কাঁদো মুসলিম, কাঁদো

 

মাহ্ফুজুল হক:
আজ রোহিঙ্গারা কাঁদছে অহর্নিশ, অঝোর নয়নে। ছেলে হারা মা কাঁদছে, পুত্র হারা বাবা কাঁদছে, স্বামী হারা স্ত্রী কাঁদছে, মা হারা মেয়ে কাঁদছে, পিতা হারা পুত্র কাঁদছে, সন্তান হারা মাতা-পিতা কাঁদছে, ভাই হারা ভাই-বোন কাঁদছে, স্ত্রী হারা স্বামী কাঁদছে, দাদা-দাদি হারা নাতি-নাতনি কাঁদছে, নানা-নানি হারা নাতি-নাতনি কাঁদছে, খেলার সঙ্গী হারা সাথী কাঁদছে, স্কুলের সহপাঠি হারা ছাত্র-ছাত্রী কাঁদছে, শিক্ষক হারা ছাত্র-ছাত্রী কাঁদছে, মসজিদের ইমাম হারা মুসল্লি কাঁদছে, পাড়ার মুরুব্বি হারা পড়শি কাঁদছে। এ কান্নার যেন শেষ নেই। কেউ ডুকরে কাঁদছে তো কেউ চিৎকার করে কাঁদছে। কেউ বিলাপ করে কাঁদছে তো কেউ ফুঁফিয়ে কাঁদছে। কেউ শোকগাথা গেয়ে কাঁদছে তো কেউ নীরবে চোখের পানি ফেলছে। আহত, গুলিবিদ্ধ, বর্মীদের পুঁতে রাখা স্থল মাইনে পা বা অন্য অঙ্গ উড়ে যাওয়া, অসুস্থ, জরাগ্রস্থ, ধর্ষিতা রোহিঙ্গা যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে কাঁদছে। ঝোপ-ঝাড়, পাহাড়-পর্বতের দুর্গম প্রান্তরে ইতস্ততঃ প্রাণ হাতে পলায়নপর, নাফ নদী তথা বিপদ সংকুল সাগরে ছোট্ট নৌকায় দুরু দুরু বুকে ভেসে থাকা প্রতি পদে পদে আল্লাহ্ বিল্লাহ্ জপে জপে কাঁদছে ওই বনি আদম। অতি সম্প্রতি বার্মার আরাকান থেকে পালিয়ে আসা ৫ লক্ষাধিক, গত বছর পালিয়ে আসা ৮০ সহ¯্রাধিক রোহিঙ্গা মুসলমান কেঁদেই চলেছে। তারা কাঁদছে ফেলে আসা বাড়ি-ঘরের জন্য, ক্ষেত-খামারের জন্য, গবাদি পশুর জন্য, তিলে তিলে গড়া বহু বছরের সাধনার ফল সম্পদ-জায়গা-জমি-টাকা-কড়ি-স্বর্ণালঙ্কারের জন্য, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রিয় পোষা পাখিটির জন্য, নিজ হাতে গড়া ফুলের বাগানের জন্য, বহু কষ্টে গড়ে তোলা প্রিয় গ্রন্থাগারটির জন্য। প্রজ্জ্বলমান মহাপ্রভুর বাণী সম্বলিত অতি প্রিয় পবিত্র কোরআন মজিদ যেটি তারা প্রত্যহ তেলাওয়াত করতো তার জন্য, প্রিয় মহানবীজী মুহাম্মদ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লামের বাণী হাদিস গ্রন্থ যা ছিলো তাদের নিত্য-সঙ্গী তার জন্য তারা ধিকি ধিকি কাঁদছে। প্রিয় বস্তু হারানোর বেদনা যে কতো গভীর যাতনাময় তা কেবল ভূক্তভোগীই জানে। এর বিরহ শুধু একবার কাঁদায় না, ক্ষণে ক্ষণে কাঁদায়, হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ করে চলে অবিরাম। রোহিঙ্গা মুসলমানেরা আজ সব হারিয়েছে, সব। তারা আজ সর্বহারা। এখন আর তাদের হারানোর কিছু নেই। প্রতিটি রোহিঙ্গা আজ শুধু ধড়টি বয়ে চলেছে। তারা আজ নিঃস্ব, নিঃসাড়, বাকরুদ্ধ।

এই কিছুদিন আগেও তাদের সব ছিলো, সব। সাজানো-গুছানো সংসার, আনন্দ-বেদনা-মিলন-বিরহ-সংকট সবই। তাদের দেশ ছিলো, গ্রাম ছিলো, আত্নীয়-পরিজন ছিলো, বন্ধু-বান্ধব, খেলাধুলা, গোয়াল ভরা গরু-মহিষ, ক্ষেত ও গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ সব কিছু ছিলো। এখন কিছুই নেই। এরা রাতারাতি ফকিরে পরিণত হয়েছে। (সকালবেলা আমীর রে তুই, ফকির সন্ধ্যাবেলা।) হঠাৎ বর্গী এসে যেমনটি সব কিছু জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে, লুট-পাট, খুন-জখম করে নিমিষে শেষ করে দিতো এই বাংলায়, তদ্রুপ বর্মী মগ নামক বর্গী উন্মক্ত তরবারি-পেট্রোল-বারুদ নিয়ে এসে অগাস্ট মাসের ২৫ তারিখ থেকে অদ্যাবধি পুরো ১৮ হাজার বর্গমাইলের রোহিঙ্গা জনপদ জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ভস্ম করে দিচ্ছে, নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধ-যুবা নির্বিশেষে কেটে কুটে পুরো বসতিকে শ্মশানে পরিণত করছে, পুরো একটি জাতি-গোষ্ঠীকে এমনভাবে নির্মূল করছে যা জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জেইদ রা’দ আল হুসেইন এর ভাষায়, ‘পাঠ্য বইয়ের জন্য জাতিগত নিধনের উদাহরণ’। অর্থাৎ পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা যখন তাদের পাঠ্য বইয়ে পড়বে ‘জাতিগত নিধন কী’ তখন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিধনের এই ঘটনাটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হবে। পুরো একটি জাতিকে নিধনের দৃষ্টান্ত রোহিঙ্গা নিধনের এই ঘটনা ব্যতীত দুনিয়াতে দ্বিতীয়টি নাই। এক্ষেত্রে বর্গী আর বর্মী মগদের মধ্যে পার্থক্য হলো, বর্গী নামক ডাকাতরা লুট-পাট করে চলে যেতো, স্থায়ীভাবে থেকে যেতো না। কিন্তু হায়েনা সদৃশ বর্বর মগেরা মুসলিম রোহিঙ্গাদের মেরে-কেটে-তাড়িয়ে দিয়ে তাদের ভিটে মাটি জবর দখল করছে এবং যারা পালিয়ে বেঁচে আছে তারা যাতে আর কখনো স্বভূমে ফিরে আসতে না পারে তার সব আয়োজন সম্পন্ন করছে। পাঠক নিশ্চয় খেয়াল করেছেন, আমি এখানে কবরস্তান শব্দ ব্যবহার না করে শ্মশান শব্দটি ব্যবহার করেছি। কবরস্তানে মরদেহ কবরস্থ করা হয় আর শ্মশানে লাশ পুড়িয়ে ছাই ভস্ম পুঁতে রাখা হয়। ধূর্ত শয়তানের চেলা চামুন্ডা মগেরা আরাকান জুড়ে যে নির্বিচার গণহত্যা চালাচ্ছে তার প্রমাণ নষ্ট করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের হত্যা করে জ্বালিয়ে ফেলছে। গণহত্যা  (Genocide) শব্দটি শুধু আমি ব্যবহার করছি তা নয়, ইতোমধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করে এটিকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছে। বাংলাদেশ তো বটেই তুরস্ক, সৌদি আরব, ইরান, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, নাইজেরিয়া প্রভৃতি দেশও মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গা হননের এহেন তৎপরতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৭ সজস্রাধিক মানুষ বর্মী মগদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হবার তথ্য পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গণআদালত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখ রায় দিয়েছে, The state of Myanmar is guilty of the crime of genocide against the Rohingya group… the causalties of that genocide could be even higher in the future if nothing is done to stop it. সৌদি আরব বার্মার এই বর্বরতাকে বর্ণবাদী অপতৎপরতা বলেছে। সৌদি আরবের এই কথার সমর্থন পাওয়া যায় বিবিসির সাংবাদিক জনাথন হেড এর কথায়, ‘তাদের আরো কথা হয় কর্নেল ফোনে টিন্টের সাথে। তিনি হচ্ছেন স্থানীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী। সেনাবাহিনীর নৃশংসতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা উড়িয়ে দিলেন। বললেন, ‘এর প্রমাণ কোথায় ? যেসব মহিলারা এ দাবি করছে, আপনি তাদের দিকে তাকিয়ে দেখুন। এদেরকে কি কেউ ধর্ষণ করতে চাইবে ?’ তার মানে বর্মীরা বোঝাতে চায় তারা উচ্চ বর্ণের আর রোহিঙ্গা মুসলমানেরা নি¤œ বর্ণের। রোহিঙ্গারা বিশ্রী, কদর্য আর মগেরা সুশ্রী, দৃষ্টি নন্দন, উঁচু শ্রেণির ! তাই মগেরা তাদের ধর্ষণ করতে চায় না। আসলেই কি মগেরা সুশ্রী, দৃষ্টি নন্দন ও উঁচু শ্রেণির ? আশা করি কক্সবাজারের মানুষকে মগদের স্বরূপ সম্বন্ধে বুঝিয়ে বলতে হবে না। এখানকার সবাই জানেন, মগেরা প্রাকৃতিক কর্ম/শৌচ কর্ম সম্পন্ন করে পানি দিয়ে ধৌত করে না। গাছের পাতা দিয়ে পাছা মুছে শৌচাগার থেকে বেরিয়ে আসে। তারপর চন্দন, পাউডার ইত্যাদি মুখে মেখে রঙ বেরঙের আটো সাঁটো কাপড় পড়ে সুশ্রী, দৃষ্টি নন্দন সাজে। (আ’গি পুন ন ধৌইন্না মগ)। ওদের পাশ দিয়ে গেলেই উৎকট দুর্গন্ধ টের পাওয়া যায়। তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত ‘নাপ্পি’ এদের প্রিয় খাবার। অত্যন্ত ঝাঁঝালো তামাক পাতার চুরুট এরা ধুমরূপে পান করে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে প্রায় সব মগ মাদকাসক্ত। নেশায় বুঁদ হয়ে কর্মদিবসের উল্লেখযোগ্য সময় চেরাংঘরে পড়ে থাকে। আর তারাই কিনা নিজেদের উচ্চ বর্ণের মানুষ ভাবে ! বর্ণবাদের জিগির তোলে ! গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল আর কি। অত্যন্ত বদমেজাজী ও খুনী স্বভাবের বলেই মগদের বলা হয়, ‘এক কুইপ্পা মগ’।

একটি নিরস্ত্র ও বেসামরিক জাতি গোষ্ঠীকে তাদেরই সরকার ও সরকারের বিভিন্ন বাহিনী কর্তৃক নিধন ও নির্মূলকরণের দৃষ্টান্ত যেমন রোহিঙ্গা ছাড়া দ্বিতীয়টি নাই, আবার সেই নির্মূলকরণের ধরণও বহু বিচিত্র ও লোমহর্ষক। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়- যুবতি নারীকে গণধর্ষণ করার পর জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা হয়। ধর্ষণের পর ধর্ষিতার একে একে স্তন, যৌনাঙ্গ, হাত, পা কেটে হত্যা করা হয়। গর্ভবতী নারীকে গণধর্ষণের পর পেট চিরে গর্ভের সন্তানকে বের করে এনে মা বাবা ও আত্নীয় পরিজনের সম্মুখে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। মা-বাবা ও আত্নীয়-স্বজন সবাইকে এক কক্ষে বেঁধে রেখে তাদের সম্মুখে কিশোরী কন্যাকে গণধর্ষণ করা হয় এবং সকলকে সে দৃশ্য দেখতে বাধ্য করা হয়। অতঃপর সকলকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলা হয়। অতর্কিতে বাড়ি-ঘরে হানা দিয়ে ঘরের বাসিন্দাদের দা কিরিচ দিয়ে কোপানো এবং আধমরা হলে পর একেক জনকে ধরে এনে সবার সামনে কসাই যেভাবে গরু ছাগলের মাংস কাটে তদ্রুপ ওই জীবন্ত মানুষটিকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে বড় পাত্রে জমা করে। নির্যাতীতের আর্তনাদ ও গোঙানির শব্দ শুনে হায়েনারা অট্টহাস্যে ফেটে পড়ে। তারপর আগুনে সিদ্ধ করে উপস্থিত অপর রোহিঙ্গাদের সেই মাংস খেতে বাধ্য করে। ধৃত রোহিঙ্গা যুবককে উল্টো করে বেঁধে গরু ছাগলের গোশ্ত কাটার মতো করে থেমে থেমে কাটে। ধরে এনে বেঁধে গায়ের চামড়া উপড়িয়ে ফেলে। মানুষের গোশ্ত টুকরো টুকরো করে কেটে মগদের পোষা বানর, কুকুরকে খেতে দেয়। সিংহ যেমন হরিণ শাবককে বাগে এনে ‘ছেড়ে দেয়া-ধরে ফেলা আবার ছেড়ে দেয়া ও ধরা’ ধরণের ইঁদুর-বিড়াল খেলে কিছুক্ষণ করার পর ঘাড় মটকে খেয়ে ফেলে কিছুটা সেই কায়দায় নিরপরাধ রোহিঙ্গাদের ধরে এনে হাতে এক একটি শক্ত কাঠের লাঠি ধরিয়ে দিয়ে বলা হয়, লাঠি বাঁকা র্ক। বাঁকা করতে না পারলে বদমাশ মগ হাতে থাকা দা দিয়ে ওই মুসলমানকে একটা কোপ দিয়ে রক্তাক্ত করে। তারপর আবারও লাঠি বাঁকা করতে বলে। রোহিঙ্গা মুসলমান লাঠি বাঁকা করতে না পারায় তাকে আবারও দা দিয়ে কোপায় ওই পিশাচ মগ। এইভাবে নিরীহ মুসলমানটির প্রাণবায়ু উড়ে যাওয়া পর্যন্ত ওই দানব মগ তাকে নিয়ে খেলা করতে থাকে। আবার, একটি ছোট খাটো স্রোতস্বীনির পাড়ে নিয়ে গিয়ে ধৃত রোহিঙ্গা যুবককে বলা হয় লাফ দিয়ে সেটি পার হয়ে সেখান থেকে চলে যেতে। শর্ত দেয়া হয়, এক লাফে পার হতে হবে, পানিতে পড়া যাবে না। বেচারা যুবকটি পানিতে পড়ে গেলেই শুরু তার উপর অমানুষিক নির্যাতন। কিছুক্ষণ পর আবারও একই শর্তে লাফ দিতে বলা হয়। অতঃপর আবারও নির্যাতন। রোহিঙ্গা মুসলমানটির সাথে আমৃত্যু এই মরণ খেলা চালিয়ে যায় ওই অহিংসার ধ্বজাধারী গেরুয়া পোষাক পড়া বৌদ্ধ খুনী। ওই নৃশংস মাথা মুন্ডানো কদাকার বৌদ্ধ মগেরা রোহিঙ্গাদের খুন করতে সচরাচর গুলি ছোড়ে না। দা কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারে। উদ্দেশ্য, মুসলমানরা যাতে বেশি কষ্ট পেয়ে মরে। তবে ঊর্ধ্বশ্বাসে পলায়নরত রোহিঙ্গাদের থামাতে দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে গুলি ছোড়ে। তারপর ধরে এনে জবাই করে দেয়। অনেকগুলো মুসলমানের মরদেহ জড়ো করে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পোড়ায়। রাতের আঁধারে আচমকা এসে মুসলমান পাড়ার ঘরগুলো ঘিরে ফেলে এবং দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। তারপর ঘরগুলোর চারিদিকে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘুমন্ত মানুষগুলো আপন ঘরেই লেলিহান আগুনের শিখায় পুড়ে ভস্ম হয়ে যায়। এইভাবে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে ভস্মিভূত করে ফেলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট্স ওয়াচ ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ জানিয়েছে, ‘এ পর্যন্ত মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে ২১৪টি গ্রাম ধ্বংস করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করছে। স্যাটেলাইটের ছবি পর্যালোচনা করে তারা বলেন, রাখাইনের মংডু এবং রাথিডং এলাকায় হাজার হাজার বাড়ি ঘর ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। রোহিঙ্গারা যাতে বাড়ি ঘরে ফিরতে না পারে সেজন্য বার্মার নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা ছবিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ দেখা যাচ্ছে।’ এরই মধ্যে আরাকানে শত শত মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার ওস্তাদদের পৈশাচিক কায়দায় খুন করে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এখন পুরো উত্তর আরাকান জুড়ে আযানের আল্লাহু আকবর ধ্বনি স্তব্ধ হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ্র সৃষ্ট জমিনে তাঁর নাম উচ্চারণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অং সান সূ চী বলেছেন, তিনি রাখাইনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন। হ্যাঁ, এখন সেখানে কবরের শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চীন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভারত, ইহুদি ধর্মাবলম্বী ইসরাইল এবং খৃস্ট ধর্মাবলম্বী রাশিয়া সবাই একবাক্যে বলেছে, তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বার্মা তথা মগদেরকে সমর্থন দিয়ে যাবে। তার মানে তারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করে যাবে এবং নির্যাতীত ও নির্মম নিপীড়নে জর্জরিত, সবকিছু হারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিপরীতে মানবতার দুশমন, নৃশংস খুনী, দস্যু, গণহত্যাকারী, গণনিপীড়নকারী মগদের সমর্থন করে যাবে। কোন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেশ এতো বিশাল আকারের মানবিক বিপর্যয়ের পরও বার্মার নিন্দা করে একটি বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি। এই যে পুঁচকে শ্রীলঙ্কা যারা রামুর ঘটনায় বাংলাদেশের কলম্বো দূতাবাসে ইট-পাটকেল ছুড়েছিলো, বাংলাদেশের একেবারে কাছের দেশ ভূটান এরাও বার্মাকে মুসলিম হত্যায় মৌন সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বড়–য়া সমাজ রোহিঙ্গা গণহত্যা ইস্যুতে প্রতিবাদ মুখর হয়েছেন। তারা প্রকৃত বাংলাদেশী বলেই বিবেক তাড়িত হয়েছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু বার্মা থেকে উড়ে এসে এদেশে জুড়ে বসা মগ, রাখাইন, চাকমা, মারমা, বোম, চাক প্রভৃতির দৃশ্যমান প্রতিবাদ চোখে পড়েনি।

মুসলিম দেশগুলো প্রতিবাদমুখর হয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রীও পাঠাচ্ছে। এ ব্যাপারে তুরস্কের ভূমিকা সবচেয়ে সোচ্চার। ইরান, সৌদি আরব এরাও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। আসিয়ানভূক্ত দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই এদের বেশি সোচ্চার হওয়া উচিত ছিলো। পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ভূমিকা এক্ষেত্রে একেবারেই নগণ্য। সব মিলিয়ে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে, ‘রোহিঙ্গা’ নামক মুসলমানদের এই মহাবিপদে তাদের বিপক্ষে আর নির্যাতনকারী ও গণহত্যাকারী মগদের পক্ষে অহিংসার ধ্বজাধারী সহিংস বৌদ্ধ চীন, ব্রাহ্মণ্যবাদী ও ত্রিশূলধারী ভারত, জায়নবাদী ইসরাইল আর ত্রিত্ববাদী খ্রিস্টান রাশিয়া সবাই একাট্টা। সুবিধাবাদী কিছু মুসলিম নামধারীও নিরবতা পালনকে যৌক্তিক মনে করছে। আমাদের প্রিয় নবীজী মুহাম্মদ (স) মুসলমানদের এই অবস্থার কথা বর্ণনা করে বলেছেন, মুসলমানদের মোকাবিলায় সকল কুফরী শক্তি এক জোট। (আল কুফরু মিল্লাতুন ওয়াহিদা)। বার্মা, সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, লিবিয়া, শিনজিয়াং, ফিলিপাইন, সোমালিয়া, ককেশাস অঞ্চল, সমগ্র ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা, কাশ্মীরসহ সমগ্র ভারত, ফিলিস্তিন প্রভৃতি অঞ্চলে মুসলিমরা এখন চরম সংকটাপূর্ণ অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। অশ্রু বিসর্জনই এখন নির্যাতীত মুসলমানদের একমাত্র অস্ত্র। সেদিন জুমার নামায পূর্ব নছিহতে লালদীঘি মসজিদের খতিব আতাউল্লাহ্ গণি মহোদয় রোহিঙ্গা বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগ তাড়িত হয়ে কেঁদে ফেলেন। তাঁর দেখাদেখি মুসল্লিগনও আবেগ তাড়িত হয়ে যান। আমার কিশোর ছেলেটি (শু’আইব) জিজ্ঞেস করে, ‘হুজুরকে তো কখনো কাঁদতে দেখিনি ? আজ কেন কাঁদছেন ?’ সমগ্র মুসলিমের হৃদয়ে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, এ কান্না তারই বহিঃপ্রকাশ। কাঁদো মুসলিম, কাঁদো। দেখো চোখের পানি ফেলে দিকে দিকে প্রজ্জ্বলিত আগুনের লেলিহান শিখা কিছুটা প্রশমিত হয় কিনা ।

মাহ্ফুজুল হক: সেল : ০১৮৬৯ ৮৬৬৯০০ কক্সবাজার তারিখ : ২৬.০৯.২০১৭ মঙ্গলবার

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে সরকার: ফখরুল

খালেদার দু’টি আসন পাচ্ছেন দুই পুত্রবধূ!

সেন্টমার্টিনে ২ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

ডেসটিনির চেয়ারম্যানের ৩ বছর কারাদণ্ড

যশোরে বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগজিনসহ যুবক আটক

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে আলোচনা সভা

উখিয়ার কলেজছাত্রী হত্যাকারী সন্ত্রাসী কবিরের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

চকরিয়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা

আলমগীর ফরিদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ

যুক্তরাষ্ট্রও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিরোধী

গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

এড. সালাহ উদ্দীন কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপি’র ফরম সংগ্রহ করলেন

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার কথা শুনে ক্যাম্প ছেড়ে পালানোর চেষ্টা রোহিঙ্গাদের

কারাবন্দির পাকস্থলিতে মিললো ৪০০ ইয়াবা

লামায় বিষপানে যুবকের মৃত্যু

আলীকদমে পাহাড় কেটে ইটভাটা

লুৎফুর রহমান কাজল মনোনয়ন ফরম জমা করেছেন

একটি পোপা মাছের দাম কেন ৮ লাখ টাকা?

ডায়াবেটিস কী? কেন হয়?