রোহিঙ্গারা এদেশের বোঝা নয়,সম্পদ হতে পারে : ঢাবিতে ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

dr.-zafrullah.jpg

জালাল আহমদ,ঢাবি থেকে:

বাংলাদেশের প্রবীণ বুদ্ধিজীবী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডা:জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন,অনেকে রোহিঙ্গাদেরকে সন্ত্রাস, জঙ্গি, বননিধনকারী ও এদেশের বোঝা হিসেবে আখ্যায়িত করছে।কিন্তু রোহিঙ্গারা এদেশের বোঝা নয়,সম্পদ। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে বননিধনকারী নয়,বরং বৃক্ষ রোপনকারী হতে পারে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে রান্নাবান্না করার জন্য একটি গাছ কাটলে তারা যেন দুটি করে গাছ লাগিয়ে যায়।রোহিঙ্গারা এদেশ হতে চলে গেলে গাছ গুলো সম্পদে পরিণত হতে পারে। রোহিঙ্গাদের কে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের কে বিশ্বের দরবারে উদার ও সহনশীল জাতি হিসেবে প্রমাণ করেছে।তবে এখানে থেকে যাওয়া কোন সমাধান নয়।স্বাধীন আরাকান রাজ্য প্রতিষ্ঠাই হতে পারে তাদের জন্য স্থায়ী সমাধান।

তিনি আরো বলেন,আমি আমার জীবনে চারবার রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে আসতে দেখেছি। প্রথমবার ১৯৬৩ সালে,২য় বার ১৯৭৭ সালে,৩য় বার ১৯৯১ সালে এবং চতুর্থ বার ২০১৭ সালে।রোহিঙ্গাদের জন্য নিবেদিত প্রাণ সংগঠন গণস্বাস্থ্যের এ প্রতিষ্ঠাতা বলেন,আজ যখন প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়িয়েছে তখন কিছু বুদ্ধিজীবী ও একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রী হত্যার শিকার হতে পারেন বলে গুজব ছড়াচ্ছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের বিরুদ্ধে গিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়ায় ভারতের দাদারা অসন্তুষ্ট।তাই তারা তাকে হাতের নাগালে রাখতে হত্যার ষড়যন্ত্র আবিস্কার করেছে । তিনি আরো বলেন,১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাকিস্তানে ওআইসি সম্মেলনে যোগদান করায় ভারত অসন্তুষ্ট হয়ে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিল। তিনি বঙ্গবন্ধু কে শ্রদ্ধা রেখে বলেন,বঙ্গবন্ধু অসম্প্রদায়িক ছিলেন,মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন।আমরাও অসম্পদ্রায়িক হতে চাই, তবে ভারতের আধিপত্যবাদী হতে চাই না।তিনি বলেন,রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনী দিয়ে সরকার ভালো কাজ করেছে।এতে ত্রাণ কাজে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। ১৯৭১ সালে ভারতে বাংলাদেশী জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করা এ ডাক্তার আরো বলেন,ভারতের শরণার্থী ক্যাম্পে অব্যবস্থাপনার কারণে ৭ লাখ বাঙ্গালী মারা যায়।এ রকম চরম অব্যবস্থাপনা যেন রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে না ঘটে।ভারতের দেয়া ১৯২ টাকা ট্রানজিট ফি এর সমালোচনা তিনি বলেন, যমুনা সেতু পার হতে ৭০০ টাকা টোল দিতে হয় আর ভারত হতে বাংলাদেশের উপর দিয়ে জাহাজ দিয়ে মালামাল নেয়ার ফি মাত্র ১৯২ টাকা।
ঢাবির আরসি মজুমদার হলে আয়োজিত “রোহিঙ্গা সংকট: বাংলাদেশের করণীয়” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন লেখক গবেষক মহি উদ্দিন আহমদ, সাংবাদিক আলতাফ পারভেজ,সম্পাদক রেজাউল করিম রনি প্রমুখ ।

Top