতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

নাইক্ষ্যংছড়িতে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কলেজের দুই নতুন ভবনের কাজ শুরু

এমপি জাফরের নেতৃত্বে চকরিয়া-পেকুয়ার বিপুল নেতাকর্মীর বিজয় সমাবেশে যোগদান

উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই’র বর্ণিল অভিষেক

ভারতের রাজস্থানে সোয়াইন ফ্লু’তে, ৪০ জনের মৃত্যু

জীবন দিয়ে হলেও ভোটের মর্যাদা রক্ষা করব : প্রধানমন্ত্রী